বিজ্ঞাপন

২৪ বছর পর বিশ্বকাপে ফিরে আক্রমণের ঢেউ তুলেও তুরস্কের হার

ঢিমেতালে শুরুর পর দ্রুতই গুছিয়ে ওঠে তুরস্ক। একের পর এক আক্রমণে ব্যতিব্যস্ত করে রাখে অস্ট্রেলিয়াকে। তবে প্রথমার্ধের হাইড্রেশন ব্রেকের পর ধারার বিপরীতে এগিয়ে যায় সকারুরা। পিছিয়ে পড়ে আক্রমণের ধার বাড়ায় ভিনসেঞ্জো মন্টেলার দল। কিন্তু অস্ট্রেলিয়ার গোলকিপার প্যাট্রিক বিচের প্রতিরোধের সামনে মুখ থুবড়ে পড়ে তুরস্কের সমস্ত আক্রমণ। শেষ পর্যন্ত পূর্ণ তিন পয়েন্ট নিয়ে মাঠ ছাড়ে অস্ট্রেলিয়া।

বিজ্ঞাপন

রোববার বাংলাদেশ সময় সকালে ২০২৬ বিশ্বকাপের ‘ডি’ গ্রুপের ম্যাচে তুরস্ককে ২-০ গোলে হারায় অস্ট্রেলিয়া। দারুণ এই জয়ে যুক্তরাষ্ট্রের সমান তিন পয়েন্ট নিয়ে টেবিলের দুইয়ে থাকলো সকারুরা। ২৪ বছর পর বিশ্বকাপে ফেরাটা রাঙাতে পারেনি তুরস্ক। টেবিলের তিনে আছে দলটি। চারে প্যারাগুয়ে।

খেলাটি গড়ায় যুক্তরাষ্ট্রের বিসি প্লেস ভানকুভার স্টেডিয়ামে। ২৭ মিনিটে বা প্রান্ত ধরে আক্রমণে ওঠেন ইলমাজ। বক্সের কাছে গিয়ে ক্রস বাড়ালে গোলে শট নেন আর্দা গুলার। গোলকিপার বরাবর এই ফরোয়ার্ডের শট প্রতিহত হলে প্রতি-আক্রমণে ওঠে অস্ট্রেলিয়া। লং বল ধরে ক্ষীপ্র গতিতে প্রতিপক্ষের বিপদসীমায় ঢুকে পড়েন নেস্টোরি ইরানকুন্ডা। ওয়াটফোর্ডের ফরোয়ার্ড এরপর দুজন ডিফেন্ডারকে কাটিয়ে প্লেসিং শটে জাল কাঁপান। 

পিছিয়ে পরে ম্যাচে ফিরতে মরিয়া হয়ে ওঠে তুরস্ক। ভাগ্যের সহায়তা পেলে ম্যাচের ৩০ মিনিটে সমতায় ফিরতে পারত তারা। তবে দুর্ভাগ্য, ডিফেন্ডার আব্দুলকেরিম বারদাকচির গতিময় দুরপাল্লার শট ফিরে আসে উপরের বারে লিগে। ৬ মিনিট পর ওরকুন ককুর চিপ শট একটুর জন্য তুরস্কের আনন্দের উপলক্ষ্য হতে পারেনি।

তুরস্কের মুহুর্মুহু আক্রমণের মধ্যে ৩৯ মিনিটে অস্ট্রেলিয়ার ডিফেন্ডার জর্ডান বসের শট চলে যায় পোস্টের উপরে দিয়ে। ৬ মিনিটে পর ব্যবধান দ্বিগুণ করার সুযোগ আসে অস্ট্রেলিয়ার সামনে। তবে ইরানকুন্ডার শট আটকে দেন তুরস্ক গোলকিপার চাকির। শেষ পর্যন্ত ১-০ গোলে এগিয়ে থেকে বিরতিতে যায় সকারুরা। 

বিরতির পর আক্রমণ, প্রতি-আক্রমণে জমে ওঠে ম্যাচ। ৫৪ মিনিটে কর্নার থেকে বক্সে হেড নেন হ্যারি শুটার, ঝাপিয়ে পড়ে আটকে দেন তুরস্ক গোলকিপার চাকির। 

তিন মিনিট পর আর্দা গুলারের দারুণ ফ্রি কিক শট জাল খুঁজে নিচ্ছিল প্রায়, তবে শেষ মুহূর্তে ডান দিকে ঝাপিয়ে ঠেকিয়ে দেন অস্ট্রেলিয়ান গোলকিপার প্যাট্রিক বিচ। 

সময় যত গড়ায়, চাপ বাড়তে থাকে তুরস্কের ওপর। ৫৭ মিনিটে থেকে পরের ১০ মিনিট অস্ট্রেলিয়ার বক্সের সামনে বল নিয়ে হানা দিতে থাকে তারা। তবে নিশ্ছিদ্র রক্ষণে প্রতিপক্ষের সব আক্রমণ প্রতিহত করেন শুটার, বস, জ্যাকব ইটালিয়ানোরা। 

হাইড্রেশন ব্রেকের পর পোস্টের দুরুহ কোন থেকে নেওয়া ওরকুন কোকুরের শট পা দিয়ে ঠেকিয়ে দেন অস্ট্রেলিয়ার গোলকিপার। 

গোলের জন্য মরিয়া তুরস্ক এই অর্ধে আধিপত্য বিস্তার করে খেলে। যদিও ৭৫ মিনিটে কনর মেটকাফির দারুণ এক গোলে আরও পিছিয়ে পড়ে দলটি। ৩৭ ম্যাচের আন্তর্জাতিক ক্যারিয়ারে নিজের দ্বিতীয় গোলটি গুরুত্বপূর্ণ সময়েই করলেন মেলবোর্ন সিটির এই মিডফিল্ডার।

ম্যাচে বল পজেশন থেকে শুরু করে আক্রমণেও এগিয়ে ছিল তুরস্ক। তবে ভাগ্যের সহায়তা পায়নি তারা। ৭৭ মিনিটে আরও একবার তাদেরকে গোলবঞ্চিত করে রাখেন প্রতিপক্ষের গোলকিপার। বা পাশের কর্নারের কাছ থেকে কেনান ইলদিজের ক্রসে গোলমুখের সামনে থেকে টোকা দেন কেরেম আকতুরকোগলু, অবিশ্বাস্যভাবে রুখে দেন অস্ট্রেলিয়ার গোলকিপার। ৮৬ মিনিটে একইভাবে আবারও নিশ্চিত গোল রুখে দেন ২২ বছর বয়সী গোলকিপার। শেষ পর্যন্ত ২-০ গোলের জয়ে বিশ্বকাপ অভিযান শুরু করেছে সকারুরা।

পড়ুন:মরক্কো: শক্তিশালী ব্রাজিলকে রুখে নতুন স্বপ্নের সোপানে

দেখুন:আঙুরে আঙুল ফুলে কলাগাছ!

ইমি/ ‎

বিজ্ঞাপন

আরও পড়ুন

বিজ্ঞাপন

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here

This site uses Akismet to reduce spam. Learn how your comment data is processed.

বিশেষ প্রতিবেদন