বিজ্ঞাপন

রাত ২টায় মুখোমুখি হচ্ছে নেদারল্যান্ডস-জাপান

২০২৬ ফিফা বিশ্বকাপের গ্রুপ ‘এফ’-এর ম্যাচে আজ রাতে জাপানের মুখোমুখি হচ্ছে ডার্ক হর্স খ্যাত নেদারল্যান্ডস । একই গ্রুপে রয়েছে সুইডেন ও তিউনিসিয়া। নকআউট পর্বে জায়গা নিশ্চিত করতে হলে শীর্ষ দুইয়ের মধ্যে থাকতে হবে দলগুলোকে। রোববার (১৪ জুন) বাংলাদেশ সময় রাত ২টায় মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের ডালাসে ডাচদের মুখোমুখি হবে সামুরাই ব্লু’রা।

কাগজে-কলমে ম্যাচটি প্রতিদ্বন্দ্বিতাপূর্ণ হওয়ার কথা থাকলেও জাপানের কয়েকজন গুরুত্বপূর্ণ খেলোয়াড়ের অনুপস্থিতিতে নেদারল্যান্ডসকেই এগিয়ে রাখা হচ্ছে। ইনজুরির কারণে জাপানি মিডফিল্ডার কাওরু মিতোমা ছিটকে গেছেন। আর তাকুমি মিনামিনো ও অধিনায়ক ওয়াতারু এন্দো আন্তর্জাতিক ফুটবল থেকে অবসর নেওয়ায় জাপান কিছুটা দুর্বল অবস্থায় রয়েছে।

এদিকে, ইউরো ২০২৪-এর সেমিফাইনাল এবং সর্বশেষ বিশ্বকাপ ও নেশনস লিগে কোয়ার্টার ফাইনাল খেলা নেদারল্যান্ডস এবার বহু প্রতীক্ষিত বিশ্ব শিরোপার স্বপ্ন নিয়ে এসেছে। এটি তাদের ১২তম বিশ্বকাপ। ১৯৭৪, ১৯৭৮ ও ২০১০ সালে ফাইনালে উঠেও শিরোপা জিততে পারেনি অরেঞ্জরা।

প্রথম লক্ষ্য হিসেবে শেষ ষোলো নিশ্চিত করতে চাইবে রোনাল্ড কোমানের দল। ইতিহাসও কথা বলছে তাদের পক্ষে। ১৯৯৪ সালের পর থেকে বিশ্বকাপের গ্রুপ পর্বে টানা ১৬ ম্যাচে অপরাজিত নেদারল্যান্ডস। সেই ১৯৯৪ বিশ্বকাপ দলের অধিনায়ক ছিলেন কোমান, আর এবার তিনিই নেতৃত্ব দিচ্ছেন প্রধান কোচ হিসেবে।

তবে প্রস্তুতি খুব একটা নিখুঁত ছিল না অরেঞ্জদের। বাছাইপর্বে প্রত্যাশিত ছন্দ দেখাতে না পারার পর আলজেরিয়ার কাছে হেরে ১০ ম্যাচের অপরাজিত থাকার ধারাও ভেঙেছে। পরে উজবেকিস্তানের বিপক্ষে রুদ্ধশ্বাস ম্যাচে কডি গ্যাকপো’র দুটি পেনাল্টি গোলে জয় পায় ডাচরা।

অন্যদিকে, টানা অষ্টম বিশ্বকাপে খেলতে আসা জাপান এখনও শেষ ষোলোর গণ্ডি পেরোনোর স্বপ্ন পূরণ করতে পারেনি। ফিফা র‌্যাঙ্কিংয়ের ১৮ নম্বরে থাকা সামুরাই ব্লুরা অবশ্য দারুণ ছন্দে রয়েছে। তারা টানা ছয়টি প্রীতি ম্যাচ জিতেছে এবং ব্রাজিল ও ইংল্যান্ডের মতো শক্তিশালী দলকেও হারিয়েছে।

এশিয়ান বাছাইপর্বেও ছিল জাপানের একচ্ছত্র আধিপত্য। ৫৪ গোল করে এবং মাত্র তিন গোল হজম করে, তারা সবার আগে বিশ্বকাপ নিশ্চিত করা দলগুলোর একটি হয়।

২০২২ বিশ্বকাপে, জার্মানি ও স্পেনকে হারিয়ে নিজেদের সামর্থ্যের প্রমাণ দিয়েছিল জাপান। এবার বিশ্বকাপে দ্বিতীয়বারের মতো নেদারল্যান্ডসের মুখোমুখি হচ্ছে তারা। এর আগে ২০১০ বিশ্বকাপে দুই দলের একমাত্র দেখায় ১-০ গোলে জিতেছিল ডাচরা।

নেদারল্যান্ডসের প্রথম পছন্দের গোলরক্ষক বার্ট ফেরব্রুগেন শেষ প্রস্তুতি ম্যাচে নিতম্বে চোট পেয়েছেন। ফলে তার খেলা নিয়ে অনিশ্চয়তা রয়েছে। প্রয়োজন হলে মার্ক ফ্লেকেনকে দেখা যেতে পারে গোলপোস্টের নিচে।

এছাড়া জুরিয়েন টিম্বার, জের্ডি শাউটেন, ম্যাথাইস ডি লিট ও দলের অন্যতম সৃজনশীল খেলোয়াড় জাভি সিমন্স ইনজুরির কারণে দলে নেই। আক্রমণভাগে মেমফিস ডিপাই ও দোনিয়েল মালেন শুরুর একাদশে জায়গা পাওয়ার লড়াইয়ে আছেন।

জাপান বিশ্বকাপে এসেছে অধিনায়ক ওয়াতারু এন্দোকে ছাড়াই। পায়ের চোট থেকে পুরোপুরি সুস্থ হতে না পারায় তিনি বিদায় বলেছেন আন্তর্জাতিক ফুটবলকে। মিডফিল্ডার কাওরু মিতোমাও দলে নেই। ফলে টাকেফুসা কুবো ও জুনিয়া ইতোর ওপর বাড়তি দায়িত্ব থাকবে। তারা স্ট্রাইকার আয়াসে উয়েদাকে সহায়তা করবেন। বাছাইপর্বে এই তিন খেলোয়াড় সরাসরি জড়িত ছিলেন ৩৩টি গোলের সঙ্গে।

অভিজ্ঞ ডিফেন্ডার ইউতো নাগাতোমোর দিকেও নজর থাকবে। ৩৯ বছর বয়সি এই ফুটবলার মাঠে নামলে ক্যারিয়ারের পঞ্চম বিশ্বকাপ খেলার কীর্তি গড়বেন।

যেভাবে দেখবেন

বাংলাদেশ থেকে টিভি ও অনলাইনে ম্যাচটি দেখার সুযোগ থাকছে। রাষ্ট্রীয় টিভি চ্যানেল বিটিভির পাশাপাশি বিশ্বকাপের খেলা সরাসরি সম্প্রচার করবে টি-স্পোর্টস ও সময় টেলিভিশন।

শুধু তাই নয়, ম্যাচগুলো অনলাইনেও উপভোগ করতে পারবেন ফুটবলপ্রেমীরা (Brazil-morocco live watch)। সাবস্ক্রিপশন ফি দিয়ে মোবাইল ফোন কিংবা স্মার্ট ডিভাইসে মাই রবি অ্যাপ, বাংলালিংকের টফি ও গ্রামীণফোনের বায়োস্কোপ থেকে ঘরে বসেই দেখা যাবে দ্য গ্রেটেস্ট শো অন আর্থ নামে খ্যাত ফিফা বিশ্বকাপের খেলা। এ ছাড়া আইস্ক্রিনেও খেলা দেখার সুযোগ থাকছে।

এ ছাড়া খেলা উপভোগ করা যাবে বিভিন্ন অ্যাপ থেকেও। স্পোর্টসজিফাই এবং স্পোর্টজেডএক্স থেকেও দেখা যাবে বিশ্বকাপের ম্যাচগুলো।

বিজ্ঞাপন

পড়ুন: মরক্কো: শক্তিশালী ব্রাজিলকে রুখে নতুন স্বপ্নের সোপানে

বিজ্ঞাপন

আরও পড়ুন

বিজ্ঞাপন

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here

This site uses Akismet to reduce spam. Learn how your comment data is processed.

বিশেষ প্রতিবেদন