যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে একটি সমঝোতা চুক্তি সম্পন্ন হয়েছে এবং এর আওতায় সোমবার রাত থেকেই সব ফ্রন্টে চলমান যুদ্ধ ও সামরিক অভিযান স্থায়ীভাবে বন্ধ হবে বলে জানিয়েছে ইরান। একই সঙ্গে ইরানের বিরুদ্ধে যুক্তরাষ্ট্রের আরোপিত নৌ অবরোধ প্রত্যাহার প্রক্রিয়াও শুরু হবে বলে ঘোষণা দিয়েছে তেহরান।
সোমবার রাষ্ট্রীয় টেলিভিশনকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে ইরানের উপ-পররাষ্ট্রমন্ত্রী কাজেম ঘারিবাবাদি বলেন, সমঝোতার ফলে লেবাননসহ বিভিন্ন সংঘাতপূর্ণ অঞ্চলে চলমান সামরিক কর্মকাণ্ডেরও অবসান ঘটবে। তিনি জানান, চুক্তির বাস্তবায়ন পর্যবেক্ষণ করা হবে এবং কোনো পক্ষ শর্ত ভঙ্গ করলে ইরান প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নেবে।
ভারতে অবস্থিত ইরানের কূটনৈতিক মিশন সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে ঘারিবাবাদির বক্তব্য প্রকাশ করে। সেখানে যুদ্ধ বন্ধের ঘোষণা তাৎক্ষণিকভাবে কার্যকর হওয়ার কথা উল্লেখ করা হয়।
ইরানি কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, একটি চূড়ান্ত শান্তি চুক্তিতে পৌঁছাতে আগামী ৬০ দিনের মধ্যে নতুন দফার আলোচনা হবে। এই সময়ের মধ্যে ইরানের পারমাণবিক কর্মসূচি, নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহার এবং অন্যান্য গুরুত্বপূর্ণ বিষয় নিয়ে আলোচনা চলবে।
এর আগে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পও যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে সমঝোতা সম্পন্ন হওয়ার ঘোষণা দেন। তিনি জানান, ইরানি বন্দরগুলোর ওপর যুক্তরাষ্ট্রের নৌ অবরোধ প্রত্যাহার করা হবে এবং কৌশলগতভাবে গুরুত্বপূর্ণ হরমুজ প্রণালি পুনরায় উন্মুক্ত করার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।
তবে চুক্তির শর্তাবলি নিয়ে ইসরায়েলে উদ্বেগ তৈরি হয়েছে। দেশটির কয়েকজন কর্মকর্তা মনে করছেন, সমঝোতার বর্তমান কাঠামোতে ইরানের পারমাণবিক কর্মসূচি, ক্ষেপণাস্ত্র সক্ষমতা এবং আঞ্চলিক মিত্র গোষ্ঠীগুলোর বিষয়ে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের দীর্ঘদিনের ঘোষিত লক্ষ্যগুলো পুরোপুরি নিশ্চিত হয়নি।
সূত্র: রয়টার্স
পড়ুন : জি-৭ সম্মেলনের আগে বিক্ষোভে উত্তাল জেনেভা, টেসলায় আগুন


