বিজ্ঞাপন

সুনামগঞ্জ সীমান্তে বিজিবির ওপর হামলার মামলায় আদালতে এসে আটক ৭ জন

‎সুনামগঞ্জের বিশ্বম্ভরপুর উপজেলার সীমান্তবর্তী শিলডোয়ার এলাকায় চোরাচালানবিরোধী অভিযানে বর্ডার গার্ড বাংলাদেশের (বিজিবি) টহল দলের ওপর সংঘবদ্ধ চোরাকারবারীদের হামলার অভিযোগ উঠেছে। এ ঘটনায় বিশেষ ক্ষমতা আইন ও দণ্ডবিধির বিভিন্ন ধারায় সাতজনের নাম উল্লেখ করে এবং অজ্ঞাতনামা আরও ১৪ থেকে ১৫ জনকে আসামি করে বিশ্বম্ভরপুর থানায় মামলা দায়ের করা হয়েছে।মামলার বাদী সুনামগঞ্জ ব্যাটালিয়ন (২৮ বিজিবি)-এর চিনাকান্দি বিওপির হাবিলদার মো. আবুল বাশার। তিনি গত ১৯ মে বিশ্বম্ভরপুর থানায় এজাহার দায়ের করেন।

‎এজাহার সূত্রে জানা যায়, গোপন সংবাদের ভিত্তিতে গত ১৭ মে ভোরে ধনপুর ইউনিয়নের শিলডোয়ার সীমান্ত এলাকায় অভিযান চালায় চিনাকান্দি বিওপির বিজিবির একটি টহল দল। সীমান্ত পিলার ১২১০/এমপি সংলগ্ন এলাকা দিয়ে ভারত থেকে অবৈধ মালামাল বাংলাদেশে প্রবেশের তথ্যের ভিত্তিতে এ অভিযান পরিচালনা করা হয়।

‎বিজিবির দাবি, ভোর আনুমানিক ৪টার দিকে টহল দল ঘটনাস্থলে পৌঁছালে প্রায় ২০ থেকে ২২ জনের একটি সংঘবদ্ধ চোরাকারবারী দল ১৫ থেকে ২০টি বস্তাভর্তি ভারতীয় অবৈধ মালামাল নিয়ে বাংলাদেশে প্রবেশের চেষ্টা করছিল। বিজিবি সদস্যরা তাদের আটক করতে গেলে চোরাকারবারীরা মালামাল নিয়ে নিকটবর্তী বাড়িঘরের দিকে সরে যায়।

‎একপর্যায়ে তারা পাথর, সাবল, হাসুয়া, দা, বাঁশ ও লাঠিসোটা নিয়ে বিজিবি সদস্যদের ওপর হামলা চালায় বলে অভিযোগ করা হয়েছে। এজাহারে উল্লেখ করা হয়, এক নম্বর আসামি মো. আওয়াল হোসেন বিজিবির হাবিলদার আওকাত হোসেনকে ধাক্কা দিয়ে ফেলে দিয়ে বাঁশের লাঠি দিয়ে আঘাতের চেষ্টা করেন। তবে তিনি সরে যাওয়ায় বড় ধরনের হতাহতের ঘটনা ঘটেনি। অভিযোগে আরও বলা হয়, চোরাকারবারীরা বিজিবির জব্দ করা মালামাল ছিনিয়ে নেওয়ার চেষ্টা করে এবং টহল দলের সদস্যদের সঙ্গে হাতাহাতিতে জড়িয়ে পড়ে। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে আত্মরক্ষার্থে বিজিবির সিপাহী শাওন বিশ্বাস তার সরকারি রাইফেল থেকে এক রাউন্ড ফাঁকা গুলি ছোড়েন। এরপর অভিযুক্তরা চারটি বস্তাভর্তি মালামাল ফেলে পালিয়ে যায়।

‎পরে স্থানীয় লোকজনের উপস্থিতিতে জব্দ তালিকা প্রস্তুত করা হয়। জব্দ করা মালামালের মধ্যে রয়েছে ৫৯ কেজি ভারতীয় চিনি এবং ১৯ পিস ভারতীয় কাতান শাড়ি। বিজিবির হিসাবে এসব পণ্যের মোট মূল্য এক লাখ ২১ হাজার ৬৭০ টাকা। ‎মামলায় আসামি করা হয়েছে শিলডোয়ার গ্রামের মো. আওয়াল হোসেন (১৯), আবুল কাশেম (৫২), মো. সাইকুল ইসলাম (২৮), মো. খাইরুল (২২), মো. নুরু মোহাম্মদ (৪০), মো. মোক্তার হোসেন (৪০) ও মো. বাছির উদ্দিনকে (২৫)। এছাড়া অজ্ঞাতনামা আরও ১৪ থেকে ১৫ জনকে আসামি করা হয়েছে।

‎বিশেষ ক্ষমতা আইন, ১৯৭৪-এর ২৫-বি ও ২৫-ডি ধারা এবং দণ্ডবিধির ১৪৩, ১৮৬, ৩৩২ ও ৩৫৩ ধারায় মামলাটি রুজু করা হয়েছে। এজাহারে আরও উল্লেখ করা হয়েছে, ঘটনাস্থলের ভিডিওচিত্র মোবাইল ফোনে ধারণ করা হয়েছে। মামলার সঙ্গে জব্দ তালিকা, ফাঁকা গুলির খালি খোসার ছবি এবং ভিডিওচিত্র সংবলিত একটি সিডি সংযুক্ত করা হয়েছে।

‎বিশ্বম্ভরপুর থানার একটি দায়িত্বশীল সূত্র জানায়, বিজিবির দায়ের করা অভিযোগটি নিয়মিত মামলা হিসেবে গ্রহণ করা হয়েছে। তদন্ত শেষে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে। তবে মামলায় অভিযুক্তদের কোনো বক্তব্য পাওয়া যায়নি। তাদের বক্তব্য সংগ্রহের চেষ্টা চলছে। তদন্তের মাধ্যমে ঘটনার প্রকৃত সত্য উদঘাটিত হবে বলে সংশ্লিষ্টরা জানিয়েছেন।

বিজ্ঞাপন

‎পড়ুন : শার্শায় প্রবাসীর স্ত্রীকে সংঘবদ্ধ ধর্ষণের অভিযোগ, আটক ৩

বিজ্ঞাপন

আরও পড়ুন

বিজ্ঞাপন

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here

This site uses Akismet to reduce spam. Learn how your comment data is processed.

বিশেষ প্রতিবেদন