ইরান ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে আলোচিত সম্ভাব্য সমঝোতা চুক্তিকে ঘিরে আন্তর্জাতিক অঙ্গনে নতুন বিতর্ক তৈরি হয়েছে। ইসরায়েলি গণমাধ্যমের দাবি অনুযায়ী, আসন্ন চুক্তির খসড়া দেখার ও পর্যালোচনার জন্য যুক্তরাষ্ট্রের কাছে অনুরোধ জানিয়েছিল তেল আবিব, তবে সেই অনুরোধ নাকচ করে দিয়েছে ওয়াশিংটন।
এই ঘটনায় ইসরায়েল চুক্তির বিস্তারিত বিষয়বস্তু সম্পর্কে এখনো অনিশ্চয়তায় রয়েছে বলে প্রতিবেদনে বলা হয়। তবে যুক্তরাষ্ট্রের পক্ষ থেকে দাবি করা হয়েছে, এমন কোনো আনুষ্ঠানিক অনুরোধ তারা পায়নি।
আনাদোলু এজেন্সির বরাতে জানা যায়, ইরানের সঙ্গে হওয়া সমঝোতা স্মারক (MoU) ঘিরে ইসরায়েলি মিডিয়ায় প্রকাশিত প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, চুক্তির খসড়া দেখতে চেয়েছিল ইসরায়েল, কিন্তু যুক্তরাষ্ট্র তা প্রত্যাখ্যান করেছে—এমন দাবি করা হলেও বিষয়টি নিয়ে ভিন্ন মতও পাওয়া গেছে।
মঙ্গলবার (১৬ জুন) ইসরায়েলের একটি টেলিভিশন চ্যানেলের প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়, মার্কিন প্রশাসনের কাছে সমঝোতা স্মারকটি দেখার অনুরোধ করেছিলেন ইসরায়েলি কর্মকর্তারা। কিন্তু ওয়াশিংটন সেই অনুরোধ গ্রহণ করেনি। ফলে আসন্ন চুক্তির পূর্ণাঙ্গ তথ্য এখনো ইসরায়েলের কাছে অজানা রয়ে গেছে।
অন্যদিকে, একটি সূত্র নাম প্রকাশ না করার শর্তে জানিয়েছে, ইসরায়েলের পক্ষ থেকে এ ধরনের কোনো অনুরোধ আদৌ জানানো হয়নি। একইসঙ্গে যুক্তরাষ্ট্রের একজন কর্মকর্তা ওই প্রতিবেদনের সত্যতা অস্বীকার করে এটিকে ‘ভুল তথ্য’ হিসেবে উল্লেখ করেছেন।
তিনি আরও বলেন, পুরো আলোচনার সময় জুড়ে যুক্তরাষ্ট্র আঞ্চলিক অংশীদারদের, যার মধ্যে ইসরায়েলও রয়েছে, তাদের সঙ্গে ঘনিষ্ঠ সমন্বয় বজায় রেখেছে।
প্রতিবেদনে বলা হয়, মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প সমঝোতা স্মারকের প্রতিটি ধারা নিজে পর্যালোচনা করবেন বলে জানিয়েছেন। তবে নথিটি কবে প্রকাশ করা হবে, সে বিষয়ে এখনো কোনো ঘোষণা আসেনি।
ইরানি গণমাধ্যমের তথ্য অনুযায়ী, এই সমঝোতা স্মারকে মোট ১৪টি ধারা থাকতে পারে। এর মধ্যে রয়েছে দক্ষিণ লেবানন থেকে সেনা প্রত্যাহার, হরমুজ প্রণালিতে বাণিজ্যিক জাহাজ চলাচলের বিধিনিষেধ প্রত্যাহার, ইরানের ওপর আরোপিত নিষেধাজ্ঞা শিথিল, জব্দ সম্পদ ফেরত দেওয়া এবং ইরান পুনর্গঠনে আন্তর্জাতিক সহায়তার বিষয়গুলো।
চুক্তি প্রসঙ্গে ট্রাম্প জানিয়েছেন, আগামী শুক্রবার সুইজারল্যান্ডে এটি স্বাক্ষরিত হতে পারে এবং এরপর হরমুজ প্রণালি পুনরায় পুরোপুরি উন্মুক্ত করা হবে।
তবে এখন পর্যন্ত যুক্তরাষ্ট্র কিংবা ইরান—কোনো পক্ষই চুক্তির পূর্ণাঙ্গ বিষয়বস্তু আনুষ্ঠানিকভাবে প্রকাশ করেনি। ফলে আন্তর্জাতিক পর্যায়ে এই সমঝোতা ঘিরে ধোঁয়াশা ও কূটনৈতিক উত্তেজনা অব্যাহত রয়েছে।
পড়ুন: লেবাননে নতুন হামলা,ইরানের ‘কঠোর জবাবের’ হুঁশিয়ারি
আর/


