ফেনীর মুহুরি ও কহুয়া নদীর নাব্যতা ফিরিয়ে আনা, বন্যা নিয়ন্ত্রণ এবং সেচ সুবিধা সম্প্রসারণের লক্ষ্যে ১ হাজার ৫৪২ কোটি টাকার একটি বৃহৎ প্রকল্প অনুমোদন করেছে জাতীয় অর্থনৈতিক পরিষদের নির্বাহী কমিটি (একনেক)। প্রকল্পটি বাস্তবায়িত হলে সংশ্লিষ্ট এলাকায় কৃষি উৎপাদন বৃদ্ধি, মৎস্যসম্পদ উন্নয়ন, নদীভাঙন প্রতিরোধ এবং পরিবেশগত ভারসাম্য রক্ষায় গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে বলে আশা করা হচ্ছে।
মঙ্গলবার (১৬ জুন) বাংলাদেশ সচিবালয়ের মন্ত্রিসভা কক্ষে অনুষ্ঠিত একনেক সভায় প্রকল্পটির অনুমোদন দেওয়া হয়। সভায় সভাপতিত্ব করেন প্রধানমন্ত্রী ও একনেক চেয়ারপারসন তারেক রহমান। সভায় মোট ৭ হাজার ৩ কোটি ৩৬ লাখ টাকা ব্যয় সম্বলিত পাঁচটি উন্নয়ন প্রকল্প অনুমোদন করা হয়।
পরিকল্পনা কমিশন সূত্রে জানা গেছে, অনুমোদিত মোট ব্যয়ের মধ্যে বাংলাদেশ সরকারের নিজস্ব তহবিল থেকে ৪ হাজার ৫৩৬ কোটি ১০ লাখ টাকা এবং বৈদেশিক ঋণ থেকে ২ হাজার ৪৬৭ কোটি ২৬ লাখ টাকা জোগান দেওয়া হবে।
অনুমোদিত প্রকল্পগুলোর মধ্যে অন্যতম হলো ‘ফেনী জেলাধীন মুহুরি-কহুয়া বন্যা নিয়ন্ত্রণ, নিষ্কাশন ও সেচ প্রকল্পের পুনর্বাসন (প্রথম পর্যায়)’। পানি সম্পদ মন্ত্রণালয়ের আওতায় বাস্তবায়নাধীন এ প্রকল্পের মাধ্যমে মুহুরি ও কহুয়া নদীর নাব্যতা পুনরুদ্ধার, নদীতীর সংরক্ষণ, জলাবদ্ধতা নিরসন এবং সেচ ব্যবস্থার উন্নয়ন করা হবে।
সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, দীর্ঘদিন ধরে পলি জমে নদী দুটির স্বাভাবিক প্রবাহ ব্যাহত হচ্ছে। বর্ষা মৌসুমে বন্যা ও জলাবদ্ধতার কারণে স্থানীয় কৃষকরা ক্ষতির মুখে পড়ছেন। প্রকল্প বাস্তবায়নের মাধ্যমে এসব সমস্যা অনেকাংশে দূর হবে এবং কৃষিজমিতে সারা বছর সেচ সুবিধা নিশ্চিত করা সম্ভব হবে।
এছাড়া নদীর তীরভাঙন রোধ, দখল ও দূষণ প্রতিরোধ এবং জীববৈচিত্র্য সংরক্ষণেও প্রকল্পটি কার্যকর ভূমিকা রাখবে বলে মনে করছেন বিশেষজ্ঞরা। একই সঙ্গে স্থানীয় জনগণের জীবনমান উন্নয়ন এবং কর্মসংস্থানের সুযোগও সৃষ্টি হবে।
সভায় অনুমোদিত অন্যান্য প্রকল্পের মধ্যে রয়েছে প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের ‘সাপোর্টিং ইনফ্রাস্ট্রাকচার প্রজেক্ট ফর চাইনিজ ইকোনমিক অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রিয়াল জোন’। প্রকল্পটির মাধ্যমে দেশের শিল্পায়ন এবং বিদেশি বিনিয়োগ আকর্ষণের লক্ষ্যে প্রয়োজনীয় অবকাঠামো উন্নয়ন করা হবে।
পানি সম্পদ মন্ত্রণালয়ের অধীনে আরও দুটি প্রকল্প অনুমোদন পেয়েছে। এগুলো হলো ‘করতোয়া নদী সিস্টেম উন্নয়ন প্রকল্প’ এবং ‘পদ্মা নদীর ভাঙন হতে কুষ্টিয়া জেলার মিরপুর উপজেলার তালবাড়িয়া ও কুমারখালী উপজেলার শিলাইদহ ইউনিয়নের কোমরকান্দি এলাকা রক্ষা (প্রথম সংশোধিত) প্রকল্প’।
শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের আওতায় ‘১০০টি উপজেলায় একটি করে টেকনিক্যাল স্কুল ও কলেজ স্থাপন (তৃতীয় সংশোধিত)’ প্রকল্পও একনেক সভায় অনুমোদন পায়। সরকার আশা করছে, প্রকল্পটি বাস্তবায়নের মাধ্যমে কারিগরি শিক্ষার সুযোগ আরও বিস্তৃত হবে এবং দক্ষ মানবসম্পদ গড়ে তোলা সহজ হবে।
এদিকে সভায় পরিকল্পনামন্ত্রীর মাধ্যমে এর আগে অনুমোদিত ৫০ কোটি টাকার কম ব্যয় সম্বলিত চারটি প্রকল্প সম্পর্কেও একনেককে অবহিত করা হয়। এসব প্রকল্পের মধ্যে রয়েছে বাংলাদেশ বিমান বাহিনী ঘাঁটি কক্সবাজারে বিমানসেনা ব্যারাক কমপ্লেক্স নির্মাণ, নৌবাহিনী স্কুল অ্যান্ড কলেজ সাভার স্থাপন, বিএএফ শাহীন কলেজ শমসেরনগরের অবকাঠামো উন্নয়ন এবং প্যাগোডাভিত্তিক প্রাক-প্রাথমিক ও ক্রিপিটক শিক্ষা কার্যক্রমের চতুর্থ পর্যায়।
সভায় অর্থ ও পরিকল্পনামন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী, স্থানীয় সরকার ও পল্লী উন্নয়ন মন্ত্রী মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর, পররাষ্ট্রমন্ত্রী ড. খলিলুর রহমান, স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ, পানিসম্পদ মন্ত্রী মো. শহীদউদ্দীন চৌধুরী এ্যানি, শিক্ষা ও প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রী ড. আ ন ম এহছানুল হক মিলনসহ সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয়ের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।
পড়ুন:কালিয়াকৈরে ট্রান্সফরমারে আগুন, আতঙ্কে এলাকাবাসী
দেখুন:ই/স/রা/ই/লে/র খেলা শেষ করবে ইরান?
ইমি


