দেশের পেশাদার গলফারদের শীর্ষ সংগঠন ‘বাংলাদেশ প্রফেশনাল গলফারস এসোসিয়েশন (বিপিজিএ)’ এর আসন্ন নেতৃত্ব নির্বাচনকে কেন্দ্র করে খোদ সংগঠনের ভিতরে ও বিভিন্ন মহলে আলোচনা-সমালোচনা শুরু হয়েছে। আলোচনার কেন্দ্রবিন্দুতে রয়েছেন সাবেক সেনা কর্মকর্তা ব্রিগেডিয়ার জেনারেল (অব.) জি এম কামরুল ইসলাম, যিনি বর্তমানে বাংলাদেশ স্কোয়াশ ফেডারেশনের সাধারণ সম্পাদক হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন।
সংশ্লিষ্ট মহলের ভাষ্য অনুযায়ী, সংগঠনটির শীর্ষ নেতৃত্বের পদে আসীন হওয়ার লক্ষ্যে জি এম কামরুল ইসলাম গত কিছুদিন ধরে ব্যাপক যোগাযোগ ও সমর্থন সংগ্রহের কার্যক্রম চালিয়ে যাচ্ছেন। যদিও নির্বাচনকে ঘিরে প্রার্থীদের সক্রিয়তা স্বাভাবিক বিষয়, তবে তার এই তৎপরতা নিয়ে ক্রীড়াঙ্গনের একটি অংশে নানা প্রশ্ন ও আলোচনা তৈরি হয়েছে।
প্রকাশিত তথ্য অনুযায়ী, জি এম কামরুল ইসলাম ক্ষমতাচ্যুত আওয়ামী লীগ সরকারের সময়কার প্রভাবশালী মহলের সঙ্গে ঘনিষ্ঠ জন ও আস্থাভাজন। বিশেষ করে সাবেক প্রধানমন্ত্রীর সামরিক উপদেষ্টা মেজর জেনারেল (অব.) তারিক আহমেদ সিদ্দিকের ঘনিষ্ঠ সহযোগী হিসেবে তার পরিচিতি বিভিন্ন সময়ে রাজনৈতিক ও প্রশাসনিক মহলে আলোচিত হয়েছে।
সংশ্লিষ্ট সূত্রগুলো বলছে, ক্রীড়া সংগঠনের নির্বাচনে তার আগ্রহের পেছনে শুধুমাত্র ক্রীড়া উন্নয়ন নয়, বরং প্রভাব বিস্তার ও নেটওয়ার্ক সম্প্রসারণের বিষয় ও ফ্যাসিস্ট দোসরদের পুন:স্থাপন বিবেচনায় থাকতে পারে বলে অনেকের ধারণা। যদিও এ বিষয়ে জি এম কামরুল ইসলামের পক্ষ থেকে কোনো আনুষ্ঠানিক বক্তব্য পাওয়া যায়নি।
তার রাজনৈতিক অতীতও নতুন করে আলোচনায় এসেছে। ২০২০ সালে ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশন নির্বাচনে জাতীয় পার্টির মনোনয়ন নিয়ে মেয়র পদে নির্বাচন করার চেষ্টা করেছিলেন তিনি। সে সময় জাতীয় পার্টি ক্ষমতাসীন রাজনৈতিক বলয়ের অংশ হওয়ায় বিষয়টি নিয়ে সমালোচনা হয়েছিল। এছাড়া তার প্রার্থিতা নিয়েও বিভিন্ন মহলে প্রশ্ন উঠেছিল।
ক্রীড়াঙ্গনের একাধিক সংশ্লিষ্ট ব্যক্তি মনে করেন, দেশের গলফ প্রশাসনকে রাজনৈতিক বিতর্ক ও ব্যক্তিকেন্দ্রিক প্রভাবের ঊর্ধ্বে রাখা জরুরি। তাদের মতে, যে কোনো নেতৃত্ব নির্বাচন হওয়া উচিত স্বচ্ছতা, জবাবদিহিতা এবং পেশাদার গলফারদের স্বার্থকে সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিয়ে।
বিশ্লেষকদের মতে, বাংলাদেশের গলফ সাম্প্রতিক বছরগুলোতে আন্তর্জাতিক অঙ্গনে ইতিবাচক পরিচিতি অর্জন করেছে। তাই সংগঠনটির নেতৃত্ব নির্বাচনের ক্ষেত্রে ব্যক্তিগত বিতর্কের চেয়ে প্রতিষ্ঠানটির সুনাম, পেশাদারিত্ব এবং ভবিষ্যৎ উন্নয়নকে অগ্রাধিকার দেওয়া প্রয়োজন।
সংশ্লিষ্ট মহলের প্রত্যাশা, আসন্ন নির্বাচনকে কেন্দ্র করে যে আলোচনা ও বিতর্ক তৈরি হয়েছে, তা যেন কোনোভাবেই দেশের গলফ অঙ্গনের ভাবমূর্তি ক্ষুণ্ণ না করে। একই সঙ্গে নেতৃত্ব নির্বাচনের পুরো প্রক্রিয়া যেন স্বচ্ছ, প্রতিযোগিতামূলক এবং অংশীজনদের আস্থার ভিত্তিতে সম্পন্ন হয়, সে দাবিও জোরালো হচ্ছে।
পড়ুন : ব্যাটিং বিপর্যয়ে বাংলাদেশ, চট্টগ্রামে ১৩১ রানে থামল টাইগাররা


