বিজ্ঞাপন

বৈশ্বিক ফ্যাশন শক্তি হিসেবে বাংলাদেশের অবস্থান সুদৃঢ় করতে ব্র্যান্ডিং জোরদারের আহ্বান আইবিএফ ২০২৬-এ

বাংলাদেশকে শুধু পোশাক উৎপাদনের কেন্দ্র নয়, বরং বৈশ্বিকভাবে স্বীকৃত ফ্যাশন ও ব্র্যান্ডিং শক্তিধর দেশে রূপান্তরের উপায় নিয়ে আলোচনা করতে ইন্টারঅ্যাকটিভ বিজনেস ফোরাম (আইবিএফ) ২০২৬-এ একত্রিত হন শিল্পখাতের নেতৃবৃন্দ, পোশাক প্রস্তুতকারক, সোর্সিং পেশাজীবী, টেকসই উন্নয়ন বিশেষজ্ঞ এবং আন্তর্জাতিক অংশীজনরা। ইনটেক্স বাংলাদেশ ২০২৬-এর পাশাপাশি এবং ফ্যাশন বিজনেস জার্নালের সহযোগিতায় এ আয়োজন অনুষ্ঠিত হয়।

বিজ্ঞাপন

“ফ্যাক্টরি ফ্লোর থেকে বৈশ্বিক ফ্যাশন প্রভাব: বাংলাদেশের ব্র্যান্ডিং ব্যবধান দূরীকরণ” শীর্ষক এক্সক্লুসিভ প্যানেল আলোচনা ঢাকার আন্তর্জাতিক কনভেনশন সিটি বসুন্ধরা (আইসিসিবি)-এর হল-৪-এর মেজানাইন লেভেলে অনুষ্ঠিত হয়। এতে দেশি-বিদেশি শিল্পসংশ্লিষ্ট পেশাজীবী ও দর্শনার্থীদের উল্লেখযোগ্য অংশগ্রহণ ছিল।

অনুষ্ঠানের শুরুতে স্বাগত বক্তব্য দেন ওয়ার্ল্ডটেক্স ইন্ডিয়ার চেয়ারম্যান ও ব্যবস্থাপনা পরিচালক রাজেশ ভগত। পরে উদ্বোধনী বক্তব্যে ফ্যাশন বিজনেস জার্নালের সম্পাদক-ইন-চিফ ড. শরীফ এন. এস. সাবের বলেন, বাংলাদেশের পরবর্তী প্রতিযোগিতামূলক সক্ষমতা শুধু উৎপাদন ক্ষমতার ওপর নয়; বরং উদ্ভাবন, ব্র্যান্ডিং, টেকসই উন্নয়ন এবং মূল্য সংযোজনের ওপর নির্ভর করবে।

সেশনের সঞ্চালক ছিলেন উর্মি গ্রুপের সাসটেইনেবিলিটি বিভাগের প্রধান এবিএম ফখরুল আলম। তিনি মূল প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন, যেখানে বৈশ্বিক ব্র্যান্ড ও ভোক্তাদের পরিবর্তিত প্রত্যাশা, স্বচ্ছতা, দায়িত্বশীল সোর্সিং এবং ব্র্যান্ড স্টোরিটেলিংয়ের গুরুত্ব তুলে ধরা হয়।

প্যানেল আলোচনায় অংশ নেন—

• মো. সালাউদ্দিন, পরিচালক, রিয়াজ গার্মেন্টস লিমিটেড
• হাসিন আরমান, পরিচালক, এমবি নিট এবং প্রথম সহ-সভাপতি, বায়লা (BAYLA)
• ইন্দ্রপাল সিং রাওয়াত, ভাইস প্রেসিডেন্ট, নর্পনিট ইন্ডাস্ট্রিজ লিমিটেড
• আবদুল্লাহ আল মামুন, বিজনেস এরিয়া ম্যানেজার, মার্কস অ্যান্ড স্পেন্সার
• শাহানা আক্তার কিরণ, রিজিওনাল লিড, টেক্সটাইলজেনেসিস
• কিয়াও সেইন থে ডলি, ব্যবস্থাপনা পরিচালক, ক্লথস “আর” আস লিমিটেড

আলোচনা জুড়ে বক্তারা উল্লেখ করেন, বাংলাদেশ ইতোমধ্যে একটি নির্ভরযোগ্য পোশাক উৎপাদন কেন্দ্র হিসেবে নিজেদের প্রতিষ্ঠিত করেছে। এখন ব্র্যান্ডিং, নকশাগত উদ্ভাবন, ডিজিটাল ট্রেসেবিলিটি, টেকসই উন্নয়ন এবং ফ্যাশন ভ্যালু চেইনের বিভিন্ন অংশীজনের মধ্যে আরও ঘনিষ্ঠ সহযোগিতার মাধ্যমে দেশের বৈশ্বিক পরিচিতি শক্তিশালী করার উপযুক্ত সময় এসেছে।

ফোরামে আন্তর্জাতিক মানের প্রতিযোগিতামূলক বাংলাদেশি ফ্যাশন ব্র্যান্ড গড়ে তোলার কৌশল, ভোক্তা সম্পৃক্ততা বৃদ্ধি, টেকসই উন্নয়নকে ব্র্যান্ডিংয়ের কার্যকর হাতিয়ার হিসেবে ব্যবহার এবং বৈশ্বিক ফ্যাশন নেতৃত্বের পরবর্তী ধাপে বাংলাদেশের অবস্থান সুদৃঢ় করার বিভিন্ন দিক নিয়ে আলোচনা করা হয়।

অংশগ্রহণকারীদের প্রাণবন্ত মতামত ও প্রশ্নোত্তর পর্ব আলোচনাকে আরও সমৃদ্ধ করে। এতে স্পষ্টভাবে প্রতিফলিত হয় যে, বাংলাদেশকে শুধুমাত্র একটি সোর্সিং হাব থেকে বৈশ্বিকভাবে সম্মানিত ফ্যাশন ব্র্যান্ডের স্রষ্টা হিসেবে প্রতিষ্ঠিত করার বিষয়ে শিল্পখাতে ব্যাপক আগ্রহ রয়েছে।

অনুষ্ঠানের সমাপনী বক্তব্য দেন ফ্যাশন বিজনেস জার্নালের সম্পাদক আঁখি আক্তার। তিনি শিল্পখাতের বিভিন্ন অংশীজনের মধ্যে ধারাবাহিক সংলাপ ও সহযোগিতার গুরুত্ব তুলে ধরেন। পাশাপাশি বাংলাদেশের ভবিষ্যৎ ফ্যাশন ইকোসিস্টেমকে এগিয়ে নিতে শিল্প, উদ্ভাবন, টেকসই উন্নয়ন এবং বৈশ্বিক ব্র্যান্ডিং উদ্যোগকে সংযুক্তকারী একটি জ্ঞানভিত্তিক প্ল্যাটফর্ম হিসেবে ফ্যাশন বিজনেস জার্নালের অঙ্গীকার পুনর্ব্যক্ত করেন।

সফল এ ফোরাম একটি অভিন্ন দৃষ্টিভঙ্গিকে আরও সুদৃঢ় করেছে যে, বাংলাদেশের ভবিষ্যৎ প্রতিযোগিতামূলক সক্ষমতা শুধু উৎপাদন দক্ষতার ওপর নির্ভর করবে না; বরং সৃজনশীলতা, ব্র্যান্ডিং, উদ্ভাবন এবং কৌশলগত বৈশ্বিক অবস্থান তৈরির সক্ষমতার ওপরও সমানভাবে নির্ভরশীল হবে।

পড়ুন- ইরান-যুক্তরাষ্ট্র সমঝোতায় বিশ্বে স্বস্তি, তবে শঙ্কার নাম ইসরায়েল

দেখুন- চীনা যুদ্ধবিমান কিনছে বাংলাদেশ, ভারতের উদ্বেগ

বিজ্ঞাপন

আরও পড়ুন

বিজ্ঞাপন

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here

This site uses Akismet to reduce spam. Learn how your comment data is processed.

বিশেষ প্রতিবেদন