রাষ্ট্রীয় সফরে মালয়েশিয়ার উদ্দেশে ঢাকা ছেড়েছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। রোববার (২১ জুন) বিকেল পৌনে তিনটার দিতে তাকে বহকারী বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইন্সের ফ্লাইটটি হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর থেকে মালয়শিয়ার উদ্দেশে ছেড়ে যায়।
প্রধানমন্ত্রীর অতিরিক্ত প্রেস সচিব আতিকুর রহমান রুমন বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।
প্রধানমন্ত্রীর ডেপুটি প্রেস সচিব জাহিদুল ইসলাম রনি জানান, প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান দুপুর ২টা ৪৫ মিনিটে বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইন্সের একটি ফ্লাইটে মালয়েশিয়ায় উদ্দেশে ঢাকা ত্যাগ করেছেন। সফরসঙ্গী হিসেবে রয়েছেন তার সহধর্মিণী ডা. জুবাইদা রহমান।
এছাড়া সফরসঙ্গী হয়েছেন সরকারের মন্ত্রিপরিষদের কয়েকজন সদস্য ও প্রধানমন্ত্রীর উপদেষ্টা এবং সরকারি ঊর্ধ্বতন কর্মকতা ও ব্যক্তিগত কর্মকর্তারা।
মালয়েশিয়ায় সফর শেষে চীনে যাবেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। দুই দেশ মিলিয়ে ছয় দিনের সফরে থাকবেন তিনি। ২২ থেকে ২৬ জুন তিনি চীনে অবস্থান করবেন। এরপর দেশে ফিরবেন।
সফরসঙ্গী হিসেবে মালয়েশিয়ায় থাকবেন ২৭ জন এবং চীনে ২৮ জন। সফরসঙ্গী যৌক্তিক পর্যায়ে রাখার চেষ্টা করা হয়েছে বলে জানিয়েছেন পররাষ্ট্রসচিব আসাদ আল সিয়াম। শনিবার (২০ জুন) পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে এক ব্রিফিংয়ে এ তথ্য জানান তিনি।
পররাষ্ট্রমন্ত্রী, পররাষ্ট্র উপদেষ্টা ও প্রবাসী মন্ত্রীসহ ২৮ জনের সফরসঙ্গী নিয়ে মালয়েশিয়া ও চীন সফর করবেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান।
শনিবার পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে এক সংবাদ সম্মেলনে পররাষ্ট্রসচিব আসাদ আলম সিয়াম সাংবাদিকদের জানান, বাংলাদেশ ও চীনের মধ্যে ১৫ থেকে ১৭টি দ্বিপক্ষীয় দলিল সই হতে পারে—যার মধ্যে রয়েছে ১৩টি সমঝোতা স্মারক, দুটি চুক্তি, একটি কর্মপরিকল্পনা এবং একটি প্রোটোকল।
সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা জানান, এই চুক্তিগুলো শিক্ষা, কৃষি, বাণিজ্য, বিনিয়োগ, উন্নয়ন সহযোগিতা, গণমাধ্যম, নবায়নযোগ্য জ্বালানি (গ্রিন এনার্জি), মোংলা বন্দরের সম্প্রসারণ এবং চীনা অর্থনৈতিক অঞ্চলের মতো বিষয়গুলো নিয়ে হবে।
এ ছাড়া দেশ দুটি তিস্তা নদী ব্যবস্থাপনা প্রকল্প নিয়েও আলোচনা করবে এবং বাংলাদেশ চীনের ফ্ল্যাগশিপ উদ্যোগ গ্লোবাল ডেভেলপমেন্ট ইনিশিয়েটিভে যোগ দিতে পারে।
পররাষ্ট্রসচিব সিয়াম জানান, ২১-২২ জুন মালয়েশিয়া সফরকালে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান মালয়েশিয়ার প্রধানমন্ত্রী আনোয়ার ইব্রাহিমের সঙ্গে একান্ত বৈঠক এবং এরপর দ্বিপক্ষীয় আলোচনা করবেন।
মালয়েশিয়া সফরের প্রধান দিকগুলো হবে বন্ধ থাকা শ্রমবাজার পুনরায় চালু করা ও শ্রমিকদের কল্যাণ নিশ্চিত করা এবং দুটি গুরুত্বপূর্ণ দলিল সই করা—যার একটি সাংস্কৃতিক সহযোগিতা এবং অন্যটি মুক্ত বাণিজ্য চুক্তি সংক্রান্ত।
তিনি আরও বলেন, ঢাকা আসিয়ানের ‘সেক্টরাল ডায়ালগ পার্টনার’ হতে চাইবে এবং রিজিওনাল কমপ্রিহেনসিভ ইকোনমিক পার্টনারশিপে যোগ দেওয়ার বিষয়ে আগ্রহ প্রকাশ করবে।
আলোচনায় বাণিজ্য ও বিনিয়োগ সম্প্রসারণ, জ্বালানি সহযোগিতা, হালাল অর্থনীতি, সেমিকন্ডাক্টর শিল্প, কৃষি, শিক্ষা এবং দুই দেশের জনগণের মধ্যে যোগাযোগ বৃদ্ধির বিষয়গুলো অন্তর্ভুক্ত থাকবে বলে আশা করা হচ্ছে।
২২ জুন মালয়েশিয়ার প্রধানমন্ত্রী বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রীর সম্মানে একটি মধ্যাহ্নভোজের আয়োজন করবেন।
পররাষ্ট্রসচিব বলেন, আমরা বিশ্বাস করি এই সফর মালয়েশিয়ার সঙ্গে বিদ্যমান দ্বিপক্ষীয় ও অর্থনৈতিক সম্পর্ককে এক নতুন উচ্চতায় নিয়ে যেতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।
সেদিন সন্ধ্যায় তারেক রহমান ওয়ার্ল্ড ইকোনমিক ফোরামের বার্ষিক সভা সামার দাভোসে যোগ দিতে চীনের দালিয়ানে পৌঁছাবেন।
২৩ জুন তিনি ওয়ার্ল্ড ইকোনমিক ফোরামের প্রেসিডেন্ট ও প্রধান নির্বাহীর সঙ্গে সাক্ষাৎ করবেন এবং সম্মেলনের ফাঁকে কাজাখস্তান, মঙ্গোলিয়া ও দক্ষিণ কোরিয়ার নেতাদের সঙ্গে দ্বিপাক্ষিক বৈঠক করবেন।
সেদিন তারেক রহমান ‘ক্লাইমেট লিডারশিপ ইন শিফটিং গ্লোবাল ল্যান্ডস্কেপ’শীর্ষক অধিবেশনে প্রধান বক্তা হিসেবে ভাষণ দেবেন।
সন্ধ্যায় চীনের প্রধানমন্ত্রী লি কিয়াং আয়োজিত স্বাগত নৈশভোজে প্রধানমন্ত্রী যোগ দেবেন। ২৪ জুন প্রধানমন্ত্রী সামার দাভোসের ১৩তম বার্ষিক সভার উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে যোগ দেবেন এবং এরপর ট্রেনে করে বেইজিং যাবেন।
২৫ জুন প্রধানমন্ত্রী পৃথকভাবে চীনের কমিউনিস্ট পার্টির (সিপিসি) কেন্দ্রীয় কমিটির আন্তর্জাতিক বিভাগের মন্ত্রী এবং চায়না এক্সিম ব্যাংকের চেয়ারম্যানের সঙ্গে সাক্ষাৎ করবেন।
ওই দিনই তিনি ‘বাংলাদেশ ইনভেস্টমেন্ট ফোরাম’-এ ভাষণ দেবেন এবং ‘গ্রেট হল অব দ্য পিপল’-এ চীনা প্রিমিয়ার লি কিয়াংয়ের সঙ্গে বৈঠক করবেন। পরে তিনি রাষ্ট্রীয় ভোজসভায় অংশ নেবেন।
২৬ জুন ন্যাশনাল পিপলস কংগ্রেসের স্ট্যান্ডিং কমিটির চেয়ারম্যান ঝাউ লেজির সঙ্গে প্রধানমন্ত্রী সাক্ষাৎ করবেন। এরপর তারেক রহমান চীনের প্রেসিডেন্ট শি জিনপিংয়ের সঙ্গে দ্বিপক্ষীয় বৈঠক করবেন।
সিয়াম জানান, আলোচনায় দ্বিপক্ষীয় সম্পর্কের পাশাপাশি পারস্পরিক স্বার্থসংশ্লিষ্ট আঞ্চলিক ও বৈশ্বিক বিষয়গুলো স্থান পাবে। ওই দিনই ঢাকা ফেরার আগে প্রধানমন্ত্রী তিয়েনআনমেন স্কয়ারে বীর শহীদদের স্মৃতির প্রতি শ্রদ্ধা নিবেদন করবেন।
পড়ুন : আজ মালয়েশিয়া সফরে যাচ্ছেন প্রধানমন্ত্রী, বন্ধ শ্রমবাজারের দুয়ার কি খুলবে?


