বিজ্ঞাপন

ছোট দ্বীপের বড় শিক্ষা: মালদ্বীপ থেকে কী শিখবে বাংলাদেশ?

ভারত মহাসাগরের ছোট্ট দ্বীপরাষ্ট্র মালদ্বীপ-এর স্থলভাগের আয়তন মাত্র প্রায় ২৯৮ বর্গকিলোমিটার এবং জনসংখ্যা প্রায় সাড়ে পাঁচ লাখ। সীমিত ভৌগোলিক আয়তন ও জনসংখ্যা থাকা সত্ত্বেও দেশটি পর্যটন শিল্পকে কেন্দ্র করে বিশ্বের অন্যতম সফল অর্থনীতিতে পরিণত হয়েছে।

নীল সমুদ্র, সাদা বালুর সৈকত, প্রবালপ্রাচীর এবং বিলাসবহুল রিসোর্ট—এই চারটি উপাদানই বিশ্ব পর্যটনের মানচিত্রে মালদ্বীপকে একটি অনন্য অবস্থানে নিয়ে গেছে। পর্যটন খাত থেকে দেশটির জাতীয় আয়ের বড় একটি অংশ আসে, যা কর্মসংস্থান ও বৈদেশিক মুদ্রা অর্জনেও গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখছে।

পর্যটন বিশেষজ্ঞদের মতে, প্রাকৃতিক সৌন্দর্যকে কেন্দ্র করে পরিকল্পিত উন্নয়ন, আন্তর্জাতিক মানের অবকাঠামো এবং কার্যকর ব্র্যান্ডিংয়ের

দ্বীপভিত্তিক দেশ হওয়ায় মালদ্বীপের যোগাযোগ ব্যবস্থায় জেটির গুরুত্ব অত্যন্ত বেশি। রাজধানী মালে এবং আশপাশের দ্বীপগুলোতে অসংখ্য জেটি ও নৌঘাট রয়েছে, যেগুলো দিয়ে প্রতিদিন হাজারো মানুষ ও পর্যটক যাতায়াত করেন।

জেটিতে দাঁড়িয়ে চারপাশের নীল জলরাশি, সারিবদ্ধ নৌযান এবং দূরের দ্বীপগুলোর দৃশ্য পর্যটকদের জন্য বাড়তি আকর্ষণ তৈরি করে। স্থানীয়দের মতে, সড়কের চেয়ে সমুদ্রপথই এখানে অধিক কার্যকর ও সহজ যোগাযোগ ব্যবস্থা।

মালদ্বীপের রাজধানী মালে পা রাখতেই প্রথম যে বিষয়টি চোখে পড়ে, তা হলো সীমিত জায়গার মধ্যে গড়ে ওঠা একটি ব্যস্ত, পরিচ্ছন্ন ও সুশৃঙ্খল নগরজীবন।

মালদ্বীপ ইসলামিক সেন্টার-এর সুবিশাল সোনালি গম্বুজ, যা দূর থেকেই নজর কাড়ে। ধর্মীয় ও স্থাপত্যগত গুরুত্বের কারণে এটি পর্যটকদের কাছে জনপ্রিয় একটি স্থান। ইতিহাস ও সংস্কৃতির প্রতি আগ্রহীদের জন্য রয়েছে ন্যাশনাল মিউজিয়াম, যেখানে মালদ্বীপের রাজকীয় ইতিহাস, ঐতিহ্য এবং বিভিন্ন প্রত্নতাত্ত্বিক নিদর্শন সংরক্ষিত আছে।

মালদ্বীপে প্রায় এক হাজারের বেশি ছোট-বড় দ্বীপ রয়েছে, যার মধ্যে অনেকগুলোকে পর্যটনকেন্দ্রিক রিসোর্টে রূপান্তর করা হয়েছে। মূলত পর্যটকদের আকর্ষণ ছড়িয়ে রয়েছে বিভিন্ন অ্যাটল ও দ্বীপজুড়ে।

মালদ্বীপে বেড়াতে আসা অনেক বিদেশি পর্যটকের মতে, দেশটির সবচেয়ে বড় আকর্ষণ হলো এর নির্মল সমুদ্র, শান্ত পরিবেশ এবং প্রাকৃতিক সৌন্দর্য। তারা বলছেন, শুধু সমুদ্র নয়, পুরো পর্যটন ব্যবস্থাপনাই খুব গোছানো। বিমানবন্দর থেকে রিসোর্ট পর্যন্ত যাতায়াত, নিরাপত্তা এবং সেবার মান আন্তর্জাতিক পর্যায়ের।

অন্যদিকে মালদ্বীপে বেড়াতে আসা বাংলাদেশি পর্যটকরা অনেকটাই আক্ষেপ করে বলেন, বিশ্বের দীর্ঘতম সমুদ্রসৈকত ককসবাজার সমুদ্র সৈকত, প্রবাল দ্বীপ সেন্টমার্টিন, বিশ্বের বৃহত্তম ম্যানগ্রোভ বন সুন্দরবন এবং পার্বত্য অঞ্চলের প্রাকৃতিক সৌন্দর্য থাকা সত্ত্বেও পরিকল্পনা ও সুস্পষ্ট নীতির অভাবে বাংলাদেশ পর্যটন খাতে পিছিয়ে রয়েছে।

তাদের মতে, বাংলাদেশের প্রাকৃতিক সম্পদ ও পর্যটন সম্ভাবনা মালদ্বীপের তুলনায় অনেক বেশি বৈচিত্র্যময়। প্রয়োজন শুধু দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনা, কার্যকর ব্যবস্থাপনা, আন্তর্জাতিক মানের সেবা এবং পর্যটনবান্ধব পরিবেশ নিশ্চিত করা।

বিজ্ঞাপন

পড়ুন : সিলেটের ডিসি সারওয়ার আলমকে প্রত্যাহার

বিজ্ঞাপন

আরও পড়ুন

বিজ্ঞাপন

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here

This site uses Akismet to reduce spam. Learn how your comment data is processed.

বিশেষ প্রতিবেদন