দীর্ঘদিন ধরে জেলা ভেটেরিনারি সার্জনের পদ কার্যত শূন্য থাকায় সিরাজগঞ্জ জেলা ভেটেরিনারি হাসপাতালে কাঙ্ক্ষিত চিকিৎসাসেবা ব্যাহত হচ্ছে বলে অভিযোগ উঠেছে। খামারি ও সেবাগ্রহীতাদের দাবি, দায়িত্বপ্রাপ্ত জেলা ভেটেরিনারি সার্জন ডেপুটেশনে গাজীপুরে কর্মরত থাকায় জেলার প্রাণিসম্পদ খাতে গুরুত্বপূর্ণ চিকিৎসাসেবা থেকে বঞ্চিত হচ্ছেন তারা।
জানা গেছে, জেলা ভেটেরিনারি সার্জন মো. মোখলেছুর রহমান ২০২২ সালের ২০ ডিসেম্বর সিরাজগঞ্জে যোগদান করলেও শুরু থেকেই ডেপুটেশনে গাজীপুরে অবস্থান করছেন। ফলে দীর্ঘদিন ধরে সিরাজগঞ্জ জেলা ভেটেরিনারি হাসপাতালের কার্যক্রম সীমিত জনবল দিয়ে পরিচালিত হচ্ছে। প্রথম শ্রেণির এ হাসপাতালে বর্তমানে উপসহকারী প্রাণিসম্পদ কর্মকর্তা ও অ্যাটেনডেন্টদের মাধ্যমে অধিকাংশ চিকিৎসাসেবা প্রদান করা হচ্ছে।
খামারিদের অভিযোগ, জেলা ভেটেরিনারি সার্জনের অনুপস্থিতির কারণে আল্ট্রাসনোগ্রাম, এক্স-রে, বিভিন্ন রোগ নির্ণয় পরীক্ষা এবং বিশেষায়িত চিকিৎসাসেবার ক্ষেত্রে চরম দুর্ভোগ পোহাতে হচ্ছে। অনেক সময় রোগাক্রান্ত পশুর যথাযথ চিকিৎসা না পেয়ে ক্ষতির মুখে পড়ছেন খামারিরা।
চিকিৎসা নিতে আসা খামারি আব্দুল রহিম বলেন, এখানে বড় কোনো ডাক্তার পাই না। কম্পাউন্ডারি ধরনের চিকিৎসা দিয়ে ওষুধ লিখে দেওয়া হয়। আমরা কখনো জেলা ভেটেরিনারি সার্জনের সেবা পাইনি।
স্থানীয়দের অভিযোগ, চিকিৎসকের অভাব ও পর্যাপ্ত তদারকি না থাকায় কিছুদিন আগে ভুল চিকিৎসার কারণে একটি ছাগলের মৃত্যু হয়েছে। তবে এ অভিযোগ অস্বীকার করে উপসহকারী প্রাণিসম্পদ কর্মকর্তা বলেন, আমার মনে নেই। এখানে কোনো ছাগল মারা যায়নি। মানুষও তো হার্টফেল করে মারা যায়। আমার সাধ্যের মধ্যে আমি সর্বোচ্চ চিকিৎসাসেবা দেওয়ার চেষ্টা করি।
এদিকে, জেলা ভেটেরিনারি হাসপাতালের পক্ষ থেকে একাধিকবার সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের কাছে বিষয়টি তুলে ধরা হয়েছে। হাসপাতালের কর্মকর্তা ডা. তাপস কান্তি দত্ত জানান, জেলা ভেটেরিনারি সার্জনের দীর্ঘ অনুপস্থিতির কারণে জেলার প্রাণিসম্পদ চিকিৎসা ও সেবামূলক কার্যক্রম ব্যাহত হচ্ছে। তিনি ২০২৪ সালের ২৪ নভেম্বর ১৩১ নম্বর স্মারকে প্রথম আবেদন করেন। পরবর্তীতে ২০২৫ সালের ৩০ জুলাই ১৬ নম্বর স্মারকে দ্বিতীয়বার আবেদন করে সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তার ডেপুটেশন বাতিল অথবা সিরাজগঞ্জে নতুন জেলা ভেটেরিনারি সার্জন পদায়নের দাবি জানান।
ডা. তাপস কান্তি দত্ত বলেন, সিরাজগঞ্জে জেলা ভেটেরিনারি সার্জনের পদে কার্যকর উপস্থিতি নিশ্চিত করা জরুরি। ডেপুটেশন বাতিল করা হলে তিনি এখানে দায়িত্ব পালন করতে পারবেন, অন্যথায় পদটি শূন্য ঘোষণা করে নতুন কর্মকর্তা নিয়োগ দেওয়া প্রয়োজন।
এ বিষয়ে জেলা প্রাণিসম্পদ কর্মকর্তা ডা. এ.কে.এম. আনোয়ারুল হক বলেন, কর্তৃপক্ষের সিদ্ধান্তেই তিনি বর্তমানে গাজীপুরে কর্মরত আছেন। তাকে কোথায় রাখা হবে, সেটি সম্পূর্ণভাবে ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের বিষয়। তবে সিরাজগঞ্জে প্রাণিসম্পদ খাতের গুরুত্ব বিবেচনায় তার ডেপুটেশন বাতিলের জন্য দুই দফা চিঠি পাঠানো হয়েছে।
সংশ্লিষ্টদের মতে, সিরাজগঞ্জ জেলায় গবাদিপশু পালন ও দুগ্ধ উৎপাদন ব্যাপক হওয়ায় প্রাণিসম্পদ খাতে বিশেষায়িত চিকিৎসাসেবা নিশ্চিত করা অত্যন্ত জরুরি। তাই দ্রুত জেলা ভেটেরিনারি সার্জনের পদে দায়িত্বশীল কর্মকর্তা নিয়োগ অথবা বর্তমান কর্মকর্তার ডেপুটেশন বাতিল করে সিরাজগঞ্জে পদায়নের দাবি জানিয়েছেন খামারি, সেবাগ্রহীতা ও সচেতন মহল।
পড়ুন- আজ মালয়েশিয়া সফরে যাচ্ছেন প্রধানমন্ত্রী, বন্ধ শ্রমবাজারের দুয়ার কি খুলবে?


