দেশের চা শিল্পে অবদানের স্বীকৃতি দিতে জাঁকজমকপূর্ণ আয়োজনের মধ্য দিয়ে মৌলভীবাজারের শ্রীমঙ্গলে উদযাপিত হলো ৬ষ্ঠ জাতীয় চা দিবস। এ উপলক্ষ্যে উৎপাদন, গুণগত মান, রপ্তানি, বাজারজাতকরণসহ বিভিন্ন ক্যাটাগরিতে দেশের শীর্ষ চা বাগান, প্রতিষ্ঠান ও ব্যক্তিদের দেয়া হয় -জাতীয় চা পুরস্কার ২০২৬।
‘চা শিল্পের উন্নতি, সবুজ হোক অর্থনীতি’ প্রতিপাদ্যে বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের পৃষ্ঠপোষকতায় বাংলাদেশ চা বোর্ড এর উদ্যোগে শনিবার দিনব্যাপি শ্রীমঙ্গল অডিটোরিয়াম কাম মাল্টিপারপাস হলে এ উপলক্ষে আলোচনা সভা ও বিভিন্ন কর্মসূচির আয়োজন করা হয়। পায়রা ও বেলুন উড়িয়ে এর উদ্বোধন করেন প্রধান অতিথি মৌলভীবাজার-৪ আসনের সংসদ সদস্য মুজিবুর রহমান চৌধুরী।
উদ্বোধনীর পর চা শিল্পবিষয়ক ডকুমেন্টারি প্রদর্শন এবং আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত হয়, বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের সচিব মো: আতাউর রহমান খানের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে স্বাগত বক্তব্য দেন বাংলাদেশ চা বোর্ডের চেয়ারম্যান মেজর জেনারেল মো: মেসবাহ উদ্দিন আহমেদ। অনুষ্ঠানে আরও বক্তব্য রাখেন বাংলাদেশীয় চা সংসদের সভাপতি কামরান টি রহমান, টি ট্রেডার্স অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশের সভাপতি শাহ মঈনুদ্দিন হাসান, টি প্ল্যান্টার্স অ্যান্ড ট্রেডার্স অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশের ভারপ্রাপ্ত সভাপতি সিরাজুল ইসলাম চৌধুরী, বাংলাদেশ চা শ্রমিক ইউনিয়নের ভারপ্রাপ্ত সাধারণ সম্পাদক নৃপেন পাল, বাংলাদেশ বটলিফ টি ফ্যাক্টরি ওনার্স অ্যাসোসিয়েশনের সভাপতি মো. নিয়াজ আলী চিশতী এবং চা শ্রমিক নেত্রী সনতকি রায়।
এ আয়োজনে দেশের চা শিল্পে বিশেষ অবদানের স্বীকৃতি স্বরূপ আটটি ক্যাটাগরিতে দেশের শীর্ষ চা বাগান, প্রতিষ্ঠান ও ব্যক্তিদের পুরস্কৃত করা হয়। পাশাপাশি চলতি বছর প্রথমবারের মতো শ্রেষ্ঠ বটলিফ চা কারখানা ক্যাটাগরিতে বিশেষ পুরস্কার দেওয়া হয়। সর্বোচ্চ উৎপাদনের জন্য গোবিন্দপুর চা বাগান, গুণগত মানসম্পন্ন চা উৎপাদনে মধুপুর চা বাগান, শ্রেষ্ঠ চা রপ্তানিকারক হিসেবে দ্য কনসলিডেটেড টি অ্যান্ড ল্যান্ডস কোম্পানি, শ্রেষ্ঠ ক্ষুদ্রায়ন মো: মতিউর রহমান, শ্রেষ্ঠ বাগান হিসেবে মির্জাপুর চা বাগান, দৃষ্টিনন্দন ও মানসম্পন্ন মোড়ক এবং বৈচিত্রময় চা পণ্য বাজারজাতকরণের জন্য কাজী অ্যান্ড কাজী টি এস্টেট, শেষ্ঠ চা পাতা চয়নকারী (চা উত্তোলন) হিসেবে শ্রমিক জেসমিন আক্তারকে সম্মাননা দেওয়া হয়। এছাড়া সুপ্রিম টি লিমিটেডকে শ্রেষ্ঠ বটলিফ পুরস্কার প্রদান করা হয়।
দিনব্যাপি চা মেলার এ আয়োজনে মোট ৬টি প্রতিষ্ঠিান তাদের স্টলে নানা জাতের চা প্রদর্শন করে, চা নিলামের কেন্দ্রকে আর গতিশিল করার উদ্যোগ গ্রহনের দাবি জানিয়ে দেশের চা-শিল্পের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট সব পক্ষকে নিয়ে এ শিল্প এগিয়ে যাবে এমন প্রত্যাশা রাখেন চা দিবসে আগত সবাই।
পড়ুন : তথ্যদাতাদের নিরাপত্তায় কঠোর বার্তা দেওয়ায়, প্রত্যাহার কেএমপি কর্মকর্তা


