বিজ্ঞাপন

পাংশায় শিক্ষক ও সভাপতির দুর্নীতির বিরুদ্ধে মানববন্ধন করতে দিলো না প্রভাবশালীরা

রাজবাড়ীর পাংশা উপজেলার মৌরাট ইউনিয়নের পুঁইজোর আশুরহাট গোলাবাড়ী মুছিদাহ উচ্চ বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক ইয়াকুব আলী ও সাবেক সভাপতি ইউনুস হোসাইনের বিরুদ্ধে বিভিন্ন অনিয়ম ও দুর্নীতির অভিযোগে মানববন্ধন বাঁধা প্রদান করে ব্যানার কেড়ে নিয়ে পন্ড করে দিয়েছে স্থানীয় প্রভাবশালীরা এ ঘটনায় তীব্র সমালোচনার ঝড় বইছে।

সরেজমিন, রোববার দুপুরে গিয়ে জানা গেছে- পাংশার পুঁইজোর আশুরহাট গোলাবাড়ী মুছিদাহ উচ্চ বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক ইয়াকুব আলী ও সাবেক সভাপতি ইউনুস হোসাইনের বিরুদ্ধে বিভিন্ন অনিয়ম ও দুর্নীতির অভিযোগে মানববন্ধনের জন্য এলাকায় গত দুইদিন ধরে মাইকিং করে প্রচার করেন ইমন হাসান রনি নামে ওই স্কুলের সাবেক একজন শিক্ষার্থী। তার পরিবার ওই স্কুলে জমিও দানও করেছিলেন।

রোববার (২১ জুন) সকালে ওই স্কুলের সামনে মানববন্ধন হওয়ার কথা থাকলে বেলা ১১টার দিকে রনি ও এলাকার কিছু স্থানীয় মানুষ এবং স্কুলের সাবেক কয়েকজন শিক্ষার্থী মানববন্ধনে অংশ নেওয়ার জন্য সেখানে আসেন। এসময় মৌরাট ইউনিয়ন যুবদলের সাবেক সাধারণ সম্পাদক জাহাঙ্গীর হোসেন ও সাবেক বিএনপি নেতা আজমল হক তাদেরকে সেখান থেকে তাড়িয়ে দেন এবং রনিকে মানববন্ধন না করার জন্য নিষেধ করেন। তারপরও রনি সেখানে মানববন্ধন করতে চাইলে তাদের সাথে বাক বিতন্ডা হয়। এক পর্যায়ে গণমাধ্যম কর্মীদের সামনেই মানববন্ধনের জন্য আনা ব্যানার জোরপূর্বক গুটিয়ে ফেলে তা পন্ড করে দেন।

ইমন হাসান রনি জানান-১৯৮৩ সালে আমার বাপ চাচারা এই শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে জমি দান করে বিদ্যালয়টি প্রতিষ্ঠা করেন। এরপর ২০২২/২৩ সালে বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক ইয়াকুব আলী এবং ওই সময়ের সভাপতি ইউনুস হোসাইন যোগসাজস করে বিদ্যালয়ের জমি বিক্রি করে দেন। এছাড়া প্রধান শিক্ষক ইউনুস হোসাইনকে বেআইনীভাবে মিথ্যা ও ভুয়া অবৈধ দাতা সদস্য হিসেবে নিয়োগ দেন। এছাড়াও বিদ্যালয়ের ৪৭শতাংশ জমিতে রোপনকৃত ২৭টি মেহগনি গাছ কেটে বিক্রি করেন তারা। তারা নিজেদের মধ্যে ভাগাভাগি করে নেন। উল্লেখিত বিষয়ে ইতোপূর্বে তিনি জেলা প্রশাসক ও পাংশা উপজেলা নির্বাহী অফিসারের কাছে পৃথক দুইটি লিখিত অভিযোগ দায়ের করেছেন। এসব বিষয় নিয়ে তিনি রোববার সকালে এলাকার লোকজনকে সাথে নিয়ে মানববন্ধন করতে গেলে তাকে জোর পূর্বক বাঁধা দিয়ে মানববন্ধন পন্ড করে দেওয়া হয়। এ ঘটনায় তিনি তীব্র নিন্দা ও ক্ষোভ প্রকাশ করেন।

ওই স্কুলের প্রাক্তণ ছাত্র ও ইসলামী আরবী বিশ্ববিদ্যালয়ের কর্মরত ফজলুর রহমান বলেন, এখানে যদি দুর্নীতি না- হয়েই থাকে তাহলে জনগণকে বুঝিয়ে দেন এখানে কোন দুর্নীতি হচ্ছে না বা হয়নি। তাহলে পাবলিক সেটা বুঝে যাবে। কিন্তু সেটা না করে রাস্তায় পাবলিককে আটকিয়ে মানববন্ধন করতে না দেওয়া এটা আমার কাছে ভালো মনে হয়নি।

আব্দুস সালাম নামে ওই বিদ্যালয়ের এক অভিভাবক বলেন, আমি শুনেছি বিদ্যালয়ের জমি বিক্রি করা হয়েছে। কিন্তু আমার কাছে কোন প্রমান নেই। এলাকায় মানববন্ধন করার জন্য মাইকিংও করা হয়েছে। এখানে এসে শুনলাম মানববন্ধন করতে দেওয়া হয়নি।অনিয়ম কি জিনিস সেটা এ পর্যন্ত আমার নলেজেই আসেনি। আর যদি অনিয়ম হয় তাহলে আমরা এলাকাবাসী সবাই বসবো, বলবো এটা অনিয়ম হচ্ছে। আপনারাও বিষয়টি দেখেন। এরকম কিছুই না। আমরা জানলাম না, শুনলাম, কে বা কারা আপনাদের (সাংবাদিকদের) ডেকে এনেছে। এখানে যা অনিয়ম ও যা কিছু হচ্ছে তা রনিই করছে।মানববন্ধন বন্ধ করার বিষয়ে তিনি বলেন, আমি রনিকে বলেছিলাম আজকে মানববন্ধন করার দরকার নেই। মানববন্ধন যদি করাই লাগে পরে কইরো। আমরা বসি, আলোচনা করে সমাধান করি। কিন্তু সে কথা শুনে নাই দেখেই মানববন্ধন বন্ধ করে দেওয়া হয়েছে।

মৌরাট ইউনিয়ন যুবদলের সাবেক সাধারণ সম্পাদক জাহাঙ্গীর হোসেন বলেন, আমি শুনেছি মানববন্ধন করার জন্য রনি মাইকিং করেছে।এলাকার বড় ভাইয়েরাও এসেছে। এখানে বিশৃংখলা হতে পারে। তাই আমি নিষেধ ছেলেদের সরে যেতে বলেছি।

পুঁইজোর আশুরহাট গোলাবাড়ী মুছিদাহ উচ্চ বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক ইয়াকুব আলী বলেন, বিদ্যালয়ের জমি কোন প্রধান শিক্ষক বিক্রি করতে পারে কিনা তা আমার আমার জানা নেই। আমি কোন জমি বিক্রি করিও নাই। আমার বিরুদ্ধে যেসব অভিযোগ করা হয়েছে তা সবই মিথ্যা। মানববন্ধনে বাঁধা দেওয়া হয়েছে কিনা সেটা আমি জানি না। কারণ ওই সময়ে আমি বিদ্যালয়ে ছিলাম না। ইউএনও মহোদয় তার অফিসে আমাকে ডেকে ছিলেন আমি সেখানে গিয়েছিলাম। আপনাদের ফোন পেয়েই আমি চলে এসেছি।

এ বিষয়ে পাংশা উপজেলা নির্বাহী অফিসার মোঃ রিফাতুল হক বলেন, ওই বিদ্যালয়ের বর্তমান যিনি সভাপতি হিসেবে দায়িত্বে রয়েছেন তার কাছ থেকে জানতে পেরেছি আজকে একটি মানববন্ধন হওয়ার সম্ভবনা রয়েছে। সে কারণে প্রধান শিক্ষককে আমি আমার অফিসে ডেকে এনেছিলাম বিষয়টি শোনার জন্য। তিনি আরো বলেন, ইতোপূর্বে বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক ইয়াকুব আলী ও সাবেক সভাপতি ইউনুস হোসাইনের বিরুদ্ধে ইমন হাসান রনি নামে একজন লিখিত অভিযোগ করেছিলেন সেটি উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা কর্মকর্তাকে তদন্ত করার জন্য বলা হয়েছিলো।তবে তদন্তে দুর্নীতির প্রমান পেলে তাদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

বিজ্ঞাপন

পড়ুন : ঝিনাইদহ সাংবাদিকদের সাথে নবাগত পুলিশ সুপারের মতবিনিময়

বিজ্ঞাপন

আরও পড়ুন

বিজ্ঞাপন

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here

This site uses Akismet to reduce spam. Learn how your comment data is processed.

বিশেষ প্রতিবেদন