নিজ দল লেবার পার্টি এবং মন্ত্রিসভার সদস্যদের চাপের মুখে পদত্যাগের ঘোষণা দিয়েছেন যুক্তরাজ্যের প্রধানমন্ত্রী কিয়ার স্টারমার। নির্বাচনে জয়ের দুই বছর পূর্ণ হওয়ার আগেই নিজের দলীয় এমপিদের কাছ থেকে পদত্যাগের সময়সূচি নির্ধারণের দাবির মুখে পড়েন তিনি। আগামী সাধারণ নির্বাচনের আগে নাইজেল ফারাগের দলের উত্থানের আশঙ্কায় লেবারের অনেক এমপি উদ্বিগ্ন হয়ে পড়েছিলেন।
গত শুক্রবার (১৯ জুন) পর্যন্ত স্টারমার জোর দিয়ে বলেছিলেন, নেতৃত্ব নিয়ে যেকোনও চ্যালেঞ্জের মোকাবিলা করবেন। তবে সপ্তাহান্তে মন্ত্রীদের সঙ্গে আলোচনা এবং চেকার্সে স্ত্রী ভিক্টোরিয়ার সঙ্গে কিছু সময় কাটানোর পর পদত্যাগের সিদ্ধান্তে পৌঁছেছেন তিনি।
মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডনাল্ড ট্রাম্পের কথাই সত্য হলো। রোববার (২১ জুন) সকালে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে দেয়া এক পোস্টে ট্রাম্প বলেন, ‘যুক্তরাজ্যের প্রধানমন্ত্রী কিয়ার স্টারমার পদত্যাগ করবেন। তিনি দুটি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ বিষয়ে ব্যর্থ হয়েছেন—অভিবাসন এবং জ্বালানি নীতি (নর্থ সি-তে তেল উত্তোলন চালু করুন!)। আমি তার মঙ্গল কামনা করি।’
ট্রাম্পের এই দাবির একদিনেরও কম সময়ের মধ্যে পদত্যাগের ঘোষণা দিলেন স্টারমার। প্রতিবেদন মতে, আজ সোমবার (২২ জুন) আনুষ্ঠানিকভাবে পদত্যাগের ঘোষণা দিয়েছেন কিয়ার স্টারমার। ডাউনিং স্ট্রিটের বাইরে দেওয়া এক বক্তব্যে তিনি জানান, তিনি লেবার পার্টির নেতৃত্ব ছেড়ে দেবেন এবং সেপ্টেম্বরের মধ্যে নতুন নেতা ও প্রধানমন্ত্রী দায়িত্ব গ্রহণ করবেন।
স্টারমার বলেন, ‘আমি লেবার পার্টির নেতা হিসেবে পদত্যাগ করব।’ তিনি আরও জানান, ক্ষমতা হস্তান্তরের প্রক্রিয়া সুশৃঙ্খলভাবে সম্পন্ন করতে তিনি আগামী কয়েক মাস দায়িত্বে থাকবেন এবং সংসদ পুনরায় বসার আগেই নতুন নেতৃত্ব নির্বাচিত হবে।
২০২৪ সালের সাধারণ নির্বাচনে বড় জয়ের মাধ্যমে ক্ষমতায় আসা স্টারমার গত কয়েক মাস ধরে দলীয় অসন্তোষ, অর্থনৈতিক চাপ এবং জনসমর্থন হ্রাসের মুখে ছিলেন। স্থানীয় নির্বাচনে লেবারের খারাপ ফলাফল এবং দলীয় অভ্যন্তরে নেতৃত্ব পরিবর্তনের দাবি জোরালো হওয়ার পর তার ওপর চাপ আরও বেড়ে যায়।
ব্রিটিশ গণমাধ্যমের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, চলতি সপ্তাহে গুরুত্বপূর্ণ উপনির্বাচনে জয়ী গ্রেটার ম্যানচেস্টারের মেয়র অ্যান্ডি বার্নহ্যাম বর্তমানে স্টারমারের সম্ভাব্য উত্তরসূরি হিসেবে সবচেয়ে আলোচিত নাম। তবে নেতৃত্ব নির্বাচনে অন্য প্রার্থীরাও অংশ নিতে পারেন।
স্টারমারের এই সিদ্ধান্ত যুক্তরাজ্যের রাজনীতিতে নতুন অনিশ্চয়তার সৃষ্টি করলেও লেবার পার্টি দ্রুত নতুন নেতৃত্ব নির্বাচন করে সরকারের ধারাবাহিকতা বজায় রাখতে চায়। সেপ্টেম্বরে পার্লামেন্ট অধিবেশন শুরুর আগেই নতুন প্রধানমন্ত্রী দায়িত্ব নেবেন বলে আশা করা হচ্ছে।
পড়ুন : যুক্তরাষ্ট্র-ইরান চুক্তির রোডম্যাপ, নতুন সমীকরণের কেন্দ্রে লেবানন


