বিশ্বকাপের মঞ্চে নরওয়ের সাফল্যের গল্প খুব বেশি দীর্ঘ নয়। এবারের আসরের আগে মাত্র তিনবার বিশ্বকাপে খেলেছিল দলটি। সর্বশেষ ১৯৯৮ বিশ্বকাপে নকআউট পর্বে জায়গা করে নিয়েছিল তারা। এরপর দীর্ঘ ২৮ বছর বিশ্বকাপের নকআউট পর্ব ছিল অধরাই। অবশেষে সেই অপেক্ষার অবসান ঘটাল আর্লিং হালান্ডের নরওয়ে।
হালান্ডের জোড়া গোলে সেনেগালকে ৩-২ ব্যবধানে হারিয়ে গ্রুপ পর্বের দ্বিতীয় ম্যাচেই শেষ ষোলোর টিকিট নিশ্চিত করেছে নরওয়ে। টানা দুই জয়ে ৬ পয়েন্ট নিয়ে নকআউটে নিজেদের জায়গা পাকা করেছে দলটি।
ম্যাচের শুরু থেকেই আক্রমণাত্মক ফুটবল খেললেও প্রথম গোলের জন্য অপেক্ষা করতে হয় ৪৩তম মিনিট পর্যন্ত। পেদেরসেনের গোলে এগিয়ে যায় নরওয়ে। সেই ১-০ ব্যবধান নিয়েই বিরতিতে যায় দলটি।
বিরতির পর ম্যাচ আরও প্রাণবন্ত হয়ে ওঠে। ৪৮তম মিনিটে ব্যবধান দ্বিগুণ করেন আর্লিং হালান্ড। তবে নরওয়ের সেই স্বস্তি বেশিক্ষণ স্থায়ী হয়নি। মাত্র পাঁচ মিনিট ১১ সেকেন্ড পর ইসমাইলা সারের গোলে ম্যাচে ফেরার ইঙ্গিত দেয় সেনেগাল।
তবে প্রতিপক্ষকে আর বেশি সুযোগ দেননি হালান্ড। বের্গের ক্রস থেকে বল পেয়ে নিজের দ্বিতীয় গোলটি করেন তিনি। তার সেই গোলে আবারও দুই গোলের ব্যবধান গড়ে তোলে নরওয়ে। স্কোরলাইন দাঁড়ায় ৩-১।
তবু লড়াই ছাড়েনি সেনেগাল। যোগ করা সময়ে বক্সের ভেতর থেকে নিজের দ্বিতীয় গোলটি করেন ইসমাইলা সার। ব্যবধান কমে ৩-২ হলেও শেষ পর্যন্ত সমতায় ফিরতে পারেনি আফ্রিকার দলটি। সময় ফুরিয়ে যাওয়ার সঙ্গে সঙ্গে নিশ্চিত হয় নরওয়ের জয়।
ম্যাচে হালান্ডের গোলসংখ্যা আরও বাড়তে পারত। প্রথমার্ধের ৩৫তম মিনিটে তার জোরালো শট অসাধারণ দক্ষতায় রুখে দেন সেনেগালের গোলরক্ষক এদুয়ার মেন্দি। তবে শেষ পর্যন্ত নরওয়েজিয়ান এই তারকাকে থামিয়ে রাখা সম্ভব হয়নি।
এই জয়ে গ্রুপ ‘আই’-তে নিজেদের অবস্থান আরও শক্তিশালী করেছে নরওয়ে। এর আগে প্রথম ম্যাচে ইরাককে ৪-১ গোলে হারিয়েছিল তারা। দুই ম্যাচে পূর্ণ ৬ পয়েন্ট নিয়ে ২৮ বছর পর আবারও বিশ্বকাপের নকআউট পর্বে জায়গা করে নিল হালান্ডের দল।
পড়ুন: এমবাপ্পের জোড়া গোলে ইরাককে উড়িয়ে দিল ফ্রান্স
আর/


