গাজীপুরের কালিয়াকৈর উপজেলার কুয়ারচালা বারেক মার্কেট এলাকায় পাগলা শিয়ালের কামড়ে নারী-শিশুসহ অন্তত ২০ জন আহত হয়েছেন।
সোমবার (২২ জুন) রাত সাড়ে ৮টার দিকে এ ঘটনা ঘটে। আহতদের মধ্যে কয়েকজনকে উদ্ধার করে গাজীপুর সদর হাসপাতাল ও স্থানীয় বিভিন্ন ক্লিনিকে ভর্তি করা হয়েছে। ঘটনার পর থেকে এলাকায় আতঙ্ক বিরাজ করছে।
স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, সোমবার রাত সাড়ে ৮টার দিকে একটি শিয়াল হঠাৎ করে কুয়ারচালা এলাকার একটি বসতবাড়িতে প্রবেশ করে।
প্রথমে হালিমা আক্তারকে কামড়ে আহত করার পর শিয়ালটি আশপাশের বাড়িঘরে ঢুকে একের পর এক লোকজনকে আক্রমণ করতে থাকে। এতে হাসান মিয়া, শাওন, বিলকিস বেগম, মোরশেদা বেগম, হালিমা আক্তার, টিপু মিয়াসহ অন্তত ২০ জন আহত হন।
ঘটনার সময় এলাকাবাসীর চিৎকার-চেঁচামেচিতে শিয়ালটি বিভিন্ন দিকে ছোটাছুটি করে পালিয়ে যায়। তবে মঙ্গলবার পর্যন্ত শিয়ালটিকে ধরা সম্ভব হয়নি বলে জানিয়েছেন স্থানীয়রা। ফলে পুরো এলাকায় আতঙ্ক বিরাজ করছে।
আহতদের মধ্যে কয়েকজনকে গাজীপুর সদর হাসপাতাল ও স্থানীয় ক্লিনিকে চিকিৎসা দেওয়া হচ্ছে। চিকিৎসকদের পরামর্শ অনুযায়ী আক্রান্তদের জলাতঙ্ক (রেবিস) প্রতিরোধী টিকা গ্রহণের ব্যবস্থা করা হয়েছে।
স্থানীয় বাসিন্দা জামিরুল ইসলাম বলেন, “হঠাৎ করেই একটি পাগলা শিয়াল গ্রামের মধ্যে ঢুকে পড়ে এবং নারী-পুরুষসহ অন্তত ২০ জনকে কামড়ে আহত করে। শিয়ালটি এখনও এলাকায় ঘোরাফেরা করছে বলে মানুষ আতঙ্কে রয়েছে।”
মৌচাক পুলিশ ফাঁড়ির ইনচার্জ শামিম আক্তার বলেন, “খবর পেয়ে ঘটনাস্থলের বিষয়ে খোঁজখবর নেওয়া হয়েছে। আহতদের দ্রুত চিকিৎসা গ্রহণের পরামর্শ দেওয়া হয়েছে। একই সঙ্গে স্থানীয়দের সতর্ক থাকতে বলা হয়েছে।”
বন বিভাগের সহকারী বন সংরক্ষক শহিদুল হাসান শাকিল বলেন, “ঘটনার বিষয়ে আমরা অবগত হয়েছি। শিয়ালটিকে শনাক্ত ও নিয়ন্ত্রণে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে। বন্য প্রাণী দেখলে কেউ যেন নিজ উদ্যোগে ধরার চেষ্টা না করেন, বরং সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে অবহিত করেন।”
উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) এ এইচ এম ফকরুল হোসাইন বলেন, “পাগলা শিয়ালের কামড়ে একাধিক ব্যক্তি আহত হওয়ার বিষয়টি প্রশাসনের নজরে এসেছে। আহতদের দ্রুত চিকিৎসা নিশ্চিত করতে প্রয়োজনীয় নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। বন বিভাগ ও সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের সঙ্গে সমন্বয় করে শিয়ালটিকে শনাক্ত ও নিয়ন্ত্রণে আনার উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে। এলাকাবাসীকে আতঙ্কিত না হয়ে সতর্ক থাকার এবং কোনো বন্য প্রাণী দেখলে প্রশাসনকে অবহিত করার আহ্বান জানানো হচ্ছে।”
এদিকে গ্রামবাসীরা শিয়ালটিকে দ্রুত আটক ও নিয়ন্ত্রণে আনতে প্রশাসন ও বন বিভাগের জরুরি হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন। তাদের আশঙ্কা, শিয়ালটি এলাকায় অবস্থান করলে আরও মানুষ আক্রান্ত হতে পারে। স্থানীয়দের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে দ্রুত কার্যকর পদক্ষেপ গ্রহণের দাবি জানিয়েছেন তারা।
পড়ুন: বৈশ্বিক তেল বাজারের ভবিষ্যৎ নির্ধারণে চীনের প্রভাব বাড়ছে: সিএনএন
আর/


