বিজ্ঞাপন

ইরান যুদ্ধ নিয়ে ট্রাম্পকে ভর্ৎসনা, সিনেটে ৫০-৪৮ ভোটে পাস প্রস্তাব

ইরানের বিরুদ্ধে সামরিক অভিযান নিয়ে প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের অবস্থানের সমালোচনায় বিরল পদক্ষেপ নিয়েছে মার্কিন কংগ্রেস। রিপাবলিকান-নিয়ন্ত্রিত সিনেটে পাস হওয়া এক প্রস্তাবে প্রেসিডেন্টকে যুদ্ধ বন্ধ করতে অথবা সামরিক অভিযান অব্যাহত রাখতে চাইলে কংগ্রেসের অনুমোদন নেওয়ার আহ্বান জানানো হয়েছে। প্রস্তাবটির পক্ষে ভোট দিতে কয়েকজন রিপাবলিকান সিনেটরও ডেমোক্র্যাটদের সঙ্গে যোগ দেন।

বিজ্ঞাপন

বিবিসির প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, স্থানীয় সময় মঙ্গলবার (২৩ জুন) অনুষ্ঠিত ভোটাভুটিতে ৫০-৪৮ ভোটে প্রস্তাবটি অনুমোদিত হয়। এতে রিপাবলিকান নিয়ন্ত্রিত সিনেটের মধ্যেও ইরান যুদ্ধ এবং এপ্রিলের যুদ্ধবিরতি চুক্তি নিয়ে বিদ্যমান উদ্বেগের প্রতিফলন দেখা গেছে।

এর আগে চলতি জুন মাসে একই ধরনের একটি প্রস্তাব প্রতিনিধি পরিষদেও পাস হয়। সেখানে সব ডেমোক্র্যাট সদস্যের পাশাপাশি চারজন রিপাবলিকান সদস্যও প্রস্তাবটির পক্ষে ভোট দেন। ফলে ২১৫-২০৮ ভোটে সেটি অনুমোদন পায়।

তবে প্রস্তাবটির কার্যকর প্রভাব সীমিত। কংগ্রেসের দুই কক্ষেই এটি পাস হলেও প্রেসিডেন্টের অনুমোদনের জন্য পাঠানো হবে না এবং এটি বাস্তবায়নের কোনো আইনি বাধ্যবাধকতাও তৈরি করে না।

তারপরও ১৯৭৩ সালের ‘ওয়ার পাওয়ার্স রেজল্যুশন’ কার্যকর হওয়ার পর এই প্রথম কোনো চলমান সামরিক অভিযান বন্ধের আহ্বান জানিয়ে কংগ্রেসের উভয় কক্ষ একটি সমবর্তী প্রস্তাব (কনকারেন্ট রেজল্যুশন) অনুমোদন করল। এ ধরনের প্রস্তাব মূলত কংগ্রেসের অবস্থান প্রকাশ করে, যা সাধারণ আইন প্রণয়নের প্রক্রিয়ার অংশ নয়। এর আগে ২০১৯ সালে ইয়েমেনের গৃহযুদ্ধে মার্কিন সম্পৃক্ততা বন্ধের আহ্বান জানানো একটি যৌথ প্রস্তাবে ভেটো দিয়েছিলেন ট্রাম্প।

বিশ্লেষকদের মতে, জ্বালানির মূল্যবৃদ্ধি এবং যুদ্ধবিরোধী জনমত বৃদ্ধির প্রেক্ষাপটে এই ভোটাভুটির রাজনৈতিক গুরুত্ব রয়েছে। এতে ইরান যুদ্ধের অবসান টানতে হোয়াইট হাউসের ওপর চাপ আরও বেড়েছে বলে মনে করা হচ্ছে। যদিও হোয়াইট হাউসের এক কর্মকর্তা বিবিসিকে জানিয়েছেন, ৭ এপ্রিল যুদ্ধবিরতিতে সম্মত হওয়ার পর বর্তমানে এমন কোনো সক্রিয় যুদ্ধ পরিস্থিতি নেই, যেখান থেকে মার্কিন বাহিনীকে প্রত্যাহার করতে হবে।

তিনি আরও বলেন, রিপাবলিকান সিনেটর মিচ ম্যাককনেল ও ডেভ ম্যাককরমিক অনুপস্থিত থাকায় প্রস্তাবটি পাস হয়েছে। ডেমোক্র্যাটদের সঙ্গে একযোগে প্রস্তাবটির পক্ষে ভোট দেন রিপাবলিকান সিনেটর র‌্যান্ড পল, লিসা মারকাউস্কি, সুসান কলিন্স এবং বিল ক্যাসিডি।

অন্যদিকে, ডেমোক্র্যাটদের মধ্যে একমাত্র জন ফেটারম্যান প্রস্তাবটির বিপক্ষে অবস্থান নেন।

বিবিসির মতে, আগামী নভেম্বরে অনুষ্ঠেয় মধ্যবর্তী নির্বাচনের আগে রিপাবলিকান পার্টির অভ্যন্তরে তৈরি হওয়া বিভাজনের আরেকটি উদাহরণ এই ভোটাভুটি। ওই নির্বাচনে কংগ্রেসের দুই কক্ষেই রিপাবলিকানদের বর্তমান সংখ্যাগরিষ্ঠতা টিকে থাকবে কি না, তা নির্ধারিত হবে।

সাম্প্রতিক সময়ে বেশ কয়েকটি ইস্যুতে রিপাবলিকানদের একটি অংশ ট্রাম্প প্রশাসনের অবস্থানের বিরোধিতা করেছে। এর মধ্যে ১৮০ কোটি ডলারের ‘অ্যান্টি-ওয়েপনাইজেশন’ তহবিল গঠনের পরিকল্পনা এবং ইউক্রেনের জন্য সহায়তা অনুমোদনের বিষয়ও রয়েছে।

মঙ্গলবারের ভোটটি ছিল ইরান যুদ্ধ শুরু হওয়ার পর সিনেটে ডেমোক্র্যাটদের উদ্যোগে অনুষ্ঠিত দশম যুদ্ধক্ষমতা-সংক্রান্ত ভোটাভুটি। একই দিনে পেন্টাগন কংগ্রেসের কাছে প্রায় ৮০ বিলিয়ন ডলার বরাদ্দ চেয়েছে, যার বড় অংশ ইরান যুদ্ধের ব্যয় মেটানোর জন্য প্রস্তাব করা হয়েছে।

মার্কিন আইনে ৬০ দিনের বেশি সময় ধরে কোনো সামরিক অভিযান চালিয়ে যেতে হলে কংগ্রেসের অনুমোদন প্রয়োজন। যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের ইরানবিরোধী হামলা শুরু হয়েছিল ২৮ ফেব্রুয়ারি। তবে ট্রাম্প প্রশাসনের দাবি, এপ্রিলের যুদ্ধবিরতির মাধ্যমে ওই সময়সীমার হিসাব নতুন করে শুরু হয়েছে।

জাতীয় নিরাপত্তার প্রয়োজনে হোয়াইট হাউস চাইলে আরও ৩০ দিন সময় বাড়ানোর সুযোগ রয়েছে।

বর্তমানে যুক্তরাষ্ট্র ও ইরান যুদ্ধবিরতি বজায় রাখতে সম্মত হয়েছে। গত সপ্তাহে দুই দেশের প্রেসিডেন্ট স্বাক্ষরিত একটি সমঝোতা স্মারকের ভিত্তিতে সংঘাতের স্থায়ী সমাধান নিয়েও আলোচনা চলছে।

সমঝোতা অনুযায়ী, ইরানের পারমাণবিক কর্মসূচি নিয়ে একটি বিস্তৃত চুক্তিতে পৌঁছাতে ওয়াশিংটন ও তেহরানের হাতে ৬০ দিন সময় রয়েছে।

পড়ুন: পানামার বিদায়, নকআউটের আশা জিইয়ে রাখল ক্রোয়েশিয়া

আর/

বিজ্ঞাপন

আরও পড়ুন

বিজ্ঞাপন

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here

This site uses Akismet to reduce spam. Learn how your comment data is processed.

বিশেষ প্রতিবেদন