প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের হাত থেকে কৃষক কার্ড নিয়ে ভাইরাল হওয়া টাঙ্গাইলের সেই কৃষক কবির হোসেনের দাফন সম্পন্ন হয়েছে। বুধবার সকাল ১০টায় টাঙ্গাইল সদর উপজেলার উত্তর তারটিয়া মাদ্রাসা মাঠে জানাজা শেষে তারটিয়া কেন্দ্রীয় কবরস্থানে তাকে দাফন করা হয়।
এর আগে মঙ্গলবার রাত ৮টার দিকে নিজ বাড়িতে হৃদ্রোগে আক্রান্ত হয়ে তিনি মৃত্যুবরণ করেন।
জানাজার আগে মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ প্রতিমন্ত্রী সুলতান সালাউদ্দিন টুকু ভার্চুয়ালি যুক্ত হয়ে মুসল্লিদের সঙ্গে কথা বলেন। এ সময় তিনি শোকসন্তপ্ত পরিবারের প্রতি গভীর সমবেদনা জানান এবং মরহুমের আত্মার মাগফিরাত কামনা করেন।
জানাজায় টাঙ্গাইল সদর উপজেলা বিএনপির সভাপতি আজগর আলী, সহসভাপতি মির ফরহাদ আলী, সিনিয়র যুগ্ম সম্পাদক আজিম উদ্দিন বিপ্লব, জেলা বিএনপির সাবেক সাংগঠনিক সম্পাদক শফিকুর রহমান খান, কৃষি বিভাগের কর্মকর্তাসহ স্থানীয় জনপ্রতিনিধি, গণ্যমান্য ব্যক্তি এবং বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষ অংশ নেন।
জানাজা শেষে উপস্থিত সবাই মরহুমের রুহের মাগফিরাত কামনা করেন এবং তার পরিবারের জন্য দোয়া করেন।
প্রতিমন্ত্রী সুলতান সালাউদ্দিন টুকু বলেন, ‘কৃষক কবির হোসেন আমাদের সকলের অত্যন্ত পরিচিত ও প্রিয় একজন মানুষ ছিলেন। জীবনে প্রতিষ্ঠিত হওয়ার জন্য তিনি অনেক কষ্ট ও সংগ্রাম করেছেন। তার মৃত্যুতে আমরা গভীরভাবে ব্যথিত। আল্লাহ রাব্বুল আলামিনের কাছে দোয়া করি, তিনি যেন কবির হোসেনের সব গুনাহ মাফ করে তাকে জান্নাত নসিব করেন।’
কবির হোসেন মঙ্গলবার সকাল থেকেই বুকের ব্যাথা অনুভব করছিলেন। পরে সকালে তিনি টাঙ্গাইলের স্থানীয় একটি ক্লিনিকে যান। সেখানে ইসিজি করার পরে হার্টের সমস্যা ধরা পরে। পরবর্তী চিকিৎসকের পরামর্শ অনুযায়ী তিনি তাৎক্ষণিক ওষুধ খান। এসময় তিনি কিছুটা সুস্থতা অনুভব করলে নিজ বাড়িতে চলে আসেন। পরবর্তীতে সন্ধ্যায় তার আবারো বুকে ব্যাথা অনুভব হয়। এসময় তিনি স্থানীয় বাজার থেকে ওষুধ কিনে বাড়িতে আসা মাত্রই মাটিতে পড়ে যায়৷ পরে তাকে টাঙ্গাইল মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নিয়ে গেলে বিভিন্ন পরীক্ষা শেষে কর্তব্যরত চিকিৎসক মৃত ঘোষণা করেন।
উল্লেখ্য, কবির হোসেন চলতি বছরের ১৪ এপ্রিল বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান ও প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের হাত থেকে কৃষক কার্ড গ্রহণের পর সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে তাকে নিয়ে ব্যাপক আলোচনা শুরু হয়। বিভিন্ন মহলে তাকে ‘ভুয়া কৃষক’ হিসেবে আখ্যায়িত করে নানা ধরনের প্রচারণা চালায়, যা দ্রুত ভাইরাল হয়ে পড়ে।
পরবর্তীতে বিষয়টি নিয়ে কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তর তদন্ত করে। তদন্তে কবির হোসেনকে একজন প্রকৃত কৃষক হিসেবে শনাক্ত করা হয়। সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা জানান, তিনি দীর্ঘদিন ধরে কৃষিকাজের সঙ্গে সম্পৃক্ত ছিলেন এবং নিজ জমিসহ বিভিন্ন কৃষি কার্যক্রমে সক্রিয়ভাবে অংশগ্রহণ করতেন। তদন্ত প্রতিবেদনের মাধ্যমে তার কৃষক পরিচয়ের সত্যতা নিশ্চিত হওয়ার পর তাকে ঘিরে বিতর্কের অবসান ঘটে।
পড়ুন- ইউরোপজুড়ে তাপপ্রবাহ : ফ্রান্সে গরম থেকে বাঁচতে পানিতে ডুবে ৪০ জনের মৃত্যু


