চাঁপাইনবাবগঞ্জ শহরের প্রাণকেন্দ্র নিউ মার্কেটের দ্বিতীয় তলায় চারটি কাপড়ের দোকানে ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ডের ঘটনা ঘটেছে। বুধবার (২৪ জুন) সকাল সাড়ে ৮টার দিকে মার্কেটের রাজশাহী স্টোর থেকে আগুনের সূত্রপাত হয় বলে প্রাথমিকভাবে জানা গেছে। প্রায় দুই ঘণ্টার চেষ্টায় আগুন নিয়ন্ত্রণে আনতে সক্ষম হয় ফায়ার সার্ভিস। এ ঘটনায় চারটি দোকানের মালামাল পুড়ে ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে।
প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, সকালে হঠাৎ রাজশাহী স্টোর থেকে ঘন ধোঁয়া বের হতে দেখা যায়। মুহূর্তের মধ্যে আগুন ছড়িয়ে পড়লে আশপাশের ব্যবসায়ী ও ক্রেতাদের মধ্যে আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে। পরে স্থানীয়রা ফায়ার সার্ভিসে খবর দিলে দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছে আগুন নিয়ন্ত্রণের কাজ শুরু করে তারা।
ফায়ার সার্ভিস সূত্রে জানা যায়, আগুনের ভয়াবহতা বিবেচনায় মোট ৬টি ইউনিট ঘটনাস্থলে কাজ করে। প্রায় দুই ঘণ্টার নিরলস প্রচেষ্টার পর আগুন সম্পূর্ণ নিয়ন্ত্রণে আসে।
স্থানীয় ব্যবসায়ী ও প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, নিউ মার্কেটে দোকানের সংখ্যা অনেক বেশি এবং কাপড়ের দোকান হওয়ায় আগুন দ্রুত ছড়িয়ে পড়ার আশঙ্কা ছিল। তবে সদর উপজেলার অক্টোয়মোড় এলাকার সিএনবি সংলগ্ন দুটি পুকুর থেকে পানি সংগ্রহ করে আগুন নেভানোর কাজ পরিচালনা করায় পরিস্থিতি দ্রুত নিয়ন্ত্রণে আনা সম্ভব হয়।
স্থানীয় ব্যবসায়ী আব্দুল হান্নান বলেন, যদি কাছাকাছি ওই দুটি পুকুর না থাকত, তাহলে আগুন আরও ভয়াবহ রূপ নিতে পারত। ফায়ার সার্ভিস দ্রুত পানি সংগ্রহ করতে পেরেছে বলেই শত শত দোকান রক্ষা পেয়েছে।
আরেক ব্যবসায়ী সোহেল রানা বলেন, আগুনের সময় আমরা সবাই আতঙ্কিত হয়ে পড়েছিলাম। চারপাশে শুধু ধোঁয়া আর মানুষের চিৎকার ছিল। আল্লাহর রহমত এবং ফায়ার সার্ভিসের দ্রুত পদক্ষেপে বড় ধরনের বিপর্যয় থেকে রক্ষা পেয়েছি।
স্থানীয়দের দাবি, অক্টোমোড় এলাকার দুটি পুকুর থেকে পানি সংগ্রহ করে আগুন নেভানোর কারণে নিউ মার্কেটের প্রায় ৩০০টিরও বেশি দোকান অগ্নিকাণ্ডের হাত থেকে রক্ষা পেয়েছে।
রাজশাহী ফায়ার সার্ভিসের সহকারী পরিচালক আব্দুর রাজ্জাক বলেন, খবর পাওয়ার সঙ্গে সঙ্গে আমাদের ইউনিটগুলো ঘটনাস্থলে পৌঁছে আগুন নিয়ন্ত্রণে কাজ শুরু করে। প্রায় দুই ঘণ্টার চেষ্টায় আগুন নিয়ন্ত্রণে আনা সম্ভব হয়েছে। প্রাথমিকভাবে আগুন লাগার কারণ ও ক্ষয়ক্ষতির পরিমাণ নির্ধারণ করা সম্ভব হয়নি। তদন্ত শেষে আগুনের সূত্রপাত এবং ক্ষয়ক্ষতির প্রকৃত পরিমাণ জানা যাবে।
এদিকে অগ্নিকাণ্ডের ঘটনায় ব্যবসায়ীদের মধ্যে উদ্বেগ ও উৎকণ্ঠা দেখা দিয়েছে। ক্ষতিগ্রস্ত দোকান মালিকরা দ্রুত সরকারি সহায়তা ও ক্ষয়ক্ষতির সঠিক মূল্যায়নের দাবি জানিয়েছেন। আগুনের প্রকৃত কারণ উদঘাটনে ফায়ার সার্ভিসের তদন্ত কার্যক্রম শুরু হয়েছে।
পড়ুন : আওয়ামী লীগ ও সহযোগী সংগঠনের অপতৎপরতার প্রতিবাদে কালিয়াকৈরে বিএনপির বিক্ষোভ মিছিল


