বর্ডার গার্ড বাংলাদেশ (বিজিবি) এর দিনাজপুর সেক্টরের অধীনস্থ জয়পুরহাট ব্যাটালিয়ন (২০ বিজিবি), ফুলবাড়ী ব্যাটালিয়ন (২৯ বিজিবি) এবং দিনাজপুর ব্যাটালিয়ন (৪২ বিজিবি) এর দায়িত্বপূর্ণ সীমান্ত এলাকায় পরিচালিত অভিযানে জব্দকৃত ১০ কোটি ৮২ লক্ষাধিক টাকা মূল্যের বিপুল পরিমাণ মাদকদ্রব্য ধ্বংস করা হয়েছে।
আগামী ২৬ জুন ২০২৬ তারিখ ‘মাদকদ্রব্যের অপব্যবহার ও অবৈধ পাচার বিরোধী আন্তর্জাতিক দিবস-২০২৬’কে সামনে রেখে আজ বৃহস্পতিবার ২৫ জুন সকালে বিজিবির দিনাজপুর সেক্টর সদর দপ্তরের প্রশিক্ষণ মাঠে ‘মাদকদ্রব্য ধ্বংসকরণ অনুষ্ঠান-২০২৬’ আয়োজন করা হয়। অনুষ্ঠানে রংপুর বিভাগের বিভাগীয় কমিশনার মো.শহিদুল ইসলাম, এনডিসি প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন। এছাড়াও বিজিবির রংপুর রিজিয়নের কমান্ডার ব্রিগেডিয়ার জেনারেল এ এস এম নাছের, পিএসসি, জি+, জেলা প্রশাসক মোঃ রফিকুল ইসলাম,এসপি জিদান আল মুসা উক্ত অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন।
প্রধান অতিথি তাঁর বক্তব্যে বলেন, বাংলাদেশের সীমান্ত সুরক্ষা ও মাদক চোরাচালান প্রতিরোধে বিজিবি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে আসছে। তাঁদের সাহস, নিষ্ঠা ও দেশপ্রেমের ফলেই বিপুল পরিমাণ মাদকদ্রব্য জব্দ করা সম্ভব হয়েছে। আজকের এই মাদকদ্রব্য ধ্বংসকরণ কার্যক্রম সেই সাফল্যেরই বাস্তব প্রতিফলন।
এছাড়াও রিজিয়ন কমান্ডার তাঁর বক্তব্যে বলেন, মাদক শুধু একটি অবৈধ দ্রব্য নয়; এটি ব্যক্তি, পরিবার, সমাজ এবং রাষ্ট্রের জন্য এক ভয়াবহ অভিশাপ। আমাদের সম্ভাবনাময় তরুণ সমাজের স্বপ্ন, মেধা ও ভবিষ্যতকে ধ্বংস করে দিচ্ছে এই মাদক।
পরবর্তীতে আমন্ত্রিত অতিথিগণ নিজ হাতে বিভিন্ন প্রকার অবৈধ মাদকদ্রব্য ধ্বংসের মাধ্যমে আনুষ্ঠানিকভাবে মাদকদ্রব্য ধ্বংস কার্যক্রমের উদ্বোধন করেন।
অনুষ্ঠানে জয়পুরহাট ব্যাটালিয়ন (২০ বিজিবি) কর্তৃক ৫ ডিসেম্বর ২০২৩ হতে ৩১ মে ২০২৬ তারিখ পর্যন্ত, ফুলবাড়ী ব্যাটালিয়ন (২৯ বিজিবি) কর্তৃক ৯ ফেব্রুয়ারি ২০২৫ হতে ৩১ মে ২০২৬ তারিখ পর্যন্ত এবং দিনাজপুর ব্যাটালিয়ন (৪২ বিজিবি) কর্তৃক ২৯ জানুয়ারি ২০২৫ হতে ৩১ মে ২০২৬ তারিখ পর্যন্ত দায়িত্বপূর্ণ বিভিন্ন সীমান্ত এলাকায় মালিকবিহীন অবস্থায় জব্দকৃত বিপুল পরিমাণ অবৈধ মাদকদ্রব্য ধ্বংস করা হয়। ধ্বংসকৃত এসব মাদকদ্রব্যের আনুমানিক সিজার মূল্য ১০,৮২,৯০,৯২০/- (দশ কোটি বিরাশি লক্ষ নব্বই হাজার নয়শত বিশ) টাকা।
উক্ত অনুষ্ঠানে বিজিবির দিনাজপুর সেক্টর কমান্ডার কর্নেল মোহাম্মদ ফয়সল হাসান খান, বিজিবিএম, পিবিজিএম, পিএসসি, জয়পুরহাট ব্যাটালিয়ন (২০ বিজিবি) এর অধিনায়ক লেফটেন্যান্ট কর্নেল মোহাম্মদ লতিফুল বারী, পিবিজিএমএস, ফুলবাড়ী ব্যাটালিয়ন (২৯ বিজিবি) এর অধিনায়ক লেফটেন্যান্ট কর্নেল মোহাম্মদ আরিফ-উজ-জামান, পিএসসি এবং দিনাজপুর ব্যাটালিয়ন (৪২ বিজিবি) এর অধিনায়ক লেফটেন্যান্ট কর্নেল আব্দুল্লাহ আল মঈন হাসান উপস্থিত ছিলেন। এছাড়া বিজিবির অন্যান্য ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাগণ, দিনাজপুরের সিনিয়র জুডিসিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট, জেলা প্রশাসনের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাবৃন্দ, মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তরের প্রতিনিধিবৃন্দ, বিভিন্ন গণমাধ্যমের প্রতিনিধিসহ সেক্টর সদর দপ্তর ও সংশ্লিষ্ট ব্যাটালিয়নের কর্মকর্তা ও সকল স্তরের বিজিবি সদস্যগণ উপস্থিত ছিলেন।
উল্লেখ্য, সীমান্ত নিরাপত্তা নিশ্চিতের পাশাপাশি মাদক ও চোরাচালান প্রতিরোধে বর্ডার গার্ড বাংলাদেশ (বিজিবি) নিরলসভাবে কাজ করে যাচ্ছে। স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী ঘোষিত মাদকের বিরুদ্ধে ‘জিরো টলারেন্স’ নীতি বাস্তবায়নে বিজিবির মহাপরিচালক এবং রংপুর রিজিয়নের রিজিয়ন কমান্ডার মাদকের বিরুদ্ধে কঠোর ও অনমনীয় অবস্থান গ্রহণের নির্দেশ দিয়েছেন। সেই নির্দেশনা অনুযায়ী দিনাজপুর সেক্টরের অধীনস্থ ব্যাটালিয়নসমূহ নিয়মিত অভিযান পরিচালনার মাধ্যমে সীমান্ত এলাকায় মাদক ও চোরাচালান দমনে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছে। আজকের মাদকদ্রব্য ধ্বংসকরণ কর্মসূচি, ‘জিরো টলারেন্স’ নীতিরই একটি বাস্তব প্রতিফলন। জনসচেতনতা বৃদ্ধি এবং মাদকের বিরুদ্ধে সামাজিক প্রতিরোধ গড়ে তোলার লক্ষ্যে সংশ্লিষ্ট সকলের উপস্থিতিতে এ ধরনের ধ্বংস কার্যক্রম নিয়মিতভাবে পরিচালিত হচ্ছে। দেশের সীমান্ত সুরক্ষা, চোরাচালান প্রতিরোধ এবং মাদকমুক্ত সমাজ গঠনে বিজিবি ভবিষ্যতেও একই নিষ্ঠা, সততা ও পেশাদারিত্বের সঙ্গে দায়িত্ব পালন অব্যাহত রাখবে।
পড়ুন : পুশ ইন চেষ্টায় ব্যর্থ হয়ে রাতের আঁধারে ৯ জনকে ফিরিয়ে নিলো বিএসএফ


