“শিশু শ্রমকে না বলি, শোভন কর্মপরিবেশ নিশ্চিত করি” এই প্রতিপাদ্যকে ধারণ করে বিশ্ব শিশু শ্রম প্রতিরোধ দিবস ২০২৬ উপলক্ষে দিনাজপুরের নবাবগঞ্জে বর্ণাঢ্য র্যালি ও আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত হয়েছে। কারিতাস বাংলাদেশ, দিনাজপুর অঞ্চলের লাইট প্রকল্প এ কর্মসূচির আয়োজন করে।
বৃহস্পতিবার সকালে নবীনগঞ্জ হাইস্কুল, নবাবগঞ্জ প্রাঙ্গণ থেকে একটি সচেতনতামূলক র্যালি বের করা হয়। র্যালিতে বিদ্যালয়ের শিক্ষক-শিক্ষার্থী, অভিভাবক, স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তিবর্গ এবং কারিতাস বাংলাদেশের কর্মকর্তা-কর্মচারীরা অংশগ্রহণ করেন। র্যালি শেষে বিদ্যালয় মিলনায়তনে এক আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত হয়।
আলোচনা সভায় নবীনগঞ্জ হাইস্কুলের প্রধান শিক্ষক মোঃ এস এম দবিরুল ইসলাম এর সভাপতিত্বে বক্তব্য রাখেন রহিমপুর দাখিল মাদ্রাসার সহকারী শিক্ষক মোঃ আতিয়ার রহমান, রঘুনাথপুর ডিগ্রি কলেজের প্রভাষক মোঃ শাহিনুর আলম, নবীনগন&জ হাই স্কুলের সরকারি শিক্ষক মোঃ নূর ইসলাম, মোঃ আবুল কালাম আজাদ।
আলোচনা সভায় বক্তারা বলেন “শিশু শ্রম একটি সামাজিক ব্যাধি। শিশুদের শ্রমে নয়, শিক্ষার আলোয় আলোকিত করতে হবে। একটি শিশুও যেন অর্থনৈতিক বা সামাজিক কারণে বিদ্যালয়ের বাইরে না থাকে, সে বিষয়ে পরিবার, শিক্ষা প্রতিষ্ঠান এবং সমাজের সকল স্তরের মানুষকে দায়িত্বশীল ভূমিকা পালন করতে হবে।” শিশু শ্রম শিশুদের স্বাভাবিক শারীরিক, মানসিক ও বুদ্ধিবৃত্তিক বিকাশকে বাধাগ্রস্ত করে। টেকসই উন্নয়ন লক্ষ্য (SDGs) অর্জন এবং একটি মানবিক সমাজ গঠনের জন্য শিশু শ্রম সম্পূর্ণরূপে নির্মূল করা জরুরি। এ লক্ষ্যে সরকার, বেসরকারি প্রতিষ্ঠান, শিক্ষা প্রতিষ্ঠান ও নাগরিক সমাজের সমন্বিত উদ্যোগ প্রয়োজন।
এ সময় কারিতাস বাংলাদেশের লাইট প্রকল্পের ফিল্ড অফিসার বাবলু মুরমু বলেন, “প্রত্যেক শিশুরই নিরাপদ শৈশব, মানসম্মত শিক্ষা ও সুরক্ষিত পরিবেশে বেড়ে ওঠার অধিকার রয়েছে। শিশু শ্রম শুধু একটি শিশুর বর্তমানকেই নয়, তার ভবিষ্যৎ সম্ভাবনাকেও ক্ষতিগ্রস্ত করে। তাই শিশু শ্রম প্রতিরোধে পরিবার, বিদ্যালয়, স্থানীয় প্রশাসন এবং সমাজের সকল সচেতন মানুষের সম্মিলিত উদ্যোগ অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। কারিতাস বাংলাদেশের লাইট প্রকল্প শিশুদের অধিকার ও সুরক্ষা নিশ্চিত করতে বিভিন্ন সচেতনতামূলক কার্যক্রম পরিচালনা করে যাচ্ছে এবং ভবিষ্যতেও এ প্রচেষ্টা অব্যাহত থাকবে।”
অনুষ্ঠানে বিদ্যালয়ের শিক্ষক-শিক্ষার্থী, অভিভাবক, স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তিবর্গ, সাংবাদিকবৃন্দ এবং কারিতাস বাংলাদেশের লাইট প্রকল্পের কর্মীরা উপস্থিত ছিলেন। অংশগ্রহণকারীরা শিশু শ্রমমুক্ত সমাজ গঠনের প্রত্যয়ে একযোগে কাজ করার অঙ্গীকার ব্যক্ত করেন।
অনুষ্ঠানের শেষে শিশুদের জন্য নিরাপদ, মর্যাদাপূর্ণ ও সম্ভাবনাময় ভবিষ্যৎ নিশ্চিত করার আহ্বান জানিয়ে কর্মসূচির সমাপ্তি ঘোষণা করা হয়। শিশু শ্রম প্রতিরোধে সচেতনতা বৃদ্ধি এবং সামাজিক দায়বদ্ধতা জোরদারে এ ধরনের আয়োজন গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে বলে বক্তারা আশাবাদ ব্যক্ত করেন।
পড়ুন : ফকিরহাটে ভিটামিন ‘এ’ প্লাস ক্যাপসুল পাবে ১৪ হাজার শিশু


