বিজ্ঞাপন

সরকার মৌলিক পরিবর্তনের দাবিকে অগ্রাহ্য করছে : জামায়াতে আমির

সরকার মৌলিক পরিবর্তনের দাবিকে অগ্রাহ্য করছে বলে অভিযোগ করেছেন বিরোধী দলীয় নেতা জামায়াতে ইসলামীর আমির ডা. শফিকুর রহমান।

তিনি বলেছেন, সরকার স্বাধীন বিচার বিভাগ চাচ্ছে না। স্বাধীন দুর্নীতি দমন কমিশন চাচ্ছে না। স্বাধীন মানবাধিকার কমিশন চাচ্ছে না। স্বাধীন ভোট কমিশন চাচ্ছে না। স্বাধীন নির্বাচন কমিশন চাচ্ছে না। এভাবে গুরুত্বপূর্ণ যে জায়গাগুলার কারণে ফ্যাসিবাদ কায়েম হয়েছিল সে সব জায়গা আগের মতো থেকে গেল।

আজ (শুক্রবার) সকালে রাজধানীর মগবাজার আল-ফালাহ মিলনায়তনে দলের কেন্দ্রীয় মজলিসে শূরার অধিবেশন তিনি এসব কথা বলেন।

জামায়াতে ইসলামীর আমির বলেন, জুলাই গণঅভ্যুত্থানের পর মানুষের আশা ছিল, এতগুলা মানুষের ত্যাগ এবং জীবনের বিনিময়ে আমরা একটা পরিবর্তন পেয়েছি, এখন বাংলাদেশ সঠিক পথে পরিচালিত হবে। ইতোমধ্যেই এ বছরের ১২ ফেব্রুয়ারি সাধারণ নির্বাচন এবং সংস্কার পরিষদের সংস্কারের জন্য গণভোট অনুষ্ঠিত হয়েছে। একই দিনে জনগণের ভোট পেল…একটা ভোটের মূল্যায়ন হলো আরেকটা ভোট ফেলে দেওয়া হয়েছে। অথচ দুইটার কোনোটাই অগুরুত্বপূর্ণ না।

তিনি বলেন, বর্তমান সরকারি দল প্রায় ৭০ ভাগ জনগণের এই মতকে অগ্রাহ্য করেছে। আমরা যেখানে ছিলাম সেখানেই থেকে গেলাম। কোনো পরিবর্তন আসলো না। হয়তো কেউ কেউ বলবেন যে, চার মাসের সরকার…আমরা তো অপেক্ষা করতে পারি। কিন্তু না, ফাউন্ডেশনের ওপরে একটা দেশ এবং রাষ্ট্র চলে। আমরা সবাই জানি একটা গুরুত্বপূর্ণ ফ্রেজ— দিনটি কেমন যাবে সকালবেলাই তা বলে দেবে।

তিনি বলেন, বর্তমান সরকারি দল-বিরোধী দল সকলেই তো নির্বাচনের আগে বলেছে যে, আমরা গণভোট মানি। আপনারা গণভোটে ‘হ্যাঁ’ বলুন। ৭০ ভাগ মানুষের ভোটকে অগ্রাহ্য করা হলো কেন? আমরা বিরোধী দলের পক্ষ থেকে বারবার গণভোট বাস্তবায়নের দাবি উত্থাপন করেছি। এ নিয়ে সংসদে নোটিশ দিয়ে আলোচনা করেছি।

বিরোধী দলীয় নেতা বলেন, আমরা এজন্য জনগণের পার্লামেন্টে বিষয়টা নিয়ে এসেছি। ইতোমধ্যে এই দাবি বাস্তবায়নের জন্য ১১ দলীয় ঐক্যের পক্ষ থেকে ধারাবাহিক কর্মসূচি পালন করছি। এটা কোনো দলের জন্য, কোনো জোটের জন্য নয়, এটা জনগণের দাবি। এই রায় দিয়েছে জনগণ।

তিনি বলেন, আমাদের সমাজে আমরা কার্যত দেখতে পাই— যাদের আমরা শিক্ষিত বলে মনে করি, উচ্চশিক্ষিত বলে মনে করি, তাদের একটা বিশাল অংশ, গুরুত্বপূর্ণ অংশ সমাজের আমানতের খেয়ানত করে চলছে। তারা বৈধতার সীমা লঙ্ঘন করে অবৈধ পথে মানুষের সম্পদ, ইজ্জত গ্রাস করে গেছে। যদি তারা সুশিক্ষিত হতেন তাহলে মানুষের ওপরে অবিচার তারা করতেন না। সমাজ এমনি এমনি চলে না। সমাজ চলার জন্য একটা সামাজিক কাঠামো লাগে। এই কাঠামোর মূল দায়িত্ব যারা পালন করেন বা শাসন ব্যবস্থা যাদের হাতে পরিচালিত হয়, তাদের আচরণের ওপর নির্ভর করে একটা সমাজ কতটুকু ভালো থাকবে।

বিজ্ঞাপন

পড়ুন : বিচার নিশ্চিত না করলে এই সরকার পাঁচ বছরের মেয়াদ সম্পূর্ণ করতে পারবে না: নাহিদ

বিজ্ঞাপন

আরও পড়ুন

বিজ্ঞাপন

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here

This site uses Akismet to reduce spam. Learn how your comment data is processed.

বিশেষ প্রতিবেদন