যুক্তরাষ্ট্র ও ইরান আবারও একে অপরের বিরুদ্ধে যুদ্ধবিরতি চুক্তি লঙ্ঘনের অভিযোগ তুলে পাল্টাপাল্টি হামলা চালিয়েছে। গত সপ্তাহে স্বাক্ষরিত যুদ্ধবিরতি চুক্তির পর নতুন করে উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়েছে। হরমুজ প্রণালিতে একটি পণ্যবাহী জাহাজে ইরানের ড্রোন হামলার জবাবে প্রথমে ইরানের উপকূলীয় এলাকায় হামলা চালায় যুক্তরাষ্ট্র। এ তথ্য জানিয়েছে রয়টার্স।
যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক বাহিনীর সেন্ট্রাল কমান্ড (সেন্টকম) জানায়, স্থানীয় সময় শুক্রবার (২৬ জুন) দিবাগত রাতে পরিচালিত অভিযানে ইরানের ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন সংরক্ষণাগার এবং উপকূলীয় রাডার স্থাপনাকে লক্ষ্য করে বিমান হামলা চালানো হয়েছে। এক মার্কিন কর্মকর্তা জানান, এই সামরিক অভিযান ইতোমধ্যে শেষ হয়েছে।
এদিকে ইরান জানিয়েছে, দেশটির দক্ষিণাঞ্চলের সিরিক বন্দরের জেটি-সংলগ্ন এলাকায় একটি ক্ষেপণাস্ত্র আঘাত হেনেছে। এর প্রতিক্রিয়ায় মধ্যপ্রাচ্যে অবস্থিত মার্কিন সামরিক স্থাপনায় পাল্টা হামলা চালানোর দাবি করেছে তেহরান।
গত বৃহস্পতিবার (২৫ জুন) ওমান উপকূলের কাছে একটি পণ্যবাহী জাহাজে হামলার পর হরমুজ প্রণালির নিয়ন্ত্রণ বজায় রাখার ঘোষণা দেয় ইরান। একই সঙ্গে উপসাগরীয় দেশগুলোকে ওয়াশিংটনের পক্ষ না নেওয়ার আহ্বানও জানায় তারা।
মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ওই হামলার জন্য ইরানকে দায়ী করে বলেন, এটি গত সপ্তাহের যুদ্ধবিরতি চুক্তির লঙ্ঘন। সেন্টকম এক বিবৃতিতে জানায়, বাণিজ্যিক নৌপরিবহনের বিরুদ্ধে ইরানি বাহিনীর অযৌক্তিক আগ্রাসন স্পষ্টভাবে যুদ্ধবিরতি চুক্তির শর্ত ভঙ্গ করেছে।
সেন্টকম আরও জানায়, হরমুজ প্রণালি দিয়ে চলাচলকারী বাণিজ্যিক জাহাজে আগের দিনের হামলার জবাব হিসেবেই এই সামরিক অভিযান পরিচালনা করা হয়েছে। পাশাপাশি বাণিজ্যিক জাহাজের নিরাপদ চলাচল নিশ্চিত করতে সমন্বয় ও সহায়তা অব্যাহত থাকবে বলেও জানিয়েছে মার্কিন সামরিক বাহিনী।
মার্কিন ভাইস প্রেসিডেন্ট জেডি ভ্যান্স বলেন, যুক্তরাষ্ট্র যুদ্ধবিরতি চুক্তি সম্পূর্ণভাবে মেনে চলছে। তার ভাষায়, ইরান চুক্তিতে স্বাক্ষর করেছে এবং যুক্তরাষ্ট্রও তা অনুসরণ করেছে। চুক্তি বাস্তবায়ন নিয়ে কোনো আপত্তি থাকলে ইরান আলোচনার পথ বেছে নিতে পারে, তবে সহিংসতার জবাব সহিংসতার মাধ্যমেই দেওয়া হবে।
অন্যদিকে ইসলামিক রেভল্যুশনারি গার্ডস কোর (আইআরজিসি) দাবি করেছে, যুক্তরাষ্ট্রের হামলার জবাবে তাদের নৌবাহিনী মধ্যপ্রাচ্যে অবস্থানরত মার্কিন সামরিক ঘাঁটিগুলোতে হামলা চালিয়েছে। একই সঙ্গে ভবিষ্যতে যুক্তরাষ্ট্র আরও হামলা চালালে তার আরও ব্যাপক জবাব দেওয়া হবে বলেও সতর্ক করেছে সংস্থাটি।
আইআরজিসি আরও দাবি করে, যুদ্ধবিরতি চুক্তি অনুযায়ী হরমুজ প্রণালিতে জাহাজ চলাচলের নিয়ন্ত্রণ ইরানের হাতে রয়েছে। তবে যুক্তরাষ্ট্র বিভিন্ন ফ্রন্টে উসকানি দিয়ে সেই অঙ্গীকার ভঙ্গের চেষ্টা করেছে। এ কারণে প্রয়োজনীয় জবাব দেওয়া হয়েছে এবং ভবিষ্যতেও আগ্রাসন পুনরাবৃত্তি হলে আরও কঠোর প্রতিক্রিয়া জানানো হবে।
পড়ুন: যে তিন দেশের নাগরিকদের ভ্রমণ নিষিদ্ধ করল সৌদি আরব
আর/


