সিরাজগঞ্জের শাহজাদপুর উপজেলার কৈজুড়ী ইউনিয়নের পাচিল খেয়া ঘাটের ইজারা নিয়ে বিরোধের জেরে দুই যুবককে বাড়িছাড়া করার অভিযোগ উঠেছে। ইজারার দরপত্রে অংশ নেওয়ার পর স্থানীয় বিএনপি ও কৃষক দলের কয়েকজন নেতাকর্মীর হুমকির মুখে পড়ে তারা এলাকা ছেড়ে আত্মগোপনে রয়েছেন বলে দাবি করেছেন। তবে অভিযুক্তরা অভিযোগ অস্বীকার করেছেন।
জানা গেছে, সিরাজগঞ্জ জেলা পরিষদ চলতি বছরের ২১ মে শাহজাদপুর উপজেলার ‘পাচিল খেয়াঘাট’ এ খাস আদায়ের জন্য মুখবন্ধ খামে দরপত্র আহ্বান করে। ওই দরপত্রে হা-মীম একজন অংশ নেন। মোট তিনজন ব্যক্তি দরপত্রে অংশগ্রহণ করলেও সর্বোচ্চ দরদাতা হন। এরপর থেকেই স্থানীয় বিএনপি ও কৃষক দলের নেতারা তার ওপর ক্ষুব্ধ হয়ে ওঠেন।
এবিষয়ে ভুক্তভোগী হা-মীম বলেন, আমি সর্বোচ্চ দরদাতা হওয়ার কারণে স্থানীয় বিএনপি ও কৃষক দলের নেতারা আমার উপর ক্ষুব্ধ হয়। তারা আমাকে ও আমার সহকর্মীকে দরপত্রের জামানতের টাকা প্রত্যাহার করার কথা বলে। এতে আমি রাজি না হওয়ায় তারা আমাদের ভয়ভীতি ও মারপিটের হুমকি দিচ্ছে। তারা বলে ।
হা-মীম অভিযোগ করেন, অভিযুক্তরা এলাকায় প্রচার করে বেড়াচ্ছেন যে স্বাস্থ্য প্রতিমন্ত্রীর ব্যক্তিগত পিএস মামুন তাকে ও তার সহযোগীদের মারধরের নির্দেশ দিয়েছেন।
জানা গেছে,গত বৃহস্পতিবার (২৫ জুন) রাতে কৈজুড়ী ইউনিয় কৃষক দলের সাধারণ সম্পাদক মারুফ হোসেনের নেতৃত্বে কিছু লোকজন লাঠিসোটা নিয়ে ভুক্তভোগী হা-মীম এর বাড়ি ঘেরাও করে রাখে এবং তাকে খুঁজতে থাকে। তাদের ভয়ে গত তিন দিন হলো হা-মীম ও আমার সহকর্মী ফরহাদ হোসেন বাড়ি ঘর ছেড়ে শহরে পালিয়ে আছেন
অভিযোগের বিষয়ে কৈজুড়ী ইউনিয়ন কৃষক দলের সাধারণ সম্পাদক মারুফ হোসেন বলেন, আমার বিরুদ্ধে যে অভিযোগ করা হয়েছে তা সত্য নয়। স্বাস্থ্য প্রতিমন্ত্রীর ব্যক্তিগত পিএস মামুন ভাই ভালো মানুষ। আমি কেন তার নাম বলতে যাবো। তিনি এধরনের কোন নির্দেশ আমাকে দেননি। এটি মিথ্যা ও ভিত্তিহীন অভিযোগ।
এ বিষয়ে সিরাজগঞ্জের শাহজাদপুর উপজেলার কৈজুড়ী ইউনিয়ন বিএনপির সহ-সভাপতি মোহাম্মদ আলী মোহন বলেন, সভাপতি এলাকায় থাকে না, আমি সভাপতির দায়িত্বে আছি। আমরা ঘাটের ইজারার সব গুলো সিডিউল ক্লোজ করেছিলাম। এখানে বিএনপি ও অঙ্গ সংগঠনের সবাই একমত। আমরা সমন্বয় করে সবাইকে ভাগ দিয়ে এক ডাকে ঘাট আনবো। কিন্তু হা-মীম সবাইকে ব্রেক করে ইচ্ছে মতো বেশি রেট দিয়ে সিডিউল ডপিং করেছে। এলাকার সকল বিএনপি নেতাকর্মী ও যারা ঘাট ডেকে খায় তাদের সকলকে আমরা এক ছাতার নিচে আনছিলাম। সবার বিরুদ্ধে যেয়ে হা-মীম খারাপ করেছে। এলাকার সবার সিদ্ধান্ত না মানলে তাকে এলাকার বাইরে যেয়ে থাকতে হবে।
শাহজাদপুর থানার উপ-পরিদর্শক (এসআই) মমতাজ বলেন, হা-মীম ঘটনাটি আমাকে মোবাইল ফোনে অবগত করেছে। আমি তাকে লিখিত অভিযোগ দিতে বলেছি। অভিযোগ পেলে ব্যবস্থা গ্রহন করা হবে।
অভিযোগে উল্লেখ করা স্বাস্থ্য প্রতিমন্ত্রীর ব্যক্তিগত পিএস মামুনের বক্তব্য জানতে তার ব্যবহৃত মোবাইল নম্বরে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তিনি ফোন রিসিভ করেননি।
এদিকে সিরাজগঞ্জ জেলা পরিষদের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা (ভারপ্রাপ্ত) মোছা. আফসানা ইয়াসমিন বলেন, ইজারায় তিনজন ব্যক্তি অংশগ্রহণ করেছেন। এবার দিয়ে ৬ বার দরপত্র আহবান করা হলো। সর্বশেষ যে দর দেওয়া হয়েছে তা অন্য বছরের তুলনায় কম। আমি একা সিদ্ধান্ত নিতে পারি না। আগামী সোমবার পরিষদের মিটিং আছে। মিটিংয়ের এজেন্ডায় এবিষয়টি আনা হয়েছে। মিটিংএ পরবর্তী সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে।
বিজ্ঞাপন

বিজ্ঞাপন

