বাংলাদেশ ও পাকিস্তানের মধ্যে দ্বিপাক্ষিক বাণিজ্য সম্প্রসারণ, খাদ্যপণ্য সরবরাহ নিশ্চিতকরণ এবং শিল্প খাতে সহযোগিতা বাড়াতে উচ্চপর্যায়ের বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়েছে। বৈঠকে কৃষিপণ্য, সার, ভোজ্যতেল, ডাল, ছোলা, চিনি, ইউরিয়া এবং পাটসহ বিভিন্ন খাতে পারস্পরিক সহযোগিতা জোরদারের ওপর গুরুত্ব দেওয়া হয়। একই সঙ্গে সরকারি পর্যায়ে খাদ্যপণ্য আমদানি-রপ্তানি সহজ করতে ট্রেডিং কর্পোরেশন অব বাংলাদেশ (টিসিবি) ও ট্রেডিং কর্পোরেশন অব পাকিস্তানের (টিসিপি) মধ্যে সমঝোতা স্মারক (এমওইউ) আগামী জুলাইয়ের প্রথম সপ্তাহেই স্বাক্ষর হতে পারে বলে আশাবাদ ব্যক্ত করা হয়েছে।
সোমবার শিল্প মন্ত্রণালয়ে বাণিজ্য, শিল্প এবং বস্ত্র ও পাটমন্ত্রী খন্দকার আব্দুল মুক্তাদিরের সঙ্গে সৌজন্য সাক্ষাৎ ও বৈঠক করেন টিসিপির চেয়ারম্যান আসিম আজিম সিদ্দিকীর নেতৃত্বাধীন একটি প্রতিনিধি দল। বৈঠকে বাংলাদেশে নিযুক্ত পাকিস্তানের হাইকমিশনার ইমরান হায়দার উপস্থিত ছিলেন। এছাড়া শিল্প মন্ত্রণালয়ের সচিব আবদুন নাসের খান, বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের সচিব মো. আতাউর রহমান খানসহ সংশ্লিষ্ট ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা অংশ নেন।
বৈঠকে মন্ত্রী খন্দকার আব্দুল মুক্তাদির বলেন, দুই দেশের টেকসই অর্থনৈতিক উন্নয়নের জন্য বাণিজ্যিক সম্পর্ক আরও শক্তিশালী করা প্রয়োজন। সরকারি ও বেসরকারি খাতের মধ্যে সমন্বয় বৃদ্ধি পেলে নতুন বিনিয়োগের সুযোগ তৈরি হবে এবং উভয় দেশের ব্যবসায়ীরা উপকৃত হবেন। তিনি আরও বলেন, সরকার বর্তমানে বাণিজ্য সহজীকরণ, শিল্পায়ন এবং ব্যবসাবান্ধব পরিবেশ গড়ে তুলতে বিভিন্ন সংস্কার কার্যক্রম বাস্তবায়ন করছে। এসব উদ্যোগ বাংলাদেশ ও পাকিস্তানের মধ্যে বাণিজ্য সম্প্রসারণে ইতিবাচক ভূমিকা রাখবে।
টিসিপির চেয়ারম্যান আসিম আজিম সিদ্দিকী জানান, পাকিস্তান বাংলাদেশে চাল, ডাল, ছোলা, ইউরিয়া সার, ভোজ্যতেলসহ বিভিন্ন কৃষিপণ্য রপ্তানিতে আগ্রহী। পাশাপাশি পাকিস্তানের বাজারে বাংলাদেশের উচ্চমানের পাট ও পাটজাত পণ্যের উল্লেখযোগ্য চাহিদা রয়েছে। তিনি বলেন, দুই দেশের মধ্যে বাণিজ্যিক সম্ভাবনা আরও বিস্তৃত এবং পারস্পরিক সহযোগিতার মাধ্যমে তা কাজে লাগানো সম্ভব।
বৈঠকে জানানো হয়, টিসিবি ও টিসিপির মধ্যে সমঝোতা স্মারক চূড়ান্ত পর্যায়ে রয়েছে। এটি স্বাক্ষরিত হলে সরকারি পর্যায়ে খাদ্যপণ্য ক্রয়-বিক্রয় ও সরবরাহ প্রক্রিয়া আরও সহজ ও কার্যকর হবে। এর ফলে উভয় দেশের মধ্যে প্রয়োজনীয় পণ্যের সরবরাহ নিশ্চিত করার পাশাপাশি বাজার স্থিতিশীল রাখতেও সহযোগিতা পাওয়া যাবে।
বৈঠকের শেষে উভয় পক্ষ বাংলাদেশ–পাকিস্তান যৌথ ওয়ার্কিং গ্রুপের কার্যক্রম দ্রুত সক্রিয় করা, ব্যবসায়িক প্রতিনিধি দল বিনিময় এবং কৃষি, শিল্প ও বাণিজ্য খাতে সহযোগিতা আরও সম্প্রসারণে একযোগে কাজ করার বিষয়ে একমত হয়। সংশ্লিষ্টরা মনে করছেন, এসব উদ্যোগ বাস্তবায়িত হলে দুই দেশের মধ্যে বাণিজ্যের পরিমাণ বৃদ্ধি পাবে এবং আঞ্চলিক অর্থনৈতিক সহযোগিতার নতুন দিগন্ত উন্মোচিত হবে।
পড়ুন:জুনের ২৭ দিনে রেমিট্যান্স এসেছে ৩০ হাজার কোটি টাকার বেশি
দেখুন:এনসিপি যাদের সাথে জোট করেছে তারা স্বাধীনতায় বিশ্বাস করে না: মির্জা ফখরুল |
ইমি/


