নেত্রকোনার কলমাকান্দায় সরকারি খাস (হালট) জমিতে পানি নিষ্কাশনের নালা নির্মাণে বাধা দেওয়ার অভিযোগ উঠেছে স্থানীয় এক যুবলীগ নেতার বিরুদ্ধে। এ ঘটনার প্রতিবাদ ও সংবাদমাধ্যমে তথ্য তুলে ধরার কারণে এক বৃদ্ধকে পিটিয়ে আহত করা হয়েছে। আহত বৃদ্ধ বর্তমানে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে চিকিৎসাধীন।
অভিযুক্ত যুবলীগ নেতার নাম মো. আনোয়ার হোসেন ওরফে কালা মিয়া। তিনি উপজেলার পোগলা ইউনিয়নের ৩ নম্বর ওয়ার্ড যুবলীগের সভাপতি। এ ঘটনায় ভুক্তভোগী পরিবার কলমাকান্দা থানায় লিখিত অভিযোগ দায়ের করেছে।
সোমবার (২৯ জুন) অভিযোগ প্রাপ্তির সত্যতা নিশ্চি করেন থানার ভারপ্রাপ্ত ওসির দায়িত্বে থাকা পরিদর্শক (তদন্ত) সজল সরকার।
এলাকাবাসী সূত্রে জানা যায়, পোগলা ইউনিয়নের পলাশহাটি গ্রামের ওই সরকারি হালটটি দীর্ঘদিন ধরে বেদখল থাকায় এলাকার বিলের পানি স্বাভাবিকভাবে নিষ্কাশিত হতে পারছে না। ফলে প্রতি বছর বর্ষা মৌসুমে জলাবদ্ধতা সৃষ্টি হয়ে কৃষিজমির ফসলের ব্যাপক ক্ষতি হয়। স্থানীয় কৃষকদের দাবির পরিপ্রেক্ষিতে গুতুরা-আমবাড়ী সড়কের পলাশহাটি গ্রামের শামছুর পুকুরপাড় সংলগ্ন ব্রিজ থেকে রোজ আলীর বাড়ি পর্যন্ত প্রায় এক লাখ ১৭ হাজার টাকা ব্যয়ে নালা নির্মাণের উদ্যোগ নেওয়া হয়। প্রকল্পের কাজ শুরু করতে গেলেই সরকারি জমি দখল করে রাখা যুবলীগ নেতা আনোয়ার হোসেন জায়গা ছাড়তে অস্বীকৃতি জানান এবং পেশিশক্তি খাটিয়ে নির্মাণকাজে বাধা দেন।
ভুক্তভোগী পলাশহাটি গ্রামের শাহীন শেখ বিজয় বলেন, জনস্বার্থে নালা নির্মাণে বাধার বিষয়টি গণমাধ্যমে তুলে ধরার উদ্যোগ নিই। এতে ক্ষিপ্ত হয়ে গত ২৮ জুন দুপুরে আনোয়ার হোসেন ও তার সহযোগীরা আমার বাবা সাহাব উদ্দিনের ওপর হামলা চালায়। স্থানীয়রা তাকে উদ্ধার করে কলমাকান্দা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করেন। হামলাকারীরা আমাদের প্রাণনাশের হুমকিও দিয়েছে।
এ বিষয়ে পোগলা ইউনিয়ন ভূমি অফিসের নায়েব মো. নজরুল ইসলাম জানান, পলাশহাটি মৌজার ৫৫ নম্বর দাগে ৪৬ শতক জমি সরকারি হালট হিসেবে রেকর্ডভুক্ত। আনোয়ার হোসেন সেখানে মাটি ভরাট ও বসতঘর নির্মাণের মাধ্যমে জমিটি স্থায়ীভাবে বেদখলের চেষ্টা করছেন।
কলমাকান্দা থানার পরিদর্শক (তদন্ত) সজল সরকার বলেন, ‘মারধরের একটি লিখিত অভিযোগ পেয়েছি। বিষয়টি তদন্ত করে দ্রুত আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।’
কলমাকান্দা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) এস. এম. মিকাইল ইসলাম বলেন, ‘সহকারী কমিশনার (ভূমি) সম্প্রতি সরেজমিনে পরিদর্শন করে সরকারি ভূমি খালি করার নির্দেশনা দিয়েছেন। নির্দেশনা অমান্য করলে আইন অনুযায়ী কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হবে। আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির যেন অবনতি না ঘটে, সে বিষয়ে প্রশাসন সজাগ রয়েছে।’
কলমাকান্দা প্রেসক্লাবের সভাপতি শেখ শামীম এ ঘটনার তীব্র নিন্দা জানিয়ে বলেন, ‘জনস্বার্থের সংবাদ সংগ্রহে বাধা এবং স্থানীয় বাসিন্দার ওপর হামলার ঘটনা চরম উদ্বেগজনক। দোষীদের শাস্তি নিশ্চিত করে কৃষকদের স্বার্থে নালা নির্মাণকাজ দ্রুত সম্পন্ন করার জন্য প্রশাসনের প্রতি আহ্বান জানাই।’
তবে সব অভিযোগের বিষয়ে অভিযুক্ত যুবলীগ নেতা মো. আনোয়ার হোসেন ওরফে কালা মিয়া বলেন, ‘ওই হালটটি দীর্ঘদিন ধরে আমাদের দখলে রয়েছে। এখানে নালা করলে আমাদের বাড়িঘর ভেঙে যাবে। আমরা কোনো অবস্থাতেই সেখানে নালা খনন করতে দেব না, জায়গাটি যাতায়াতের রাস্তা হিসেবে ব্যবহার করব। প্রয়োজন হলে আমরা প্রতিরোধ গড়ে তুলব।’
এদিকে, দ্রুত সরকারি জমি দখলমুক্ত করে নালা নির্মাণকাজ সম্পন্ন করা না হলে চলতি বর্ষা মৌসুমেও জলাবদ্ধতার কারণে চরম ফসলহানির আশঙ্কা করছেন স্থানীয় কৃষকরা।


