নেত্রকোনার পূর্বধলা উপজেলায় ধলাই নদীতে গোসল করতে নেমে হোসাইন (১০) নামে এক শিশুর মৃত্যু হয়েছে। নিখোঁজ হওয়ার প্রায় ২০ ঘণ্টা পর মঙ্গলবার (৩০ জুন) সকালে নদী থেকে তার ভাসমান মরদেহ উদ্ধার করা হয়। ফায়ার সার্ভিস ও ডুবুরি দল ঘটনাস্থলে পৌঁছানোর আগেই ছেলের মরদেহ উদ্ধার করেন তার বাবা।
নিহত শিশু হোসাইন উপজেলার আগিয়া ইউনিয়নের কালডোয়ার দক্ষিণপাড়া গ্রামের রুক্কু মিয়ার ছেলে।
পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, গত সোমবার দুপুর ১টার দিকে হোসাইন তার দুই সঙ্গী সাইমন (৬) ও আরিয়ানকে (১০) নিয়ে খেলার ছলে কালডোয়ার পশ্চিমপাড়া এলাকার ধলাই নদীতে গোসল করতে নামে। সাঁতার না জানায় একপর্যায়ে নদীর গভীর পানিতে তিনজনই তলিয়ে যেতে থাকে। এ সময় সাইমনের বড় বোন আখি (১৪) তার ভাইকে খুঁজতে নদীর ঘাটে আসে। নদীতে তাদের হাবুডুবু খেতে দেখে সে তাৎক্ষণিকভাবে পানিতে লাফিয়ে পড়ে। সাহসিকতার সঙ্গে সে তার ভাই সাইমন ও আরিয়ানকে জীবিত উদ্ধার করতে পারলেও হোসাইনকে আর খুঁজে পাওয়া যায়নি।
খবর পেয়ে পূর্বধলা ফায়ার সার্ভিসের সদস্য এবং ময়মনসিংহ থেকে আসা একটি ডুবুরি দল গতকাল (সোমবার) বিকেল থেকে সন্ধ্যা পর্যন্ত নদীতে তল্লাশি চালায়। দীর্ঘ সময়েও সন্ধান না মেলায় সন্ধ্যায় উদ্ধার অভিযান স্থগিত করা হয়।
পরে পূর্বধলা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) শফিকুল ইসলাম ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেন এবং পরদিন পুনরায় অভিযান পরিচালনার নির্দেশ দেন।
আজ (মঙ্গলবার) সকাল সাড়ে ৮টার দিকে ফায়ার সার্ভিস ও ডুবুরি দল পুনরায় ঘটনাস্থলে পৌঁছানোর প্রস্তুতি নিচ্ছিল। এর আগেই স্বজনেরা নদীতে ট্রলার ও নৌকা নিয়ে খোঁজাখুঁজি শুরু করেন। একপর্যায়ে সকালের দিকে ঘটনাস্থল থেকে প্রায় এক কিলোমিটার ভাটিতে ছেলের মরদেহ ভাসতে দেখেন হোসাইনের বাবা রুক্কু মিয়া। পরে তিনি নিজেই মরদেহটি নদী থেকে উদ্ধার করে বাড়িতে নিয়ে গেলে সেখানে হৃদয়বিদারক দৃশ্যের সৃষ্টি হয়।
এ বিষয়ে পূর্বধলা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আব্দুল্লাহ আল মামুন জানান, খবর পেয়ে পুলিশ মরদেহের সুরতহাল প্রতিবেদন প্রস্তুত করেছে। পরিবারের পক্ষ থেকে কোনো অভিযোগ না থাকায় এবং তাদের লিখিত আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে বিনা ময়নাতদন্তে শিশুর মরদেহ স্বজনদের কাছে হস্তান্তর করা হয়েছে।
পড়ুন:ডেপুটি স্পিকারের উদ্যোগে কলমাকান্দা বাজারে ৩২ সিসি ক্যামেরা স্থাপন
দেখুন:জয়ের পর শহর জুড়ে চলছে ব্রাজিল সমর্থকদের উল্লাস! |
ইমি/


