হাঁফ ছেড়ে বাঁচল ইংল্যান্ড। অবশেষে সমতা এনে দিলেন হ্যারি কেইন। অবশেষে দেয়াল ভাঙতে পারল ইংল্যান্ড। ভাঙলেন হ্যারি কেইন। ৭৫তম মিনিটে গর্ডনের বাড়ানো বল হেডে জালে জড়িয়েছেন তিনি। জালে যাওয়ার আগে বল অবশ্য ডিআর কঙ্গো গোলকিপার এমপাসির হাতে লেগেছিল। তবে দিক পাল্টেনি খুব বেশি।
আবারও বেলিংহামকে হতাশ করলেন কঙ্গোর গোলকিপার! ডান দিক থেকে ভেসে আসা চমৎকার এক ক্রসে মাথা ছুঁইয়ে বল নিচের দিকে নামিয়ে পোস্টের দিকে পাঠিয়েছিলেন জুড বেলিংহাম। কিন্তু গোলপোস্টের নিচে লিওনেল এমপাসি যেন কোনো অপরাজেয় প্রাচীর! এবারও দুর্দান্ত ক্ষিপ্রতায় শরীরটা সঁপে দিয়ে বলটি একদম বাঁ দিকের নিচের কোনা থেকে বাইরে ঠেলে দিলেন তিনি। প্রথমার্ধের যোগ করা সময়ে নিশ্চিত গোলবঞ্চিত হলো ইংল্যান্ড!
উত্তেজনা ছড়াল ম্যাচে! মাঝমাঠ থেকে বাড়িয়ে দেওয়া একটি লম্বা বল তাড়া করে কঙ্গোর বক্সের দিকে ছুটেছিলেন হ্যারি কেইন। তাঁকে রুখতে নিজের পজিশন ছেড়ে পোস্ট ছেড়ে বেরিয়ে আসেন কঙ্গোর গোলকিপার লিওনেল এমপাসি। দুজনের এই মুখোমুখি লড়াইয়ে বক্সে পড়ে যান ইংলিশ অধিনায়ক।
জোরালো আবেদন তুলেছিল ইংল্যান্ড শিবির। তবে রেফারি ফাউলের বাঁশি বাজিয়েছেন উল্টো কেইনের বিপক্ষেই! পেনাল্টি তো পাওয়াই হলো না, উল্টো কঙ্গো পেল ফ্রি-কিক। রেফারি পরিষ্কার জানিয়ে দিলেন—নো পেনাল্টি!
ব্যর্থতার চরম নিদর্শন দেখাল ইংলিশ ডিফেন্স। এজরি কনসা এবং মার্ক গেহি—দুজনের কেউই পজিশনে ছিলেন না। সেই সুযোগে বক্সের ভেতর ইওয়ান উইসার উদ্দেশ্যে চমৎকার এক বল বাড়ান অ্যারন ওয়ান-বিসাকা। বল পেয়েই প্রথম ছোঁয়ায় শট নিয়েছিলেন উইসা, কিন্তু হ্যারি কেইনের দলের ভাগ্য ভালো যে বলটি পোস্টের একদম কোনায় লেগে ফিরে আসে! নিশ্চিত আরও এক গোল খাওয়া থেকে বেঁচে গেল ইংল্যান্ড।
ম্যাচের শুরুতেই বড়সড় ধাক্কা খেল ইংল্যান্ড। ডিআর কঙ্গোকে স্তব্ধ করে দেওয়া এক গোলে এগিয়ে নিলেন ব্রায়ান সিপেঙ্গা। ডি-বক্সের বাঁ দিক থেকে দারুণ এক ডান পায়ের শটে বল জালে জড়ান এই ফরোয়ার্ড। বল খুঁজে নেয় জালের একেবারে নিচের বাঁ দিকের কোনা। এই চমৎকার গোলের উৎস অবশ্য অধিনায়ক শানসেল এমবেম্বা, তাঁর অ্যাসিস্ট থেকেই লিড নিল কঙ্গো।
শক্তিমত্তার বিচারে কঙ্গোকে নিতান্তই পুচকেই বলা যায়। তাদের বিপক্ষে সহজ জয়ই পাবে ইংল্যান্ড, এমনটাই আশা ফুটবলবোদ্ধাদের। কিন্তু ম্যাচের শুরুতেই পুরো ফুটবলবিশ্বকে স্তব্ধ করে দিল কঙ্গো।
ম্যাচের সপ্তম মিনিটে গোল করে দলকে লিড এনে দেন কঙ্গোর তারকা ফুটবলার ব্রায়ান সিপেঙ্গা। ডি-বক্সের বাম দিক থেকে দারুণ এক ডান পায়ের শটে জালে বল জড়ান এই ফরোয়ার্ড।
ইতিহাস কিন্তু এখন ইংল্যান্ডের বিপক্ষে কথা বলছে! পরিসংখ্যান ঘাঁটলে দেখা যাচ্ছে, সেই ১৯৬৬ সালের বিশ্বকাপের ফাইনালে জার্মানির বিপক্ষে প্রথমে পিছিয়ে পড়েও শেষ পর্যন্ত ম্যাচ জিতেছিল ইংল্যান্ড। এরপর দীর্ঘ ৬০ বছর কেটে গেছে, কিন্তু বিশ্বকাপে প্রথমে গোল হজম করার পর আর কোনো ম্যাচ জিতে মাঠ ছাড়তে পারেনি থ্রি-লায়নরা।
যে কোনো প্রতিযোগিতায় প্রথমবারের মতো মুখোমুখি হয়েছে ইউরোপ ও আফ্রিকার এই দুটি দল। ফলে ইংল্যান্ডের চমকে যাওয়াটা অস্বাভাবিক নয়। তবে এবারের বিশ্বকাপে দ্বিতীয়বার আফ্রিকার দলের মুখোমুখি হয়েছে তারা। গ্রুপ পর্বে ঘানার সঙ্গে খেলেছিল হ্যারি কেনরা। কিন্তু জিততে পারেননি। ম্যাচ ড্র হয়েছিল। এবার কী হবে?
পিছিয়ে থেকে ইংল্যান্ডের জয়ের রেকর্ড খুব কম। ইংলিশ লায়ন্সদের ভয় দেখাচ্ছে তাদের পুরোনো পরিসংখ্যান। ১৯৬৬ সালে বিশ্বকাপের ফাইনালে জার্মানির বিপক্ষে প্রথমে পিছিয়ে পড়েও শেষ পর্যন্ত ম্যাচ জিতেছিল ইংল্যান্ড। এরপর দীর্ঘ ৬০ বছর কেটে গেলেও বিশ্বকাপে প্রথমে গোল হজম করার পর আর কোনো ম্যাচ জিততে পারেনি তারা।


