বিজ্ঞাপন

নাগরিক টিভির সংবাদে সাড়া, ইসরাফিলের পরিবারের পাশে পলাশ ধর

চট্টগ্রামের পটিয়ায় এক হাত ও এক পা হারিয়ে দীর্ঘদিন ভিক্ষাবৃত্তির মাধ্যমে সংসার চালানো ইসরাফিলের মৃত্যুর পর তার অসহায় পরিবারের দুর্দশার সংবাদ নাগরিক টিভিতে প্রকাশিত হওয়ার পর মানবিক সহায়তার হাত বাড়িয়েছেন স্থানীয় সমাজসেবক পলাশ ধর।

শনিবার (৪ জুলাই) উপজেলার হাইদগাঁও আশ্রয়ন প্রকল্পে গিয়ে তিনি ইসরাফিলের স্ত্রী আরজু আক্তারের হাতে দুই মাসের প্রয়োজনীয় খাদ্যসামগ্রী তুলে দেন। এ সময় পরিবারের খোঁজখবর নিয়ে ভবিষ্যতেও পাশে থাকার আশ্বাস দেন।

গত ২৪ জুন নাগরিক টিভিতে প্রচারিত সংবাদে উঠে আসে, এক সময় পল্লী বিদ্যুতের কর্মী ছিলেন ইসরাফিল। কর্মস্থলে ১১ হাজার ভোল্টের বিদ্যুৎ লাইনে দুর্ঘটনায় তার একটি হাত ও একটি পা বিচ্ছিন্ন হয়ে যায়। এরপর আর কোনো কাজ করতে না পেরে ভিক্ষাবৃত্তির মাধ্যমে স্ত্রী ও চার কন্যাসন্তানকে নিয়ে কোনো রকমে জীবনযাপন করতেন। গত ১১ জুন স্ট্রোকে তার মৃত্যু হলে পরিবারটি চরম আর্থিক সংকটে পড়ে।

স্থানীয়দের অভিযোগ, সংবাদ প্রকাশের পরও স্থানীয় সংসদ সদস্য, বিএনপির শীর্ষ নেতাসহ রাজনৈতিক ব্যক্তিদের পক্ষ থেকে এখন পর্যন্ত পরিবারটির কাছে কোনো সহায়তা পৌঁছেনি। তবে নাগরিক টিভিতে সংবাদ প্রচারের পর স্থানীয় সমাজসেবক পলাশ ধর পরিবারের পাশে দাঁড়িয়ে দুই মাসের খাদ্যসামগ্রী প্রদান করেন।

পলাশ ধর বলেন, সংবাদটি দেখে তিনি পরিবারটির দুর্দশার কথা জানতে পারেন। একজন মানুষ হিসেবে দায়িত্ববোধ থেকেই তিনি তাদের পাশে দাঁড়ানোর চেষ্টা করেছেন। সমাজের বিত্তবান ব্যক্তি ও বিভিন্ন সামাজিক সংগঠনকে পরিবারটির দীর্ঘমেয়াদি সহায়তায় এগিয়ে আসার আহ্বান জানান তিনি।

সহায়তা পেয়ে ইসরাফিলের স্ত্রী আরজু আক্তার বলেন, স্বামীর মৃত্যুর পর চার মেয়েকে নিয়ে চরম অসহায় অবস্থায় দিন কাটছিল। এই সহায়তা তাদের জন্য অনেক বড় স্বস্তি। তিনি পলাশ ধর এবং সংবাদটি প্রচারকারী নাগরিক টিভির প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেন।

স্থানীয়রা বলেন, একটি গণমাধ্যমের সংবাদ কীভাবে একটি অসহায় পরিবারের জন্য সহায়তার দ্বার খুলে দিতে পারে, এটি তার একটি উদাহরণ। তারা সরকার, জনপ্রতিনিধি, রাজনৈতিক নেতৃবৃন্দ এবং সমাজের বিত্তবানদের পরিবারটির দীর্ঘমেয়াদি পুনর্বাসন ও চার কন্যাসন্তানের ভবিষ্যৎ নিশ্চিত করতে এগিয়ে আসার আহ্বান জানান।

বিজ্ঞাপন

পড়ুন : পাথরঘাটায় জমি নিয়ে সংঘর্ষে নারীসহ আহত ৪

বিজ্ঞাপন

আরও পড়ুন

বিজ্ঞাপন

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here

This site uses Akismet to reduce spam. Learn how your comment data is processed.

বিশেষ প্রতিবেদন