সিরাজগঞ্জের শাহজাদপুর উপজেলার নুকালি বহুপবার্শিক উচ্চ বিদ্যালয়ে অর্ধ বাষিকী পরীক্ষা চলকালীন সময় প্রধান শিক্ষক রুহুল আমিনের মদ্যপান করে মাতলামি করার ঘটনায় তীব্র নিন্দা, প্রতিবাদ জানিয়েছেন শিক্ষক ও শিক্ষার্থীরা।
রবিবার (৫ জুলাই) সকালে সরজমিনে গেলে নুকালি বহুপবার্শিক উচ্চ বিদ্যালয়ের শিক্ষক ও শিক্ষার্থীরা তীব্র নিন্দা জানান। তারা জানান, মাঝে মধ্যেই বিদ্যালয়ে এসে প্রধান শিক্ষকের কার্যালয়ে বসেই মদ্যপান করে মাতলামি করতেন তিনি। প্রভাবশালী হওয়ায় কেউ তার বিরুদ্ধে কোন কথা বলার কেউ সাহস পাইনি। তার এই অস্বাভাবিক আচরণে সবসময় ভীতসন্ত্রস্ত থাকতেন শিক্ষক ও শিক্ষার্থীরা। এই ন্যাক্কারজনক ঘটনার পর পরই শিক্ষার্থী, অভিভাবক ও এলাকাবাসী ক্ষুব্ধ হয়ে ওই শিক্ষকের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানান। প্রতিষ্ঠানের সুনাম এবং শিক্ষার মান বাড়াতে এমন অপ্রকৃতস্থ শিক্ষকের অপসারণ দাবি করেছেন শিক্ষক, শিক্ষার্থী ও অভিভাবকসহ এলাকাবাসী।
এদিকে, এই ঘটনায় প্রধান শিক্ষক রুহুল আমিনকে আলাদা চিঠিতে সাময়িক বরখাস্ত করেছেন শাহজাদপুর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ও উক্ত বিদ্যালয়ের সভাপতি সাবরিনা শারমিন। ঘটনার পর গত শনিবার বিদ্যালয়ের শিক্ষক ও কর্মচারীদের অংশগ্রহণে অনুষ্ঠিত সভার সিদ্ধান্ত মোতাবেক এ পদক্ষেপ নেওয়া হয়। এ অবস্থায় ওই বিদ্যালয়ের সহকারী প্রধান শিক্ষক আব্দুর রশিদকে ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষকের দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে। এছাড়াও মদ্যপান করে নিজ কক্ষে মাতলামি করার অভিযোগে প্রধান শিক্ষককে সাময়িক বরখাস্ত এবং এমপিও স্থগিত করেছে মাধ্যমিক ও উচ্চ শিক্ষা অধিদপ্তর।
শনিবার মাধ্যমিক ও উচ্চ শিক্ষা অধিদপ্তরের বেসরকারি মাধ্যমিক শাখার সহকারী পরিচালক (২) এস এম মোসলেম উদ্দিন স্বাক্ষরিত চিঠিতে এ তথ্য জানিয়েছেন। অধিদপ্তরের চিঠিতে বলা হয়, প্রধান শিক্ষক রুহুল আমিনের আপত্তিকর, অনৈতিক ও আইন বহির্ভূত কর্মকাণ্ড শিক্ষক সমাজের মর্যাদা চরমভাবে ক্ষুন্ন করেছে। একইসাথে ছাত্র-ছাত্রী, অভিভাবক ও সাধারণ মহলে তীব্র ক্ষোভ ও অসন্তোষের সৃষ্টি হয়েছে। যা স্বীকৃত পাওয়া বেসরকারি মাধ্যমিক স্কুল শিক্ষকদের চাকরির শর্ত বিধিমালা ১৯৭৯ অনুযায়ী চরম শৃঙ্খলা ভঙ্গ ও অসদাচরণের শামিল। ওই বিধিমালা অনুযায়ী প্রধান শিক্ষক রুহুল আমিনকে তাৎক্ষণিক সমায়িক বরখাস্ত ও এমপিও নীতিমালা-২০২৫ অনুযায়ী পরবর্তী নির্দেশ না দেওয়া পর্যন্ত এমপিও স্থগিত করার জন্য অধিদপ্তরের সাধারণ প্রশাসন শাখা ও স্কুলের ব্যবস্থাপনা কমিটির সভাপতিকে বলেছে মাধ্যমিক ও উচ্চ শিক্ষা অধিদপ্তর।
জানা যায়, নুকালি বহুপবার্শিক উচ্চ বিদ্যালয়টি ১৯১২ সালে প্রতিষ্ঠিত হয়। বিএসসি শিক্ষক হিসেবে ১৯৯১ সালে চাকুরীতে যোগদান করে মো. রুহুল আমিন। তিনি ২০১৫ সালে সহকারী প্রধান শিক্ষক হিসেবে নিয়োগ পান। পরে ২০১৯ সালে তিনি প্রধান শিক্ষক হিসেবে দায়িত্ব নেন। রুহুল আমিনের পিতা মৃত মজিবুর রহমান নুকালী সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সাবেক প্রধান শিক্ষক ছিলেন।
শাহজাদপুর উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা অফিসার (ভারপ্রাপ্ত) মোঃ সাইদুল ইসলাম শেখ জানান, এই বিষয়টি জানার পর আমি উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ও জেলা শিক্ষা কর্মকর্তাকে অবগত করেছি। এই ঘটনায় প্রধান শিক্ষক রুহুল আমিনকে কারণ দর্শানো নোটিশ দেওয়া হয়েছে। আগামী ৩ কর্মদিবসের মধ্যে নোটিশের জবাব দেওয়ার জন্য বলা হয়েছে। এছাড়াও তার বিরুদ্ধে বিভাগীয় ব্যবস্থা নেওয়ার জন্য সবকিছু তৈরী করা হচ্ছে।
শাহজাদপুর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ও উক্ত বিদ্যালয়ের সভাপতি সাবরিনা শারমিন বলেন, এই ঘটনায় প্রধান শিক্ষক রুহুল আমিনকে আলাদা চিঠিতে সাময়িক বরখাস্ত করা হয়েছে। ওই বিদ্যালয়ের সহকারী প্রধান শিক্ষক আব্দুর রশিদকে ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষকের দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে।
এর আগে, গত বৃহস্পতিবার শাহজাদপুর উপজেলার নুকালী বহুপার্শ্বিক উচ্চ বিদ্যালয়ে অর্ধ বার্ষিকী পরীক্ষা চলাকালীন সময় প্রধান শিক্ষক নিজ কক্ষে মদপান করে মাতলামি করার একটি ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমসহ বেসরকারি টেলিভিশন নাগরিক টিভিতে প্রচার হয়। ভিডিওটি ভাইরাল হওয়ার সাথে সাথে প্রধানমন্ত্রী ও শিক্ষামন্ত্রী তাৎক্ষনিক তার বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেন।
পড়ুন:ঝালকাঠিতে যাত্রীবাহী বাস খাদে পড়ে ১ জন নিহত আহত ১০ জন
দেখুন:ইংল্যান্ডের ৩২০ বছর পুরোনো চা এখন মালিবাগে
ইমি/


