চলমান ২০২৬ ফুটবল বিশ্বকাপকে ঘিরে নতুন এক রাজনৈতিক ও কূটনৈতিক বিতর্কের জন্ম হয়েছে। যুক্তরাষ্ট্রের জাতীয় দলের ফরোয়ার্ড ফোলারিন বালোগুনের লাল কার্ডজনিত নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহারে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প সরাসরি ফিফা সভাপতি জিয়ান্নি ইনফান্তিনোর সঙ্গে যোগাযোগ করেছেন বলে দাবি করা হয়েছে। খবর এনডিটিভির। মার্কিন সরকারের একটি উচ্চপর্যায়ের সূত্রের বরাতে প্রকাশিত এই তথ্য সামনে আসার পর আন্তর্জাতিক ফুটবল অঙ্গনে ব্যাপক আলোচনা শুরু হয়েছে।
এনডিটিভির খবরে বলা হয়, গ্রুপ পর্বের শেষ ম্যাচে বসনিয়া অ্যান্ড হার্জেগোভিনার বিপক্ষে যুক্তরাষ্ট্রের ২-০ গোলের জয়ের ম্যাচে ৬৪তম মিনিটে লাল কার্ড দেখে মাঠ ছাড়েন বালোগুন। প্রচলিত নিয়ম অনুযায়ী, নকআউট পর্বের প্রথম ম্যাচে তার এক ম্যাচ নিষিদ্ধ থাকার কথা ছিল। তবে সেই সিদ্ধান্ত পুনর্বিবেচনার অনুরোধ জানিয়ে ট্রাম্প ফিফা সভাপতির সঙ্গে কথা বলেন বলে দাবি করা হয়েছে। মার্কিন সরকারের ভাষ্য, আলোচনার উদ্দেশ্য ছিল লাল কার্ডের পেছনের পরিস্থিতি ব্যাখ্যা করা এবং আপিলের পক্ষে অতিরিক্ত তথ্য উপস্থাপন করা।
এর কিছু সময় পর ফিফার স্বাধীন আপিল বোর্ড বালোগুনের নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহারের সিদ্ধান্ত নেয়। ফিফা ডিসিপ্লিনারি কমিটির এক বিবৃতিতে জানানো হয়, বিশেষ ধারার আওতায় তার স্বয়ংক্রিয় এক ম্যাচের নিষেধাজ্ঞা এক বছরের জন্য স্থগিত রাখা হয়েছে। ফলে সিয়াটলে বেলজিয়ামের বিপক্ষে রাউন্ড অব ১৬-এর ম্যাচে যুক্তরাষ্ট্রের জার্সিতে খেলতে তার আর কোনো বাধা থাকছে না।
ফিফার এই সিদ্ধান্তের পর নিজের সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ‘ট্রুথ সোশ্যাল’-এ প্রতিক্রিয়া জানান ডোনাল্ড ট্রাম্প। সেখানে তিনি লেখেন, “সঠিক সিদ্ধান্ত নেওয়ার জন্য এবং একটি বড় অন্যায়ের রায় পরিবর্তন করায় ফিফাকে ধন্যবাদ! — প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড জে. ট্রাম্প।”
তবে সিদ্ধান্তটি ঘোষণার পরপরই বিতর্ক আরও তীব্র আকার ধারণ করে। ফিফা নিজেদের নীতিমালা ভঙ্গ করেছে বলে অভিযোগ তোলে বেলজিয়াম ফুটবল ফেডারেশন। বালোগুনকে মাঠে নামানোর সিদ্ধান্তের বিরুদ্ধে সম্ভাব্য সব ধরনের আইনি পদক্ষেপ নেওয়ার বিষয়টি তারা গুরুত্বের সঙ্গে বিবেচনা করছে বলেও জানা গেছে।
টুর্নামেন্টে ইতোমধ্যে তিনটি গোল করা বালোগুন যুক্তরাষ্ট্রের আক্রমণভাগের অন্যতম প্রধান ভরসা। তাকে ঘিরে নেওয়া সর্বশেষ এই সিদ্ধান্ত বিশ্ব ফুটবলের সর্বোচ্চ নিয়ন্ত্রক সংস্থা ফিফাকে নতুন করে বিতর্কের কেন্দ্রে নিয়ে এসেছে।
সূত্র: এনডিটিভি
পড়ুন: ব্রাজিলকে কাঁদিয়েই আবারো ইতিহাস নরওয়ের
আর/


