যমুনা রেল সেতু নির্মাণ প্রকল্পের আওতায় লেক ভরাটের কাজে সরকারি প্রতিষ্ঠানের নিজস্ব জমি থেকে অবৈধভাবে মাটি উত্তোলন করে তা একই প্রকল্পে ব্যবহারের মাধ্যমে বিপুল পরিমাণ সরকারি অর্থ আত্মসাতের অভিযোগ উঠেছে ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান এবিএস (ABS)-এর বিরুদ্ধে। স্থানীয়দের দাবি, বাংলাদেশ ব্রিজ অথরিটির (বিবিএ) মালিকানাধীন জমি থেকে ড্রেজিংয়ের মাধ্যমে মাটি উত্তোলনের ফলে পাশের ফসলি জমি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। তবে অভিযোগের বিষয়টি তদন্ত করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়ার আশ্বাস দিয়েছে বাংলাদেশ ব্রিজ অথরিটি।
উত্তরাঞ্চলের সঙ্গে সারাদেশের রেল যোগাযোগ আরও দ্রুত, নিরাপদ ও আধুনিক করতে ২০২০ সালে যমুনা রেল সেতু নির্মাণ প্রকল্পের কাজ শুরু হয়। প্রকল্পের প্রাথমিক পরিকল্পনায় সিরাজগঞ্জ অংশে রেলওয়ের জায়গায় একটি দৃষ্টিনন্দন লেক ও রেল জাদুঘর নির্মাণের কথা থাকলেও পরবর্তীতে নকশা পরিবর্তন করে লেকটি ভরাটের সিদ্ধান্ত নেয় সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ।
স্থানীয়দের অভিযোগ, ওই লেক ভরাটের জন্য বাইরে থেকে বালুমাটি সংগ্রহ না করে জাদুঘরের পেছনে বাংলাদেশ ব্রিজ অথরিটির জমি থেকে বালুমাটি ড্রেজিংয়ের মাধ্যমে উত্তোলন করা হয়। এতে আবাদি জমি ক্ষতিগ্রস্ত হয়ে অনেক জায়গা জলাশয়ে পরিণত হয়েছে। একই সঙ্গে সরকারি জমির মাটি ব্যবহার করেও প্রকল্পে মাটি ক্রয়ের বিল দেখিয়ে বিপুল অঙ্কের সরকারি অর্থ আত্মসাতের অভিযোগ উঠেছে ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান এবিএসের বিরুদ্ধে।
স্থানীয় একাধিক বাসিন্দা বলেন, আগে এখানে ফসলি জমি ছিল। এবিএস কোম্পানি ওই এলাকা থেকে মাটি কেটে প্রকল্পের ভেতরে লেক ভরাট করেছে। বাইরে থেকে মাটি আনার পরিবর্তে বিবিএ (BBA) জমি কেটে নেওয়ায় কৃষিজমি নষ্ট হয়েছে। বর্তমানে সেখানে গভীর গর্ত বা পুকুরে পরিণত হয়েছে, ফলে কৃষিকাজ ব্যাহত হচ্ছে।
এ বিষয়ে বক্তব্য জানতে চাইলে এবিএসের ব্যবস্থাপনা পরিচালক (এমডি) আব্দুর রহমান কোন বক্তব্য দিতে রাজি হননি। তিনি বলেন আমরা সাব নিয়েছে আই এইস আই কাছে থেকে আপনি সেখানে কথা বলেন বা বাংলাদেশ রেলওয়ে কর্তৃপক্ষ কাছে থেকে বক্তব্য নিতে বলে।
যমুনা সেতু সাইট অফিস, ভূয়াপুর (টাঙ্গাইল)-এর নির্বাহী প্রকৌশলী সৈয়দ রিয়াজ উদ্দিন বলেন, বিবিএর জায়গা থেকে অবৈধ উপায়ে মাটি খননের বিষয়ে বিবিএর প্রধান কার্যালয়ে জানানো হয়েছে। তদন্ত সাপেক্ষে দ্রুতই ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
স্থানীয়দের দাবি, সরকারি উন্নয়ন প্রকল্পে স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতা নিশ্চিত না হলে এ ধরনের অনিয়ম ভবিষ্যতেও অব্যাহত থাকবে। তাই অভিযোগের নিরপেক্ষ তদন্তের মাধ্যমে প্রকৃত ঘটনা উদঘাটন করে দায়ীদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ এবং ক্ষতিগ্রস্ত কৃষকদের স্বার্থ রক্ষায় কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়ার আহ্বান জানিয়েছেন তারা।
পড়ুন : দেশে প্রথমবারের মতো ‘জাতীয় গ্রামীণ উন্নয়ন দিবস’
সা/


