বিশ্বকাপের নকআউট পর্বে নরওয়ের কাছে হেরে টুর্নামেন্ট থেকে বিদায় নিয়েছে ব্রাজিল। প্রিয় দলের এই পরাজয়ে বিশ্বের বিভিন্ন দেশের সমর্থকদের মতো বাংলাদেশের অনেক ব্রাজিলভক্তও হতাশ হয়েছেন। এরই মধ্যে কুষ্টিয়ার কুমারখালী উপজেলার এক তরুণের মৃত্যুর ঘটনাকে ঘিরে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ব্যাপক আলোচনা শুরু হয়েছে। পরিবারের দাবি, ব্রাজিলের পরাজয় এবং তা নিয়ে কটাক্ষের কারণে তিনি মানসিকভাবে ভেঙে পড়েছিলেন।
সোমবার (৬ জুলাই) বেলা ১১টার দিকে উপজেলার কয়া ইউনিয়নের ঘোড়াইঘাট এলাকায় এ ঘটনা ঘটে। নিহত রতন (২১) ওই এলাকার হোসেন মিস্ত্রির ছেলে। তিনি পেশায় একজন শ্রমিক ছিলেন। স্থানীয় সূত্র ও পরিবারের ভাষ্য অনুযায়ী, প্রিয় দলের পরাজয়ের পর বিভিন্ন কটূক্তি ও ট্রলের কারণে তিনি মানসিক চাপে ছিলেন। তবে মৃত্যুর প্রকৃত কারণ সম্পর্কে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর তদন্ত ও আনুষ্ঠানিক বক্তব্যের অপেক্ষা রয়েছে।
ঘটনাটি জানার পর শোক প্রকাশ করেছেন জনপ্রিয় অভিনেতা জিয়াউল ফারুক অপূর্ব। নিজেও একজন ব্রাজিল সমর্থক হওয়ায় বিষয়টি তাকে গভীরভাবে নাড়া দিয়েছে বলে জানিয়েছেন তিনি। নিজের ভেরিফায়েড ফেসবুক পেজে দেওয়া এক পোস্টে অপূর্ব খেলাকে শুধুই বিনোদন হিসেবে দেখার আহ্বান জানান।
পোস্টে তিনি লেখেন, ব্রাজিলের পরাজয়ের পর কুষ্টিয়ার এক তরুণের মৃত্যুর খবর তাকে ভীষণ কষ্ট দিয়েছে। তিনি বলেন, খেলায় জয়-পরাজয় থাকবেই। প্রিয় দল জিতলে আনন্দ লাগবে, হারলে খারাপ লাগবে—এটাই স্বাভাবিক। তবে কোনোভাবেই খেলাকে জীবনের চেয়ে বড় করে দেখা উচিত নয়। কারণ দিনশেষে ফুটবল একটি খেলা, আর মানুষের জীবনই সবচেয়ে মূল্যবান।
অপূর্ব আরও বলেন, ট্রল বা মজার মন্তব্য খেলাধুলার অংশ হলেও সেটি যেন কখনো অপমান বা মানসিক নির্যাতনে পরিণত না হয়। তার ভাষায়, কারও কাছে একটি মন্তব্য হাস্যরসের বিষয় হতে পারে, কিন্তু অন্য কারও জন্য সেটি গভীর মানসিক কষ্টের কারণ হয়ে দাঁড়াতে পারে। তাই সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে কিংবা বাস্তব জীবনে দায়িত্বশীল আচরণ করার আহ্বান জানান তিনি।
পোস্টের শেষাংশে অভিনেতা স্মরণ করিয়ে দেন, একটি দল আজ হারলেও ভবিষ্যতে আবার জিততে পারে, ট্রফিও জিততে পারে। কিন্তু একটি জীবন একবার হারিয়ে গেলে তা আর কখনো ফিরে আসে না। তাই খেলার আবেগ যেন কখনো মানুষের জীবন, পরিবার ও ভবিষ্যতের চেয়ে বড় হয়ে না ওঠে—এমন সচেতনতা গড়ে তোলার আহ্বান জানিয়েছেন তিনি।
বিশেষজ্ঞদের মতে, খেলাধুলা নিয়ে অতিরিক্ত আবেগ, সামাজিক চাপ কিংবা অনলাইন ট্রল অনেক সময় মানসিক স্বাস্থ্যে নেতিবাচক প্রভাব ফেলতে পারে। তাই পরিবার, বন্ধু ও সমাজের উচিত এমন পরিস্থিতিতে সহানুভূতিশীল আচরণ করা এবং মানসিকভাবে বিপর্যস্ত ব্যক্তিদের প্রয়োজনীয় সহায়তা নিশ্চিত করা।
পড়ুন:বিরতি শেষে আবার বসছে সংসদ অধিবেশন
ইমি/


