বিশ্বকাপের সমাপ্তি ঘনিয়ে আসার সঙ্গে সঙ্গে টুর্নামেন্টের শেষ চার ম্যাচের জন্য বিশেষ সংস্করণের অফিসিয়াল ম্যাচ বল উন্মোচন করেছে অ্যাডিডাস। ‘ট্রিওন্ডা ফাইনাল (TRIONDA FINAL)’ নামের এই বল ব্যবহার করা হবে দুটি সেমিফাইনাল, তৃতীয় স্থান নির্ধারণী ম্যাচ এবং ফাইনালে।
গত বছরের অক্টোবরে প্রকাশিত ‘ট্রিওন্ডা’ বলের আধুনিক সংস্করণ এটি। আগের বলের প্রযুক্তিগত সক্ষমতা ও পারফরম্যান্স অপরিবর্তিত রাখা হলেও নতুন সংস্করণে নকশায় আনা হয়েছে ভিন্নতা। বিশ্বকাপের ইতিহাসে এবারই প্রথম শুধু রঙ পরিবর্তনের পরিবর্তে শেষ চার ম্যাচের গুরুত্ব তুলে ধরতে সম্পূর্ণ আলাদা ডিজাইনের বল তৈরি করেছে অ্যাডিডাস।
‘ট্রিওন্ডা ফাইনাল’-এর নকশায় বিশ্বকাপ জয়ের প্রতীকী আবহ ফুটিয়ে তোলা হয়েছে। কালো রঙের ভিত্তির ওপর সোনালি অলংকরণে বিশ্বকাপ ট্রফির অনুপ্রেরণা তুলে ধরা হয়েছে, যা বলটিকে দিয়েছে আলাদা আকর্ষণ।
বিশেষ এই বলে ২০২৬ বিশ্বকাপের ১৬টি স্বাগতিক শহরের পরিচয়ও যুক্ত করা হয়েছে। এর মধ্যে সেমিফাইনাল, তৃতীয় স্থান নির্ধারণী ম্যাচ ও ফাইনালের আয়োজক ডালাস, আটলান্টা, মিয়ামি এবং নিউ জার্সিকে নকশায় বিশেষ গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে। পাশাপাশি বোস্টন, গুয়াদালাহারা, হিউস্টন, কানসাস সিটি, লস অ্যাঞ্জেলেস, মেক্সিকো সিটি, মনতেরে, ফিলাডেলফিয়া, সান ফ্রান্সিসকো বে এরিয়া, সিয়াটেল, টরন্টো ও ভ্যাঙ্কুভারের নামও ত্রিভুজাকৃতির গ্রাফিক উপাদানের মাধ্যমে তুলে ধরা হয়েছে।
নতুন বল উন্মোচনের সময় ফিফা সভাপতি জিয়ান্নি ইনফান্তিনো বলেন, বিশ্বকাপের শেষ চার ম্যাচে ‘ট্রিওন্ডা ফাইনাল’ ব্যবহার করা হবে। তার মতে, পুরো টুর্নামেন্টে ‘ট্রিওন্ডা’ অসংখ্য স্মরণীয় গোলের সাক্ষী হয়েছে। একই সঙ্গে এটি তিন স্বাগতিক দেশ—যুক্তরাষ্ট্র, কানাডা ও মেক্সিকোর ঐক্য এবং ফুটবলের প্রতি তাদের ভালোবাসার প্রতীক।
তিনি আরও বলেন, বিশ্বকাপের শেষ পর্যায়ের প্রতিটি পাস, শট, সেভ ও গোলের সঙ্গে এই বল এবং ১৬টি স্বাগতিক শহরের অবদানও ইতিহাসের অংশ হয়ে থাকবে।
নকশার পাশাপাশি প্রযুক্তিগত দিক থেকেও নতুন সুবিধা যুক্ত হয়েছে ‘ট্রিওন্ডা ফাইনাল’-এ। এতে রয়েছে কানেক্টেড বল প্রযুক্তি, যার মাধ্যমে রিয়েল-টাইমে বলের গতিবিধি ও তথ্য সংগ্রহ করা সম্ভব হবে। এর ফলে ম্যাচ পরিচালনার সময় রেফারিরা আরও দ্রুত ও নির্ভুল সিদ্ধান্ত নিতে পারবেন এবং ম্যাচ বিশ্লেষণেও যুক্ত হবে নতুন প্রযুক্তিগত সুবিধা।


