বিজ্ঞাপন

কালিয়াকৈরে জমজমাট নৌকা শিল্প

গাজীপুরের কালিয়াকৈর উপজেলার চাপাইর ইউনিয়নের সিমারপাড় গ্রাম এখন কাঠের নৌকা তৈরির একটি পরিচিত কেন্দ্র।

বিজ্ঞাপন

গ্রামে প্রবেশ করলেই চোখে পড়ে সারি সারি নৌকা তৈরির ব্যস্ততা। কোথাও কাঠ কাটা, কোথাও নৌকার কাঠামো নির্মাণ, আবার কোথাও শেষ মুহূর্তের রং-তুলির কাজ—সব মিলিয়ে ব্যস্ত সময় পার করছেন স্থানীয় কারিগররা।

স্থানীয়দের সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, কারিগররা বছরের বিভিন্ন সময় আগেভাগেই রেডিমেড নৌকা তৈরি করে রাখেন। পরে দেশের বিভিন্ন জেলা থেকে আসা ক্রেতাদের কাছে সেগুলো বিক্রি করা হয়। বিশেষ করে জলকা ও ঘাসি ধরনের নৌকার চাহিদা সবচেয়ে বেশি।

নৌকার আকার, কাঠের মান ও নকশা অনুযায়ী প্রতিটির দাম প্রায় ৬০ হাজার থেকে ১ লাখ টাকা পর্যন্ত।

কারিগররা জানান, এসব নৌকা মূলত জেলে ও মাছচাষিদের কাছে বেশি বিক্রি হয়। নদী-খালে মাছ ধরা, পুকুরে মাছের খাবার দেওয়া, জাল টানা বিভিন্ন জলাশয়ে চলাচলের কাজে এসব নৌকা ব্যবহৃত হয়। শুধু গাজীপুর নয়, দেশের বিভিন্ন জেলা থেকে ক্রেতারা সিমারপাড়ে এসে নৌকা কিনে নিয়ে যান।

নৌকা কারিগর বাবুল বলেন, আমরা ৬০-৭০ বছর ধরে নৌকা তৈরি করছি। উন্নত মানের কাঠ ব্যবহার করায় আমাদের নৌকার সুনাম রয়েছে। দেশের বিভিন্ন জেলা থেকে ক্রেতারা এসে রেডিমেড নৌকা কিনে নিয়ে যান। তবে কাঠ ও শ্রমিকের খরচ বেড়ে যাওয়ায় উৎপাদন ব্যয়ও বেড়েছে।

নৌকা ক্রেতা ও জেলে জালাল বলেন, সিমারপাড়ের নৌকা মজবুত ও টেকসই হওয়ায় আমরা এখান থেকেই কিনি। মাছ ধরা ও পুকুরে বিভিন্ন কাজে এসব নৌকা খুবই উপযোগী। দাম কিছুটা বেশি হলেও মান ভালো হওয়ায় এটি কেনাই লাভজনক।

কালিয়াকৈর উপজেলা মৎস্য কর্মকর্তা নাজমূল হুদা বলেন, সিমারপাড়ের নৌকা শিল্প আমাদের উপজেলার একটি ঐতিহ্যবাহী কুটিরশিল্প। স্থানীয় কারিগররা তাদের দক্ষতা ও পরিশ্রমের মাধ্যমে এই শিল্পকে টিকিয়ে রেখেছেন। এ শিল্পের বিকাশে সরকারি বিভিন্ন সহায়তা ও প্রশিক্ষণের সুযোগ রয়েছে। বাজার সম্প্রসারণ, প্রয়োজনীয় সহযোগিতা নিশ্চিত করা গেলে এই শিল্প আরও সমৃদ্ধ হবে, স্থানীয় মানুষের কর্মসংস্থান ও অর্থনীতিতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।

পড়ুন : টানা বর্ষণে চট্টগ্রাম নগরীর নিম্নাঞ্চলে জলাবদ্ধতা

সা/

বিজ্ঞাপন

আরও পড়ুন

বিজ্ঞাপন

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here

This site uses Akismet to reduce spam. Learn how your comment data is processed.

বিশেষ প্রতিবেদন