বিজ্ঞাপন

হুমকি দিলে চুক্তি নয়, ট্রাম্পকে ইরানের হুঁশিয়ারি

মধ্যপ্রাচ্যে চরম উত্তেজনা ও যুদ্ধ পরিস্থিতির মাঝেই মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পকে কড়া হুঁশিয়ারি দিলেন ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাগচি। তিনি স্পষ্ট জানিয়েছেন, হুমকি অব্যাহত থাকলে কোনো ধরনের চূড়ান্ত চুক্তি নিয়ে আলোচনা শুরু করা হবে না।

বিজ্ঞাপন

এর আগে ট্রাম্প হুমকি দিয়ে বলেছিলেন, ওয়াশিংটন হয় তেহরানের সাথে একটি চুক্তিতে পৌঁছাবে, অন্যথায় “কাজ শেষ করে দেবে”।

ইরানের নিহত সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ আলী খামেনেই এবং তাঁর পরিবারের সদস্যদের জানাজার নামাজ দেশটির পবিত্র শহর কোমে অনুষ্ঠিত হচ্ছে। খামেনেইর মৃত্যুতে পুরো ইরান জুড়ে এখন রাষ্ট্রীয় শোক ও উত্তেজনা বিরাজ করছে।

এদিকে, ইরানের প্রয়াত সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ আলি খামেনির শোকযাত্রায় অংশ নিয়েছেন দেশটির সাবেক প্রেসিডেন্ট মাহমুদ আহমাদিনেজাদ। তার ঘনিষ্ঠ ও অনুগত হিসেবে পরিচিত অফিশিয়াল টেলিগ্রাম চ্যানেল ‘দৌলত-ই বাহার’-এ আহমাদিনেজাদের শোকযাত্রায় অংশগ্রহণের কিছু ছবি প্রকাশ করা হয়েছে। খবর আল জাজিরার।

আহমাদিনেজাদের রাজনৈতিক উত্থানে খামেনির বড় অবদান ছিল। প্রেসিডেন্ট হিসেবে নিজের প্রথম মেয়াদে (২০০৫-২০০৯) খামেনির প্রত্যক্ষ ও অবিচল পৃষ্ঠপোষকতা পেয়েছিলেন তিনি। এই সমর্থনের চূড়ান্ত রূপ দেখা যায় ২০০৯ সালের ‘বিতর্কিত’ প্রেসিডেন্ট নির্বাচনে। খামেনি তখন জুমার খুতবাকে আহমাদিনেজাদ সরকারের পক্ষে জোরালো প্রচারণার হাতিয়ার হিসেবে ব্যবহার করেছিলেন।

তবে ২০১০ সালের মধ্যেই আহমাদিনেজাদ এবং সর্বোচ্চ নেতার মধ্যকার সম্পর্কে ফাটল ধরতে শুরু করে। তৎকালীন গোয়েন্দা মন্ত্রী হেইদার মোসলেহিকে বরখাস্ত করাকে কেন্দ্র করে এই বিরোধ চূড়ান্ত রূপ নেয়।

আহমাদিনেজাদ মোসলেহিকে পদত্যাগে বাধ্য করলে খামেনি অবিলম্বে পাল্টা ডিক্রি জারি করে সেই গোয়েন্দা প্রধানকে পুনর্বহাল করেন। সর্বোচ্চ নেতার সিদ্ধান্তের বিরুদ্ধে এক নজিরবিহীন ‘অবাধ্যতা’ প্রদর্শন করে আহমাদিনেজাদ টানা ১১ দিনের জন্য কর্মবিরতি পালন করেন। নিজের ব্যক্তিগত বাসভবনে অবস্থান নিয়ে রাষ্ট্রের নির্বাহী কার্যক্রম একপ্রকার স্থবির করে দেন তিনি।

এমন আচরণের কারণে ইরানের শাসনকাঠামোর উচ্চপর্যায়ে থাকা ব্যক্তিরা তার ওপর ক্ষুব্ধ হন। ২০১৩ সালে প্রেসিডেন্ট হিসেবে তার দ্বিতীয় মেয়াদ শেষ হওয়ার পর এই দূরত্ব প্রাতিষ্ঠানিক বর্জনে রূপ নেয়। খামেনি নিয়ন্ত্রণে থাকা গার্ডিয়ান কাউন্সিল পরবর্তীতে ২০১৭, ২০২১ এবং ২০২৪ সালের প্রেসিডেন্ট নির্বাচনে আহমাদিনেজাদকে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করার সুযোগ দেয়নি।

তাই প্রয়াত সর্বোচ্চ নেতার শোকযাত্রায় আহমাদিনেজাদের উপস্থিতি বিশেষ গুরুত্ব বহন করে। অনেকেই তার এই উপস্থিতিকে ইরানের রাজনীতিতে নীরব পালাবদলের ইঙ্গিত হিসেবে দেখছেন।

এর আগে তেহরানে টানা তৃতীয় দিনের মতো শেষ শ্রদ্ধা জানাতে লাখো মানুষ রাস্তায় নেমে আসে। রাষ্ট্রীয় টেলিভিশনের ভাষ্য অনুযায়ী, শোকযাত্রায় মানুষের উপস্থিতি ১৯৮৯ সালে আয়াতুল্লাহ রুহুল্লাহ খোমেনির জানাজার সমাবেশের সঙ্গে তুলনীয়।

শোকযাত্রায় একটি ট্রাকে খামেনির মরদেহের পাশাপাশি গত ২৮ ফেব্রুয়ারি যুক্তরাষ্ট্র-ইসরায়েলের হামলায় নিহত তার পরিবারের চার সদস্যের মরদেহ বহন করা হয়। শোকাহত মানুষ কফিনের ওপর ফুলের পাপড়ি ছিটিয়ে শ্রদ্ধা জানান। নিহতদের মধ্যে খামেনির মাত্র ১৪ মাস বয়সী নাতনির ছোট কফিনও ছিল বলে রাষ্ট্রীয় গণমাধ্যম জানিয়েছে।

শোকযাত্রায় অংশ নেয়া হামিদ নামে এক ব্যক্তি আল জাজিরাকে বলেন, ‘যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েল ইরানকে বিভক্ত করতে চেয়েছিল। কিন্তু আমাদের নেতা সেই বিভক্তি ঠেকিয়েছেন। আমরা তার প্রতি কৃতজ্ঞতা জানাতেই এখানে এসেছি।’

আরেক শোকাহত মারজিয়েহ বলেন, ‘আমরা আমাদের শহিদ নেতাকে জানাতে এসেছি যে তার রক্ত বৃথা যাবে না। আমরা তার প্রতি আমাদের আনুগত্য পুনর্ব্যক্ত করতে এসেছি।’

পড়ুন: নতুন ‘ভিসা প্যাকেজ’ চালু করেছে সৌদি আরব

আর/

বিজ্ঞাপন

আরও পড়ুন

বিজ্ঞাপন

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here

This site uses Akismet to reduce spam. Learn how your comment data is processed.

বিশেষ প্রতিবেদন