ময়মনসিংহের ত্রিশালে মেসার্স মোজাদ্দেদীয়া ফিলিং স্টেশনের স্বত্বাধিকারী ও বিশিষ্টি ব্যবসায়ী মোঃ সোহেল রানার বিরুদ্ধে হয়রানি ও সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে অপপ্রচারের প্রতিবাদে মঙ্গলবার দুপুরে ত্রিশাল প্রেসক্লাবে সংবাদ সম্মেলন করেছে ভূক্তভোগী ব্যবসায়ী মোঃ সোহেল রানা।
সংবাদ সম্মেলনে তিনি লিখিত বক্তব্যে বলেন, বিগত ২০১১ সালে রাগামারা বাজারের দক্ষিণে ঢাকাময়মনসিংহ মহাসড়ক-সংলগ্ন পশ্চিম পাশে আমার নিজস্ব ক্রয়কৃত জমিতে একটি পেট্রোল পাম্প স্থাপনের উদ্যোগ গ্রহণ করি। সে সময় আমার অগ্রজ আব্দুল মান্নান প্রস্তাবিত পেট্রোল পাম্পে অংশীদার হওয়ার আগ্রহ প্রকাশ করেন। পরবর্তীতে পারিবারিক আলোচনার মাধ্যমে সিদ্ধান্ত হয় যে, পেট্রোল পাম্প স্থাপন ও নির্মাণের মোট ব্যয়ের ৪০ ভাগ তিনি বহন করবেন। সে অনুযায়ী, পাম্প চালুর তারিখ থেকে পরবর্তী ১২ বছরের জন্য আব্দুল মান্নানের ৪০ ভাগ এবং আমার ৬০ভাগ অংশীদারত্ব নির্ধারণপুর্বক ২৫ অক্টোবর২০১১ সালে আমরা একটি চুক্তিতে আবদ্ধ হই। উক্ত চুক্তির শর্তানুসারে, পেট্রোল পাম্পের আওতাধীন আমার ক্রয়কৃত ও স্বত্ব-দখলীয় জমি থেকে ৬ শতাংশ জমি আব্দুল মান্নানের নামে ৮৮১৩ নং হেবা দলিলমূলে প্রদান করি। কিন্তু পাম্পের নির্মাণকাজ শুরু হওয়ার পর আব্দুল মান্নান তাঁর প্রতিশ্রুত ও নির্ধারিত ৪০ভাগ নির্মাণ ব্যয় প্রদান করতে ব্যর্থ হন। একই সঙ্গে পারিবারিক অনীহার কারণে তিনি যৌথ মালিকানায় ফিলিং স্টেশন প্রতিষ্ঠা ও পরিচালনায় তাঁর অপারগতা প্রকাশ করেন। এমতাবস্থায়, আমি সম্পূর্ণ একক উদ্যোগে নিজস্অব অর্থায়নে আমার নিজ নামে ফিলিং স্টেশন প্রতিষ্ঠার যাবতীয় কার্যক্রম সম্পন্ন করি। সংশ্লিষ্ট সরকারি দপ্তরসমূহ থেকে প্রয়োজনীয় সব অনুমোদন ও অনুমতিপত্র আমার নিজ নামে সংগ্রহ করি এবং সম্পূর্ণ নিজস্ব অর্থায়নে ফিলিং স্টেশনের যাবতীয় অবকাঠামো নির্মাণ করি। সেই সময় থেকে অদ্যাবধি আমি একক মালিকানায় মোজাদ্দেদীয়া ফিলিং স্টেশন পরিচালনা করে আসছি।
পরবর্তীতে, বিগত ৮ আগস্ট২০১৭ ইং তারিখে আব্দুল মান্নান পূর্বে তাঁকে প্রদান করা ৬ শতাংশ জমি ১৩৬২ নং হেবা দলিলমূলে আমার বরাবরে ফেরত প্রদান করেন। এর মাধ্যমে উক্ত জমির ওপর তাঁর যাবতীয় স্বত্বের অবসান ঘটে এবং জমি ও ফিলিং স্টেশন-সংক্রান্ত বিষয়ে তিনি সম্পূণরুপে নিঃস্বত্ববান হন। বাস্তব ঘটনা, বৈধ দলিলপত্র, সরকারি অনুমোদন,j বিনিয়োগ এবং দীর্ঘদিনের একক পরিচালনার মাধ্যমে এটি সুস্পষ্ট ও সন্দেহাতীতভাবে প্রমাণিত যে, মোজাদ্দেদীয়া ফিলিং স্টেশনের প্রতিষ্ঠা, অর্থায়ন, মালিকানা ও পরিচালনা সম্পূণরুপে আমার একক। যা বহু বছর আগেই সম্পূর্ণভাবে মীমাংসিত।
এ বিষয়ে শুনানি অনুষ্ঠিত হয়। বিগত ১৭ আগষ্ট ২০২৩ ইং এবং ১৫ ডিসেম্বর২০২৫ ইং তারিখে দুইবার ত্রিশাল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তার কার্যালয়ে। এ ছাড়া, ৯ সেপ্টেম্বর ২০২৪ ইং এবং ১০ সেপ্টেম্বর২০২৫ ইং তারিখে দুইবার ত্রিশাল উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা এবং সহকারী কমিশনার (ভূমি)-এর উপস্থিতিতে একই বিষয় নিয়ে শুনানি অনুষ্ঠিত হয়। ২৩ মার্চ২০২৫ ইং তারিখে র্যাব-১৪, ময়মনসিংহের কার্যালয় থেকে আমাকে নোটিশ প্রদান করা হয় এবং সেখানে এ বিষয়ে শুনানি অনুষ্ঠিত হয়। পরে আমি নিয়মতান্ত্রিক জবাব প্রদান করি।
আইনি ও প্রশাসনিক প্রক্রিয়াকে ব্যবহার করে কোনো মীমাংসিত বিষয়কে বারবার উত্থাপন করা হলে একজন ব্যবসায়ীর স্বাভাবিক ব্যবসায়িক কার্যক্রম, সামাজিক মর্যাদা এবং মানসিক শান্তি মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্থ হয়।
আমি সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের কাছে ন্যায়বিচার, নিরপেক্ষতা এবং এই দীর্ঘদিনের হয়রানির স্থায়ী অবসান চাচ্ছি ।
পড়ুন : দেশের ১২ জেলায় ৮০ কিলোমিটার বেগে ঝড়ের আভাস
সা/


