বিজ্ঞাপন

যুক্তরাষ্ট্র-ইরানের পাল্টাপাল্টি হামলা: জ্বালানি বাজারে অস্থিরতা

যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে আবারও পাল্টাপাল্টি হামলার ঘটনা বিশ্ব জ্বালানি বাজারে নতুন করে অস্থিরতা তৈরি করেছে। এর প্রভাবে আন্তর্জাতিক বাজারে অপরিশোধিত তেলের দাম প্রতি ব্যারেলে এক ডলারের বেশি বেড়েছে।

বিজ্ঞাপন

মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প বুধবার (৮ জুলাই) রাতের মধ্যেই নতুন হামলার হুমকি দেওয়ার পর আন্তর্জাতিক বাজারে অপরিশোধিত তেলের দুই প্রধান বেঞ্চমার্কের দাম গত দুই সপ্তাহের সর্বোচ্চ পর্যায়ে পৌঁছে যায়।

ন্যাটো সম্মেলনের ফাঁকে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে ট্রাম্প বলেন, ইরানের সঙ্গে যুদ্ধ বন্ধের অন্তর্বর্তীকালীন চুক্তির কার্যকারিতা শেষ হয়েছে। তবে তিনি এই মুহূর্তে পূর্ণমাত্রার যুদ্ধের সম্ভাবনা উড়িয়ে দিয়েছেন।

বার্তা সংস্থা রয়টার্সের তথ্য অনুযায়ী, বুধবারের লেনদেন শেষে ব্রেন্ট ক্রুডের দাম ৫ শতাংশের বেশি বেড়ে প্রতি ব্যারেল ৭৮ দশমিক ০২ ডলারে স্থির হয়। পরে তা আরও বেড়ে ৭৯ দশমিক ২৮ ডলারে পৌঁছায়।

একই সময়ে মার্কিন ওয়েস্ট টেক্সাস ইন্টারমিডিয়েট (ডব্লিউটিআই) ক্রুডের দামও ঊর্ধ্বমুখী হয়। আগের সেশনে প্রতি ব্যারেল ৭৩ দশমিক ৫২ ডলার থাকলেও সর্বশেষ তা বেড়ে ৭৪ দশমিক ৭৬ ডলারে লেনদেন হচ্ছে।

মার্কিন সামরিক বাহিনীর সেন্ট্রাল কমান্ড (সেন্টকম) জানিয়েছে, হরমুজ প্রণালিতে নৌ চলাচল স্বাভাবিক রাখতে তারা ইরানে নতুন করে হামলা চালিয়েছে। রয়টার্সকে এক মার্কিন কর্মকর্তা জানান, চলমান এই অভিযান মঙ্গলবারের হামলার তুলনায় আরও বড় ও ব্যাপক হবে।

এদিকে ইরানের স্থানীয় গণমাধ্যম জানিয়েছে, বন্দর আব্বাস, আবু মুসা ও বুশেহরসহ দেশের বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ এলাকায় বিস্ফোরণের ঘটনা ঘটেছে।

গত মাসে দুই দেশের মধ্যে হওয়া অন্তর্বর্তীকালীন চুক্তির আওতায় ইরানের তেল বিক্রির ওপর থেকে মার্কিন নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহারের সুবিধা বাতিল হওয়ার পর নতুন করে উত্তেজনা সৃষ্টি হয়। এর প্রতিক্রিয়ায় ইরান হরমুজ প্রণালি দিয়ে চলাচলকারী বাণিজ্যিক জাহাজে হামলা চালায়। পাশাপাশি বুধবার তেহরান বাহরাইন ও কুয়েতে অবস্থিত মার্কিন সামরিক ঘাঁটিতে হামলার দাবি করে। এর জবাবে যুক্তরাষ্ট্র প্রতিশোধমূলক হামলা শুরু করে।

গত ২৮ ফেব্রুয়ারি ইরানের ওপর যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের বিমান হামলার মাধ্যমে এই সংঘাতের সূচনা হয়। এ সংঘাতে হরমুজ প্রণালির নিয়ন্ত্রণকে তেহরানের অন্যতম প্রধান কৌশলগত হাতিয়ার হিসেবে দেখা হচ্ছে। কারণ সংঘাত শুরুর আগে বিশ্বের মোট তেল সরবরাহের প্রায় ২০ শতাংশ এই জলপথ দিয়ে পরিবাহিত হতো।

এদিকে গত মঙ্গলবার দুটি তেলবাহী ট্যাংকারে হামলার ঘটনার পর নৌ কর্তৃপক্ষ হরমুজ প্রণালি দিয়ে চলাচলকারী সব ধরনের নৌযানের জন্য হুমকির ঝুঁকি সর্বোচ্চ পর্যায়ে উন্নীত করেছে।

বিজ্ঞাপন

আরও পড়ুন

বিজ্ঞাপন

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here

This site uses Akismet to reduce spam. Learn how your comment data is processed.

বিশেষ প্রতিবেদন