জাপানের দক্ষিণাঞ্চলের সাকিশিমা দ্বীপপুঞ্জে শক্তিশালী টাইফুন বাভির আঘাতে ভারী বৃষ্টি ও তীব্র ঝড়ো হাওয়া বইছে। শনিবার (১১ জুলাই) রয়টার্সের এক প্রতিবেদনে এ তথ্য জানানো হয়েছে।
ওকিনাওয়া প্রিফেকচারের ইশিগাকি দ্বীপে ঝড়ের তাণ্ডবে ফাঁকা সড়কে ঘরবাড়ির ধ্বংসাবশেষ ছড়িয়ে-ছিটিয়ে থাকতে দেখা গেছে। প্রবল বাতাস ও ভারী বৃষ্টির কারণে সড়কে হাতেগোনা কয়েকটি যানবাহন ছাড়া প্রায় সব ধরনের চলাচল বন্ধ হয়ে যায়।
প্রতিবেদনে বলা হয়, ঝড়ের প্রভাবে স্থানীয় বন্দরে নোঙর করা বড় বড় নৌযানও স্রোতের তোড়ে দুলতে থাকে। জাপান আবহাওয়া দপ্তরের তথ্য অনুযায়ী, টাইফুন বাভির কেন্দ্রের কাছে বাতাসের সর্বোচ্চ গতিবেগ ঘণ্টায় ১৪৪ কিলোমিটার। তবে দমকা হাওয়ার গতি ঘণ্টায় ১৯৮ কিলোমিটার পর্যন্ত পৌঁছাতে পারে বলে সতর্ক করা হয়েছে।
দুর্যোগের কারণে জনপ্রিয় পর্যটন এলাকা ইশিগাকিতে শনিবার সারাদিন বিমান ও ফেরি চলাচল সম্পূর্ণ বন্ধ রাখা হয়। একই সঙ্গে সম্ভাব্য বন্যা ও ভয়াবহ ভূমিধসের আশঙ্কায় স্থানীয় প্রশাসন সর্বোচ্চ সতর্কতা জারি করেছে।
জাপানে আঘাত হানার পর টাইফুন বাভি বর্তমানে তাইওয়ানের উত্তরাঞ্চলের দিকে অগ্রসর হচ্ছে। যদিও ঝড়টি তাইওয়ানের মূল ভূখণ্ডে সরাসরি আঘাত হানবে না, তবে এর প্রভাবে কয়েকটি এলাকায় প্রায় ১ মিটার পর্যন্ত বৃষ্টিপাত হতে পারে বলে পূর্বাভাস দেওয়া হয়েছে।
সম্ভাব্য ক্ষয়ক্ষতি ও প্রাণহানি এড়াতে তাইওয়ান সরকার আগাম কঠোর প্রস্তুতি নিয়েছে। এর অংশ হিসেবে দেশটির পাহাড়ি ও ঝুঁকিপূর্ণ উত্তর ও পূর্বাঞ্চল থেকে ১৪ হাজারের বেশি মানুষকে নিরাপদ আশ্রয়ে সরিয়ে নেওয়া হয়েছে। পাশাপাশি বৈরী আবহাওয়ার কারণে ৯১৭টি আন্তর্জাতিক এবং ২৭৪টি অভ্যন্তরীণ ফ্লাইট বাতিল করা হয়েছে।
ঝুঁকির কথা বিবেচনায় নিয়ে তাইওয়ানের প্রায় সব শহর ও কাউন্টিতে শনিবার বিশেষ ছুটি ঘোষণা করা হয়েছে। ফলে সপ্তাহান্ত হওয়া সত্ত্বেও যেসব স্কুল ও সরকারি অফিস খোলা থাকার কথা ছিল, সেগুলোও বন্ধ রাখা হয়। উত্তর-দক্ষিণ হাই-স্পিড রেল চলাচল স্বাভাবিক থাকলেও সাধারণ ট্রেনের সংখ্যা কমিয়ে দেওয়া হয়েছে।
রাজধানী তাইপেইতে দিনভর বৃষ্টি ও ঝোড়ো হাওয়া থাকলেও কিছু মানুষকে বাইরে চলাচল করতে দেখা গেছে। তাইপেইয়ের ৬৮ বছর বয়সী বাসিন্দা ইয়েহ মাও-হসিউং সকালে পোষা কুকুর নিয়ে হাঁটতে বেরিয়ে বলেন, পরিস্থিতি খুব বেশি গুরুতর নয়, তবে বাতাসের বেগ স্বাভাবিকের তুলনায় কিছুটা বেশি।
আবহাওয়ার পূর্বাভাস অনুযায়ী, তাইওয়ানের উত্তর-পূর্বাঞ্চল অতিক্রম করার পর টাইফুনটি আরও উত্তর-পশ্চিমে অগ্রসর হবে। রোববার (১২ জুলাই) ভোরে এটি চীনের পূর্বাঞ্চলীয় শহর ওয়েনঝোতে আঘাত হানতে পারে। প্রায় ১ কোটি মানুষের এই জনবহুল শহরেও টাইফুন বাভিকে ঘিরে ব্যাপক সতর্কতামূলক ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে।
পড়ুন: আজ বিশ্ব জনসংখ্যা দিবস
আর/


