দক্ষিণ আমেরিকার দেশ ভেনেজুয়েলায় আঘাত হানা জোড়া ভূমিকম্পে মৃতের সংখ্যা ৪ হাজার ছাড়িয়েছে। শুক্রবার (১০ জুলাই) দেশটির অন্তর্বর্তীকালীন প্রেসিডেন্ট জর্জ রদ্রিগেজ এ তথ্য নিশ্চিত করেছেন।
তিনি জানান, ভূমিকম্পে এখন পর্যন্ত ৪ হাজার ১১৮ জনের মৃত্যু হয়েছে। আহত হয়েছেন ১৬ হাজার ৭৪০ জন। এছাড়া হাজার হাজার পরিবার ঘরবাড়ি হারিয়ে বাস্তুচ্যুত ও গৃহহীন অবস্থায় রয়েছে।
সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে দেওয়া এক বিবৃতিতে জর্জ রদ্রিগেজ দুর্যোগ-পরবর্তী উদ্ধার ও ত্রাণ কার্যক্রমের সর্বশেষ তথ্য তুলে ধরেন। তিনি জানান, এ পর্যন্ত ক্ষতিগ্রস্ত ৮৬ হাজার ৭৯৪টি পরিবারকে জরুরি সরকারি সহায়তা দেওয়া হয়েছে।
আনাদোলুর প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, উদ্ধারকর্মীদের অব্যাহত অভিযানে ধ্বংসস্তূপের নিচ থেকে ৬ হাজার ৪৬২ জনকে জীবিত উদ্ধার করা হয়েছে। তবে ভূমিকম্পে ৮৫৬টি ভবন মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে এবং আরও ১৯০টি ভবন পুরোপুরি ধসে পড়েছে।
দুর্গত মানুষের সহায়তায় প্রশাসন ব্যাপক মানবিক কার্যক্রম পরিচালনা করছে। প্রেসিডেন্ট রদ্রিগেজ জানান, ক্ষতিগ্রস্তদের মধ্যে ৯ হাজার ৭৬৬ মেট্রিক টন খাদ্যসামগ্রী এবং ১ কোটি ৩৯ লাখ লিটারের বেশি বিশুদ্ধ পানি বিতরণ করা হয়েছে। পাশাপাশি আহত ও অসুস্থ ২৯ হাজার ৯৬৬ জনকে জরুরি চিকিৎসাসেবা দেওয়া হয়েছে। আশ্রয়হীনদের জন্য ৮৯টি অস্থায়ী ত্রাণ শিবিরও স্থাপন করেছে কর্তৃপক্ষ।
উদ্ধার তৎপরতায় বর্তমানে ৩০ হাজার ৭৬ জন সরকারি কর্মী এবং ২৯ হাজার ৮৪৩ জন স্বেচ্ছাসেবক কাজ করছেন। এছাড়া তাদের সঙ্গে যুক্ত হয়েছেন ৩ হাজার ৪৫৪ জন আন্তর্জাতিক উদ্ধারকর্মী।
স্থানীয় আবহাওয়া দপ্তরের তথ্য অনুযায়ী, মূল ভূমিকম্পের পর থেকে এ পর্যন্ত ১ হাজার ১৭১টি মৃদু ও মাঝারি মাত্রার আফটারশক বা অনুকম্পন রেকর্ড করা হয়েছে।
গত ২৪ জুন মাত্র ৩৯ সেকেন্ডের ব্যবধানে ভেনেজুয়েলায় ৭ দশমিক ২ এবং ৭ দশমিক ৫ মাত্রার দুটি শক্তিশালী ভূমিকম্প আঘাত হানে। জোড়া এ ভূমিকম্পে দেশজুড়ে ব্যাপক ধ্বংসযজ্ঞের সৃষ্টি হয়। পরিস্থিতি মোকাবিলায় দেশীয় ও আন্তর্জাতিক পর্যায়ে উদ্ধার ও ত্রাণ কার্যক্রম এখনো অব্যাহত রয়েছে।
পড়ুন: সেতু ধসে বান্দরবান-রাঙামাটি সড়ক যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন
আর/


