স্বাধীনতার ছয় দশক পেরিয়ে গেলেও মাদারীপুর সদর উপজেলার ঝাউদি ইউনিয়নের একটি গুরুত্বপূর্ণ সড়কের ভাগ্য বদলায়নি। প্রায় ৬০ বছর আগে নির্মিত ২ কিলোমিটার দীর্ঘ মাটির এই সড়কটি আজও পাকাকরণ না হওয়ায় বছরের পর বছর সীমাহীন দুর্ভোগ পোহাচ্ছেন বাহের মাদ্রা, ব্রাহ্মন্দী ও আজিতুল্লাপাড়া গ্রামের হাজারো মানুষ। বর্ষা এলেই সড়কটি কাদার সাগরে পরিণত হয়, যেন থমকে যায় তিন গ্রামের স্বাভাবিক জীবনযাত্রা।
রোববার (১২ জুলাই) সরেজমিনে গিয়ে দেখা যায়, কুলপদ্মী বাজার থেকে দক্ষিণে সন্নামত বাড়ি হয়ে বাহের মাদ্রা, আজিতুল্লাপাড়া ও ব্রাহ্মন্দী গ্রামের একমাত্র প্রধান সংযোগ সড়কটি বৃষ্টির পানিতে কর্দমাক্ত হয়ে পড়েছে। কোথাও হাঁটুসমান কাদা, কোথাও বড় বড় গর্ত। জীবনের ঝুঁকি নিয়েই প্রতিদিন এই পথ পাড়ি দিতে হচ্ছে এলাকাবাসীকে।
স্থানীয়দের ভাষ্য, তালিকাভুক্ত প্রকল্প হিসেবে ‘মাদ্রা মিঠু হাওলাদারের বাড়ি থেকে নয়া পুকুরপাড় পর্যন্ত’ সড়কটি নির্মাণের কথা থাকলেও বাস্তবে এখনো সেটি কাঁচাই রয়ে গেছে। দ্রুত সংস্কার না হলে যেকোনো সময় বড় ধরনের দুর্ঘটনা ঘটতে পারে বলে আশঙ্কা করছেন তারা।
সবচেয়ে বেশি ভোগান্তিতে পড়ছেন শিক্ষার্থী, রোগী ও কৃষকরা। সামান্য বৃষ্টিতেই স্কুল-কলেজগামী শিক্ষার্থীদের চলাচল প্রায় অসম্ভব হয়ে পড়ে। ভ্যান, রিকশা কিংবা পণ্যবাহী যানবাহন চলতে না পারায় কৃষিপণ্য বাজারজাত করাও কঠিন হয়ে যায়। জরুরি রোগী, গর্ভবতী নারী ও বৃদ্ধদের হাসপাতালে নিতে চরম দুর্ভোগ পোহাতে হয়। প্রতিনিয়ত কাদায় পিছলে পড়ে আহত হওয়ার ঘটনাও ঘটছে।
স্থানীয় বাসিন্দা আলিম মাতুব্বর বলেন, “এই রাস্তা যেন আমাদের জন্য মরণফাঁদ। একটু বৃষ্টি হলেই কাদায় ঢেকে যায়। তখন স্কুলের ছেলেমেয়েরা যেতে পারে না, বয়স্ক মানুষ হাঁটতেও পারেন না। কোনো মালামাল আনা-নেওয়া করা যায় না। দেশের সব জায়গায় উন্নয়ন হলেও আমাদের গ্রামটি এখনো সেই আগের অবস্থায় পড়ে আছে।”
আরেক বাসিন্দা মিজান মাতুব্বর বলেন, “মাদ্রা এলাকা যেন অবহেলার আরেক নাম। চারপাশের গ্রামগুলোতে উন্নয়নের ছোঁয়া লাগলেও আমাদের এই সড়কটি আজও কাঁচা। দ্রুত রাস্তা পাকাকরণ করা হলে অন্তত মানুষ এই দুর্ভোগ ও দুর্ঘটনার ঝুঁকি থেকে মুক্তি পাবে।”
স্থানীয় বাসিন্দা শাহিন মাতুব্বর, হাবিল মাতুব্বর, ইমাদ মাতুব্বর ও নুর আমিনসহ আরও কয়েকজন বলেন, আধুনিক বাংলাদেশের এই সময়ে একটি গুরুত্বপূর্ণ সড়ক কাঁচা থাকা অত্যন্ত দুঃখজনক। এর ফলে শিক্ষা, চিকিৎসা, কৃষি ও স্থানীয় অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ড মারাত্মকভাবে ব্যাহত হচ্ছে। তাই দ্রুত প্রশাসনিক উদ্যোগ নিয়ে প্রয়োজনীয় অর্থ বরাদ্দের মাধ্যমে সড়কটি পাকাকরণের দাবি জানান তারা।
এ বিষয়ে ঝাউদি ইউনিয়নের ৮ নম্বর ওয়ার্ডের ইউপি সদস্য মোহাম্মদ মিন্টু হাওলাদার বলেন, “রাস্তা সংস্কারের জন্য একাধিকবার আবেদন করেছি। কিন্তু এখন পর্যন্ত কোনো বরাদ্দ বা কাজের অনুমোদন পাইনি।”
মাদারীপুর সদর উপজেলার এলজিইডির নির্বাহী প্রকৌশলী মনোয়ার হোসেন বলেন, “রাস্তার জন্য বরাদ্দ পাওয়া গেলে কাজ করা হবে। এছাড়া এ পর্যন্ত এই সড়ক সংস্কারের বিষয়ে আমাদের কাছে কোনো লিখিত আবেদন বা অভিযোগ আসেনি।”
মাদারীপুর সদর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ওয়াদিয়া শাবাব বলেন, “যেসব সড়কে সংস্কার প্রয়োজন, সেগুলোর তালিকা পাওয়া গেলে বরাদ্দের ভিত্তিতে পর্যায়ক্রমে কাজ করা হবে।”
এদিকে দীর্ঘদিনের এই দুর্ভোগ থেকে মুক্তি পেতে এলাকাবাসী মাদারীপুর-৩ আসনের সংসদ সদস্যের কাছেও লিখিত আবেদন জমা দিয়েছেন। তাদের প্রত্যাশা, জনস্বার্থ ও জনদুর্ভোগ বিবেচনায় নিয়ে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ দ্রুত সড়কটি পাকাকরণের উদ্যোগ নেবে। কারণ একটি পাকা সড়ক শুধু যোগাযোগের পথই নয়, তিন গ্রামের মানুষের শিক্ষা, চিকিৎসা, কৃষি ও উন্নয়নের নতুন সম্ভাবনারও দ্বার খুলে দিতে পারে।
পড়ুন:হামে মৃত্যু: ড. ইউনূসসহ ৪ জনের বিরুদ্ধে মামলার আবেদন খারিজ
ইমি/


