বিজ্ঞাপন

সরকারি সার পাচার মামলায় মেহেরপুর সদর বিএনপির সাংগঠনিক সম্পাদক কারাগারে

কৃষকের জন্য বরাদ্দ সরকারি সার। সেই সারই অভিযোগ অনুযায়ী পাচারের উদ্দেশ্যে এক জেলা থেকে আরেক জেলায় নেওয়া হচ্ছিল ট্রাকে করে। পথে পুলিশের হাতে ধরা পড়ে ৪৬০ বস্তা ডিএপি সার। ওই ঘটনায় দায়ের হওয়া মামলায় পুলিশের দেওয়া চার্জশিটে আসামি হয়েছেন মেহেরপুর সদর উপজেলা বিএনপির সাংগঠনিক সম্পাদক ও জেলা সার ব্যবসায়ী সমিতির সাধারণ সম্পাদক মো. সোহরাব হোসেন। দীর্ঘদিন আদালতে হাজির না হওয়ায় তার বিরুদ্ধে গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারি হয়। পরে আদালতে আত্মসমর্পণ করলে জামিন আবেদন নামঞ্জুর করে তাকে গোপালগঞ্জ জেলা কারাগারে পাঠানো হয়। ঘটনাটি ঘিরে মেহেরপুরের রাজনৈতিক অঙ্গন ও কৃষকদের মধ্যে ব্যাপক আলোচনা-সমালোচনা শুরু হয়েছে।

বিজ্ঞাপন

গোপালগঞ্জের মুকসুদপুর থানায় দায়ের হওয়া সরকারি সার পাচারের মামলায় সোহরাব হোসেনসহ পাঁচজনের বিরুদ্ধে চার্জশিট দাখিল করেছে পুলিশ। বর্তমানে তিনি গোপালগঞ্জ জেলা কারাগারে রয়েছেন।

বিষয়টি নিশ্চিত করে মুকসুদপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আবদুল্লাহ আল মামুন কালবেলাকে বলেন, মামলাটি বর্তমানে বিচারাধীন এবং আইনি কার্যক্রম চলমান রয়েছে।

গোপালগঞ্জ কোর্ট পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, বিশেষ ক্ষমতা আইনের মামলাটির একাধিক ধার্য তারিখে আদালতে হাজির হননি সোহরাব হোসেন। চার্জশিট দাখিলের পরও তিনি আদালতে উপস্থিত না হওয়ায় আদালত তার বিরুদ্ধে গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারি করেন। পরে গত ১ জুলাই আদালতে আত্মসমর্পণ করে জামিন আবেদন করলে আদালত তা নামঞ্জুর করে তাকে কারাগারে পাঠানোর নির্দেশ দেন।

মামলার নথি অনুযায়ী, ২০২৪ সালের ২৪ অক্টোবর রাত সাড়ে ১২টার দিকে ঢাকা-বরিশাল মহাসড়কের মুকসুদপুর উপজেলার বড়ইতলা বাসস্ট্যান্ড এলাকায় পুলিশের চেকপোস্টে চুয়াডাঙ্গা-ট ১১-০৭৪১ নম্বরের একটি ট্রাক থামিয়ে তল্লাশি চালানো হয়। এ সময় ট্রাক থেকে বাংলাদেশ কৃষি উন্নয়ন করপোরেশনের (বিএডিসি) ৪৬০ বস্তা ডিএপি (ডাই অ্যামোনিয়াম ফসফেট) সার উদ্ধার করা হয়। প্রতিটি বস্তায় বিএডিসির লোগো এবং উৎপাদনকারী দেশ হিসেবে সৌদি আরবের নাম উল্লেখ ছিল। জব্দ করা সারের বাজারমূল্য প্রায় ৪ লাখ ৩৭ হাজার টাকা।

এ ঘটনায় মুকসুদপুর থানায় বিশেষ ক্ষমতা আইন, ১৯৭৪-এর ২৫/২৫(ডি) ধারায় মামলা (মামলা নং-২০, জিআর নং-৩২২) দায়ের করা হয়। মামলার তদন্ত কর্মকর্তা এসআই মো. রকিবুল ইসলাম উজ্জ্বল তদন্ত শেষে ২০২৪ সালের ৩১ ডিসেম্বর আদালতে ৩৫৭ নম্বর চার্জশিট দাখিল করেন।

চার্জশিটভুক্ত অপর আসামিরা হলেন মেহেরপুর শহরের মন্ডলপাড়ার মো. আবু তালেব ওরফে রিপন (৪২), উজলপুর গ্রামের মো. সজল (২৭), গাংনী উপজেলার সহোগলপুর গ্রামের মো. আব্দুস সালাম (৩৯) এবং বরিশালের গৌরনদী উপজেলার হরহর গ্রামের মো. আনোয়ার হোসেন বেপারী (৪৮)।

তদন্ত প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, সরকারি সারগুলো পাচারের উদ্দেশ্যেই পরিবহন করা হচ্ছিল। এ ঘটনায় আসামিদের প্রত্যক্ষ সংশ্লিষ্টতার প্রাথমিক প্রমাণ পাওয়া গেছে। আদালতের নির্দেশে জব্দ করা ৪৫৯ বস্তা সার নিলামে বিক্রি করে ৪ লাখ ১৪ হাজার ৮০০ টাকা সরকারি কোষাগারে জমা দেওয়া হয়েছে।

এদিকে কৃষকের জন্য বরাদ্দ সরকারি সার পাচারের মামলায় স্থানীয় একটি বড় রাজনৈতিক দলের নেতার নাম উঠে আসায় মেহেরপুরের রাজনৈতিক অঙ্গনে ব্যাপক আলোচনা শুরু হয়েছে। একই সঙ্গে কৃষকরাও এ ঘটনায় উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন।

মেহেরপুর জেলা ছাত্রদলের সাবেক সাধারণ সম্পাদক নাসির উদ্দিন নাগরিক টিভি অনলাইনকে বলেন, রাজনীতি করার পাশাপাশি আমি নিজেও একজন কৃষক। এবার ছয় বিঘা জমিতে ধান চাষ করেছি। কিন্তু বিএনপির রাজনীতির সঙ্গে সম্পৃক্ত থেকেও আমাকে চড়া মূল্যে কালোবাজারিদের কাছ থেকে সার কিনতে হয়েছে। অথচ সদর উপজেলা বিএনপির নেতা এবং সার ব্যবসায়ীদের নেতা হয়েও সোহরাব হোসেন মেহেরপুর জেলার কোটার সার অন্য জেলায় কালোবাজারিতে বিক্রি করতে গিয়ে ধরা পড়েছেন। বিষয়টি সত্যিই লজ্জার।

এ বিষয়ে বক্তব্য জানতে মেহেরপুর জেলা বিএনপির সভাপতি জাবেদ মাসুদ মিল্টনের মোবাইল ফোনে একাধিকবার কল করা হলেও তিনি ফোন ধরেননি।

পরে সদর উপজেলা বিএনপির সভাপতি ফয়েজ আহমেদ নাগরিক টিভি অনলাইনকে বলেন, মামলাটি বর্তমান উপজেলা বিএনপির কমিটি গঠনের আগের। তাই এ বিষয়ে এখনো কোনো আনুষ্ঠানিক সিদ্ধান্ত হয়নি। তবে আদালতে তিনি দোষী সাব্যস্ত হলে দলীয়ভাবে সিদ্ধান্ত নিয়ে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

মেহেরপুর সদর উপজেলার আমঝুপি গ্রামের কৃষক আব্দুল মালেক নাগরিক টিভি অনলাইনকে বলেন, ‘মৌসুম এলেই সার নিয়ে সংকট তৈরি হয়। অনেক সময় নির্ধারিত দামেও সার পাওয়া যায় না। সরকারি সার যদি এভাবে পাচার হয়, তাহলে সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হই আমরা কৃষকরাই। সরকার এ বিষয়ে কঠোর ব্যবস্থা নিক।

একই উপজেলার পিরোজপুর গ্রামের কৃষক নুর ইসলাম নাগরিক টিভি অনলাইনকে বলেন, সারের জন্য ঘণ্টার পর ঘণ্টা ডিলারের দোকানে অপেক্ষা করতে হয়। অনেক সময় বাড়তি দামও দিতে হয়। কৃষকের জন্য বরাদ্দ সার যারা পাচার করে, তাদের বিরুদ্ধে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি হওয়া উচিত।

মুকসুদপুর থানার ওসি আবদুল্লাহ আল মামুন নাগরিক টিভি অনলাইনকে বলেন, ‘বিশেষ ক্ষমতা আইনের মামলাটি আমি থানায় যোগদানের আগের। বর্তমানে মামলাটি বিচারিক পর্যায়ে রয়েছে এবং সংশ্লিষ্টদের বিরুদ্ধে আইনি কার্যক্রম চলমান।’

পড়ুন: চট্টগ্রামে বন্যা-পাহাড়ধসে ১৩ জন নিহত

আর/

বিজ্ঞাপন

আরও পড়ুন

বিজ্ঞাপন

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here

This site uses Akismet to reduce spam. Learn how your comment data is processed.

বিশেষ প্রতিবেদন