বিজ্ঞাপন

খালিয়াজুরীতে মানবিক সহায়তা বিতরণে টাকার বিনিময়ে কার্ড দেওয়ার অভিযোগ

নেত্রকোনা জেলার খালিয়াজুরী উপজেলার কৃষ্ণপুর ইউনিয়নে সরকারি সহায়তা কার্ড বিতরণে অনিয়ম, স্বজনপ্রীতি ও আর্থিক লেনদেনের অভিযোগ উঠেছে। প্রকৃত কৃষকদের বাদ দিয়ে টাকার বিনিময়ে অকৃষক ও বহিরাগতদের কার্ড প্রদান করা হচ্ছে বলে লিখিত অভিযোগ দায়ের করেছেন কল্যাণপুর গ্রামের বাসিন্দা সিদ্দিক মিয়া। যদিও লিখিত অভিযোগে একে ‘কৃষি ভর্তুকি কার্ড’ হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছে, তবে প্রকৃতপক্ষে এটি ছিল ‘মানবিক সহায়তা কার্ড’ বিতরণের ঘটনা।

বিজ্ঞাপন

মঙ্গলবার (১৪ জুলাই) অভিযোগকারী এবং অভিযুক্তের সাথে কথা বলে এসব তথ্য জানা যায়।

নেত্রকোনা-৪ আসনের সংসদ সদস্য ও সাবেক স্বরাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী লুৎফুজ্জামান বাবরের বরাবর লেখা লিখিত অভিযোগপত্রে সিদ্দিক মিয়া উল্লেখ করেছেন, কার্ড প্রদানের নামে বিভিন্ন ব্যক্তির কাছ থেকে দুই থেকে তিন হাজার টাকা করে নেওয়া হয়েছে। তিনি তার অভিযোগে কৃষ্ণপুর ইউনিয়ন বিএনপির সাধারণ সম্পাদক মো. সোহেল মিয়া এবং নবাব মিয়াকে প্রধান অভিযুক্ত হিসেবে উল্লেখ করেছেন।

অভিযোগকারী সিদ্দিক মিয়ার সাথে মুঠোফোনে কথা হলে তিনি জানান, তিনি ১২ কাঠা জমিতে চাষাবাদ করলেও তাকে কোনো কার্ড দেওয়া হয়নি। তিনি আরও দাবি করেন, যারা কৃষি কাজের সাথে জড়িত নন এবং ঢাকায় বসবাস করেন, এমন ব্যক্তিরাও টাকার বিনিময়ে কার্ড পেয়েছেন। অসুস্থতার কারণে সিদ্দিক মিয়া গত এক মাসের বেশি সময় ধরে ময়মনসিংহ হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রয়েছেন। তিনি জানান, অভিযোগপত্রটি স্থানীয় ৩নং ওয়ার্ডের ইউপি সদস্য মোজাম্মেলের মাধ্যমে ঢাকায় পাঠানোর ব্যবস্থা করা হয়েছে এবং উন্নত চিকিৎসার জন্য আগামী বৃহস্পতিবার ঢাকায় গেলে তিনি নিজেও তা সংশ্লিষ্ট ব্যাক্তির প্রতিনিধির কাছে জমা দেওয়ার চেষ্টা করবেন।

অন্যদিকে, সিদ্দিক মিয়ার আনা এসব অভিযোগ সম্পূর্ণ ভিত্তিহীন ও উদ্দেশ্যপ্রণোদিত বলে উড়িয়ে দিয়েছেন কৃষ্ণপুর ইউনিয়ন বিএনপির সাধারণ সম্পাদক মো. সোহেল মিয়া।

তিনি দাবি করেন, সিদ্দিক মিয়ার ছেলে ইতোমধ্যে কার্ড পেয়েছেন এবং সরকারি নিয়ম অনুযায়ী যৌথ পরিবারে একাধিক ব্যক্তিকে কার্ড দেওয়া সম্ভব নয়। একই পরিবারের সদস্য হয়েও নিজের নামে আলাদা কার্ড না পাওয়ায় ক্ষুব্ধ হয়ে সিদ্দিক মিয়া বানোয়াট অভিযোগ করছেন বলে সোহেল মিয়া মন্তব্য করেন।

সোহেল মিয়া আরও স্পষ্ট করেন, কার্ড বিতরণের প্রক্রিয়াটি কোনো একক ব্যক্তির সিদ্ধান্তে হয়নি। এটি ট্যাগ অফিসার, কৃষি অফিসার এবং স্থানীয় চেয়ারম্যানসহ সরকারি কমিটির মাধ্যমে সম্মিলিতভাবে সম্পন্ন হয়েছে। সেখানে রাজনৈতিক প্রতিনিধি হিসেবে তিনি উপস্থিত ছিলেন মাত্র, তাই সম্পূর্ণ বিতরণের দায়ভার এককভাবে তার ওপর চাপানো এবং তার বিরুদ্ধে অভিযোগ তোলা সম্পূর্ণ অযৌক্তিক।

বিজ্ঞাপন

আরও পড়ুন

বিজ্ঞাপন

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here

This site uses Akismet to reduce spam. Learn how your comment data is processed.

বিশেষ প্রতিবেদন