বরিশাল সফরকালে প্রধানমন্ত্রীর নিরাপত্তা বহরের একটি গাড়িতে ইট নিক্ষেপের অভিযোগের সত্যতা পাওয়া যায়নি বলে জানিয়েছে মাদারীপুর জেলা পুলিশ। পুলিশের দাবি, নিরাপত্তা বহরের সামনের একটি গাড়ির পেছনের চাকা থেকে ছিটকে আসা ইটের ছোট একটি টুকরো পিজিআরের (প্রেসিডেন্ট গার্ড রেজিমেন্ট) ডাবল কেবিন গাড়ির সামনের গ্লাসে আঘাত করে।
মঙ্গলবার (১৪ জুলাই) বিকেলে মাদারীপুর জেলা পুলিশ সুপারের কার্যালয়ে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে এ তথ্য জানান পুলিশ সুপার হাবিবুর রহমান।
পুলিশ সুপার বলেন, গত শনিবার সকাল সাড়ে ৮টার দিকে ঢাকা-বরিশাল মহাসড়কের মাদারীপুরের রাজৈর উপজেলার সাধুর ব্রিজ এলাকায় প্রধানমন্ত্রীর গাড়িবহর অতিক্রমের সময় সড়কের দুই পাশে স্থানীয় বিএনপির নেতাকর্মীরা দাঁড়িয়ে শুভেচ্ছা জানাচ্ছিলেন। এ সময় সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে একটি ভিডিও ছড়িয়ে পড়ে, যেখানে দাবি করা হয় নিরাপত্তা বহরের একটি গাড়িতে ইট নিক্ষেপ করা হয়েছে।
তিনি জানান, ভাইরাল ভিডিওটি এবং ঘটনাস্থলের বিভিন্ন সিসিটিভি ও ভিডিও ফুটেজ পর্যালোচনা করে দেখা গেছে, পিজিআরের ডাবল কেবিন গাড়ির সামনের গ্লাসে ইটের টুকরো সদৃশ একটি ছোট বস্তু আঘাত করে গ্লাস ক্ষতিগ্রস্ত হয়। তবে ভিডিওতে যাকে ইট নিক্ষেপকারী হিসেবে চিহ্নিত করা হয়েছিল, সিসিটিভি ও অন্যান্য ফুটেজ বিশ্লেষণে তার বিরুদ্ধে এমন কোনো প্রমাণ পাওয়া যায়নি। বরং দেখা যায়, তিনি ঘটনাস্থলে দাঁড়িয়ে ভিডিও ধারণ করছিলেন এবং গাড়িবহর চলে যাওয়ার পরও সেখানে অবস্থান করছিলেন। পরবর্তীতে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ভিডিওটি প্রকাশকারী ব্যক্তি সেটি সরিয়ে ফেলেন।
সংবাদ সম্মেলনে পুলিশ সুপার আরও জানান, ঘটনার পর জেলা পুলিশ, র্যাব-৮, জাতীয় নিরাপত্তা গোয়েন্দা সংস্থা (এনএসআই) এবং সংশ্লিষ্ট সংস্থার প্রতিনিধিরা ঘটনাস্থলের বিভিন্ন ফুটেজ বিশ্লেষণ করেন। তদন্তে নিশ্চিত হওয়া যায়, নিরাপত্তা বহরের সামনের একটি গাড়ির পেছনের চাকা থেকে ছিটকে আসা ইটের ছোট একটি টুকরো পিজিআরের গাড়ির সামনের গ্লাসে আঘাত করে। ইট নিক্ষেপের কোনো প্রমাণ পাওয়া যায়নি।
পুলিশ সুপার হাবিবুর রহমান বলেন, “বিষয়টি গুরুত্বের সঙ্গে তদন্ত করা হয়েছে। সার্বিক পরিস্থিতির ওপর পুলিশের নজরদারি অব্যাহত রয়েছে।”
পড়ুন : মদনে জনপ্রতিনিধি, রাজনীতিক ও সরকারি কর্মকর্তাদের সাথে ডিসি’র মতবিনিময়


