বিজ্ঞাপন

পাথরঘাটায় ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ডে প্রায় অর্ধশতাধিক দোকান পুড়ে ছাই, ১৫ কোটি টাকার ক্ষতির আশঙ্কা

বরগুনার পাথরঘাটা উপজেলার রায়হানপুর ইউনিয়নের লেমুয়া বাজারে ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ডে মুহূর্তের মধ্যেই ছাই হয়ে গেছে প্রায় অর্ধশতাধিক ব্যবসা প্রতিষ্ঠান। বহু ব্যবসায়ীর সারা জীবনের কষ্টার্জিত পুঁজি, স্বপ্ন আর জীবিকার একমাত্র অবলম্বন আগুনে পুড়ে নিশ্চিহ্ন হয়ে গেছে। ক্ষতিগ্রস্তদের দাবি, এ ঘটনায় প্রায় ১৫ কোটি টাকার ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে।

১৩ জুলাই সোমবার দিবাগত রাত আনুমানিক ২টার দিকে এ অগ্নিকাণ্ডের ঘটনা ঘটে।

ভুক্তভোগী ও প্রত্যক্ষদর্শীদের সূত্রে জানা যায়, প্রতিদিনের মতো রাতের বেলা দোকান বন্ধ করে সবাই বাড়িতে চলে যান। গভীর রাতে হঠাৎ আগুনের সূত্রপাত হলে স্থানীয়রা বিষয়টি টের পেয়ে দ্রুত পাথরঘাটা, মঠবাড়িয়া ও বামনা ফায়ার সার্ভিস স্টেশনকে খবর দেন। খবর পেয়ে তিনটি স্টেশনের তিনটি ইউনিট ঘটনাস্থলে পৌঁছে আগুন নিয়ন্ত্রণে আনার চেষ্টা চালায়। তবে আগুনের তীব্রতায় ততক্ষণে মুদি, মনোহারি, ফার্মেসি, গার্মেন্টস, পাদুকাসহ বিভিন্ন ধরনের প্রায় ৫০টি দোকান সম্পূর্ণ পুড়ে ছাই হয়ে যায়।

ক্ষতিগ্রস্ত ব্যবসায়ীদের ভাষায়, দোকানগুলোর সঙ্গে পুড়ে গেছে তাদের বহু বছরের সঞ্চয়, পরিশ্রম আর পরিবারের ভবিষ্যৎ নিয়ে গড়ে তোলা রঙিন স্বপ্ন। রাতারাতি অনেকেই হয়ে পড়েছেন নিঃস্ব। যে মানুষগুলো গতকালও স্বাবলম্বী ছিলেন, আজ সব হারিয়ে নিঃস্ব হয়ে গেছেন।

হৃদয়বিদারক একটি ঘটনা পুরো এলাকাকে আরও শোকাহত করে তুলেছে। ক্ষতিগ্রস্ত এক নারী ব্যবসায়ীর মা ওই রাতেই মৃত্যুবরণ করেন। মায়ের মরদেহ সামনে রেখে যখন তিনি শোকে মুহ্যমান, ঠিক সেই সময় খবর আসে—লেমুয়া বাজারে তার একমাত্র ব্যবসা প্রতিষ্ঠানটিও আগুনে পুড়ে ছাই হয়ে গেছে। এক রাতেই তিনি হারিয়েছেন মাকে, আবার হারিয়েছেন জীবিকার একমাত্র সম্বল।

সরেজমিনে লেমুয়া বাজারে গিয়ে দেখা যায়, কেউ পোড়া ছাইয়ের স্তূপে নিজের শেষ সম্বল খুঁজছেন, কেউ আবার সর্বস্ব হারিয়ে বারবার জ্ঞান হারিয়ে ফেলছেন। অনেকের চোখে অশ্রু, মুখে হতাশার ছাপ। পুরো বাজারজুড়ে যেন নেমে এসেছে শোকের ছায়া। স্তব্ধ হয়ে গেছে পুরো এলাকা।

ঘটনার খবর পেয়ে বরগুনা জেলা প্রশাসক (ডিসি) মিস তাছলিমা আক্তার, বরগুনা পুলিশ সুপার (এসপি) মো. কুদরত-ই-খুদা, পাথরঘাটা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা তাপস পালসহ বিভিন্ন দপ্তরের কর্মকর্তারা ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেন। এছাড়া রাজনৈতিক নেতৃবৃন্দও ক্ষতিগ্রস্তদের খোঁজখবর নেন।

জেলা প্রশাসনের সূত্রে জানা গেছে, ক্ষতিগ্রস্ত ব্যবসায়ীদের তালিকা চূড়ান্ত করে আর্থিক সহায়তা দেওয়ার প্রস্তুতি চলছে। পাশাপাশি বরগুনা-২ আসনের সংসদ সদস্য ও চীফ হুইপ নুরুল ইসলাম মনির পক্ষ থেকেও ক্ষতিগ্রস্তদের সহযোগিতার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।

এদিকে সর্বস্ব হারানো ব্যবসায়ীদের একটাই দাবি—দ্রুত সরকারি সহায়তা ও পুনর্বাসনের ব্যবস্থা করা হোক, যাতে তারা আবার নতুন করে ঘুরে দাঁড়াতে পারেন।

এ বিষয়ে বরগুনা জেলা কলেজ শিক্ষক সমিতির সভাপতি, সুশাসনের জন্য নাগরিক (সুজন) বরগুনা জেলা শাখার সভাপতি, দুর্নীতি প্রতিরোধ কমিটি পাথরঘাটা উপজেলা শাখার সিনিয়র সহ-সভাপতি এবং সৈয়দ ফজলুল হক ডিগ্রি কলেজের অধ্যক্ষ মো. জিয়াউল করিম, পাথরঘাটা উপজেলা বিএনপির সাবেক আহ্বায়ক চৌধুরী মো. ফারুক এবং রায়হানপুর ইউনিয়ন বিএনপির সাবেক আহ্বায়ক আবুল কালাম আজাদ বলেন, ভয়াবহ এই অগ্নিকাণ্ডে ক্ষতিগ্রস্ত ব্যবসায়ী ও তাদের পরিবারের প্রতি সমবেদনা জানানো ছাড়া যেন আর কোনো ভাষা নেই।

তারা বলেন, ক্ষতিগ্রস্তদের ঘুরে দাঁড়াতে সমাজের বিত্তবান ব্যক্তি, জনপ্রতিনিধি, সরকারি-বেসরকারি প্রতিষ্ঠানসহ সকল সামর্থ্যবান মানুষের উচিত আন্তরিকভাবে তাদের পাশে দাঁড়ানো। পাশাপাশি ভবিষ্যতে এ ধরনের বড় দুর্ঘটনার ক্ষয়ক্ষতি কমাতে লেমুয়া বাজারে দ্রুত একটি স্থায়ী ফায়ার সার্ভিস স্টেশন স্থাপনের জোর দাবি জানান তারা।

বিজ্ঞাপন

পড়ুন : মিথ্যা ও কুরুচিপূর্ণ মন্তব্যের প্রতিবাদে নীলফামারীতে পরিবহন শ্রমিকদের মানববন্ধন

বিজ্ঞাপন

আরও পড়ুন

বিজ্ঞাপন

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here

This site uses Akismet to reduce spam. Learn how your comment data is processed.

বিশেষ প্রতিবেদন