বিজ্ঞাপন

চাঁদাবাজির আসামি সেই বিএনপি নেতার বিরুদ্ধে এবার আত্মসাতের অভিযোগ

নোয়াখালীর কবিরহাট উপজেলায় চাঁদাবাজির মামলায় গ্রেফতার হওয়া এক বিএনপি নেতার বিরুদ্ধে এবার অর্থ আত্মসাতের অভিযোগ উঠেছে। অভিযুক্ত ব্যক্তি বাটইয়া ইউনিয়ন বিএনপির সাবেক সাধারণ সম্পাদক আবদুল কাদের জসিম।

বিজ্ঞাপন

অভিযোগ সূত্রে জানা যায়, প্রায় দুই মাস আগে ব্রাহ্মণবাড়িয়ার নবীনগর থেকে আছিয়া খাতুন নামের এক বিবাহিত নারী বাটইয়া ইউনিয়নের রাসেল নামের এক যুবকের সঙ্গে পালিয়ে আসেন। পরবর্তীতে আছিয়ার স্বামী প্রশাসনের সহযোগিতা ও স্থানীয় বিএনপি নেতা জসিমের মাধ্যমে তার স্ত্রীকে ফিরিয়ে আনেন।

আছিয়ার স্বামীর অভিযোগ, স্ত্রী পালিয়ে আসার সময় নগদ ১ লাখ ৮০ হাজার টাকা ও স্বর্ণালংকারসহ বিভিন্ন মালামাল নিয়ে আসে, যা রাসেলের কাছে ছিল। পরে জসিমের মাধ্যমে টাকা ফেরত পাওয়ার কথা থাকলেও তিনি পুরো টাকা না দিয়ে মাত্র ৮৫ হাজার টাকা প্রদান করেন।

ভুক্তভোগী স্বামী বলেন, আমার ১৭ বছরের সংসার ভেঙে গেছে। প্রায় ১০ থেকে ১২ লাখ টাকার ক্ষতি হয়েছে। ১ লাখ ৮০ হাজার টাকা ফেরত পাওয়ার কথা থাকলেও আমাকে মাত্র ৮৫ হাজার টাকা দেওয়া হয়েছে। জসিম আমাকে ভয়ভীতি দেখিয়ে বিভিন্ন কাগজে স্বাক্ষর নিয়েছেন এবং বলেন- স্ত্রীকে নিয়ে গেছেন, আবার কিসের টাকা?

তিনি আরও অভিযোগ করেন, গত ৮ জুলাই তাকে ৮৫ হাজার টাকা দেওয়া হয় এবং পুরো বিষয়টি ভিডিও করে রাখা হয়েছে। ভয়ভীতির কারণে এতদিন তিনি মুখ খুলতে পারেননি বলেও জানান।

এর আগে, গত ৫ আগস্ট আওয়ামী লীগ সরকারের পতনের পর বাটইয়া ইউনিয়নে সৌদি প্রবাসী মহিউদ্দিনের পরিবারের কাছ থেকে বিএনপির প্রভাব খাটিয়ে ১ লাখ টাকা চাঁদা দাবি করেন জসিম। টাকা দিতে অস্বীকার করলে প্রবাসী ও তার পরিবারকে গুলি করে হত্যার হুমকি দেওয়া হয়। পরে গত বছরের ১ মার্চ জসিমের দুই সহযোগী প্রবাসীর বাড়ি থেকে ২০ হাজার টাকা আদায় করে নেয়, যার ভিডিও ধারণ করে ভুক্তভোগী পরিবার। এরপর বাকি ৮০ হাজার টাকা আদায়ের জন্য মোবাইল ফোনে চাপ প্রয়োগ করা হয়।

ঘটনার ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়লে জেলা বিএনপি জসিমকে বাটইয়া ইউনিয়ন বিএনপির সাধারণ সম্পাদক পদ থেকে অব্যাহতি দেয়। পরবর্তীতে ভুক্তভোগী প্রবাসী মামলা দায়ের করেন।

মামলার আসামিরা আদালতে হাজির না হলে তাদের বিরুদ্ধে গ্রেফতারি পরোয়ানা জারি করা হয়। পরে তারা হাইকোর্ট থেকে আগাম জামিন নেন। গত ৫ অক্টোবর তারা নোয়াখালী চিফ জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে আত্মসমর্পণ করলে পিবিআইয়ের তদন্তের ভিত্তিতে তাদের জামিন নামঞ্জুর করে কারাগারে পাঠানোর নির্দেশ দেন আদালত। পরবর্তীতে ১৪ অক্টোবর পুনরায় জামিন আবেদন করা হলেও আদালত তা নামঞ্জুর করে তাদের কারাগারে পাঠানোর নির্দেশ দেন।

তবে অভিযোগ অস্বীকার করে আবদুল কাদের জসিম জানান, তিনি এই অর্থ আত্মসাতের সঙ্গে কোনোভাবেই জড়িত নয়। নবীনগর থেকে আছিয়া খাতুন নামের ওই বিবাহিত নারী পালিয়ে বাটইয়া ইউনিয়নের আসলে কবিরহাট থানার এস.আই আতিক তাকে উদ্ধারে তিনদিন চেষ্টা চালিয়ে ব্যর্থ হন। পরে ওই নারীকে উদ্ধার করে তার স্বামীর হাতে তুলে দেন তিনি।

এবিষয়ে কবিরহাট থানার সাব-ইন্সপেক্টর (এস.আই) আতিকের বক্তব্য জানতে একাধিকবার তার মুঠোফোনে কল করলে তিনি ফোন রিসিভ না করায় তার বক্তব্য জানা যায়নি।

স্থানীয়দের অভিযোগ, আবদুল কাদের জসিমের বিরুদ্ধে চাঁদাবাজিসহ একাধিক অভিযোগ থাকলেও ভয়ে সাধারণ মানুষ প্রকাশ্যে মুখ খুলতে সাহস পান না।
এ বিষয়ে প্রশাসনের হস্তক্ষেপ ও সুষ্ঠু তদন্তের দাবি জানিয়েছেন ভুক্তভোগীরা।

পড়ুন : সাগরে ঘনীভূত হচ্ছে লঘুচাপ, ৩ নম্বর সতর্কসংকেত বহাল

সা/

বিজ্ঞাপন

আরও পড়ুন

বিজ্ঞাপন

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here

This site uses Akismet to reduce spam. Learn how your comment data is processed.

বিশেষ প্রতিবেদন