নারায়ণগঞ্জের রূপগঞ্জের তারাবো পৌরসভার পরিচ্ছন্ন কর্মীদের জন্যে সরকারী অর্থায়নে নির্মাণাধীন ১০ কোটি ৭৭ লাখ টাকা ব্যয়ধরে ৭ তলা ভবনের ২৫ লাখ টাকার নির্মাণ সামগ্রী চুরির অভিযোগ ওঠেছে সাব ঠিকাদার শফিকউল্লাহর বিরুদ্ধে । এ ঘটনায় থানায় মামলা দায়ের করার পর অভিযুক্ত ঠিকাদারকে গ্রেফতার করেছেন রূপগঞ্জ থানা পুলিশ৷
জেসিকা এন্টারপ্রাইজ নামীয় ঠিকাদারী প্রতিষ্ঠানের পরিচালক মোঃ আশিকুর রহমান জানান, তারাবো পৌরসভার পরিচ্ছন্ন কর্মীদের সরকারী আবাসন হিসেবে পৌরসভার কর্নগোপ এলাকায় ১০ কোটি ৭৭ লাখ টাকা ব্যয় ধরে ৭ তলা ভবনে ৩৬টি ফ্ল্যাট নির্মাণ শুরু হয় ২০২৫ সালের প্রথম দিকে। প্রকল্পটি বাংলাদেশ সরকারের এলজিইডি বিভাগের রুপগঞ্জ থানাধীন তারাব পৌরসভার তারাব সুইপার কলোনি নির্মাণ প্রকল্প আমাদের প্রতিষ্ঠান মেসার্স জেসিকা এন্টারপ্রাইজে যথাযথ সরকারি টেন্ডারের মাধ্যমে কার্যাদেশ লাভ করে। পরবর্তীতে ১নং বিবাদী মোঃ শফিক উল্লাহকে সাব-কন্ট্রাক্টর হিসেবে কাজ প্রদান করা হয়। কিন্তু গত ২৯ জুন শ্রমিকদের বিল পরিশোধে পাঁচ লক্ষ টাকা প্রেরণ করা হয়। কিন্তু তিনি উক্ত অর্থ শ্রমিকদের কাজে ব্যয় না করে টাকা আত্মসাৎ করে। পরবর্তীতে গত ১ জুলাই ট্রাকযযোগে প্রায় চৌদ্দ টন রড নিয়ে পালিয়ে যায়৷ যার আনুমানিক বাজারমূল্য দশ লক্ষ টাকা। পাথর সরবরাহের কথা বলে তার পাঁচ লক্ষ টাকা আত্মসাৎ করে। একইভাবে সিমেন্ট সরবরাহের কথা বলে ৪ লাখ ৮২ হাজার টাকা ও আত্মসাৎ করে৷ এসব অভিযোগে থানায় মামলা করলে ১৬ জুলাই বৃহস্পতিবার দুপুরে ডেমরা থানা এলাকা থেকে গ্রেফতার করে রূপগঞ্জ থানা পুলিশ।
প্রকল্পের দায়িত্বরত প্রকৌশলী রাইসুল ইসলাম বলেন, শফিক উল্লাহ দিনে দুপুরে প্রকল্পের রড, পাথর চুরি করে নিয়ে যায়। এতে পাইলিংএর পর কাজ থেমে আছে। তাই ফলে সময়মতো কাজ হবে না।
এ বিষয়ে জানতে চাইলে রূপগঞ্জ উপজেলা এলজিইডি প্রকৌশলী আখতার হোসেন বলেন, প্রকল্পটি জমি সংক্রান্ত জটিলতায় সময়মতো কাজ শেষ হবে না। আর সাব ঠিকাদার শফিক উল্লাহ গ্রেফতার হয়েছে শুনলাম। এসবের দায়ভার মূল ঠিকাদারকে বহন করতে হবে।
এ বিষয়ে জানতে চাইলে তারাবো পৌর প্রশাসক ও রূপগঞ্জ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা সাইফুল ইসলাম বলেন, প্রকল্পের জমি নিয়ে স্থানীয়ভাবে বিরোধ তৈরী হওয়ায় কলোনী নির্মানকাজ দেরী হয়েছে। এমন প্রজেক্টে অনিরাপদ হিসেবে রাখা ও মালামাল চুরি হওয়া দুঃখজনক।
বিজ্ঞাপন

বিজ্ঞাপন

