ঘুষ গ্রহণ, নজিরবিহীন অনিয়ম, সরকারি সুযোগ-সুবিধার অপব্যবহার এবং শিক্ষক নেতাকে মারধরের মতো গুরুতর অভিযোগে নেত্রকোনা ইসলামিক ফাউন্ডেশনের (ইফা) উপপরিচালক (চলতি দায়িত্ব) মো. শাহ আলমকে পদাবনতি দিয়ে বদলি করা হয়েছিল।
বৃহস্পতিবার (১৬ জুলাই) দায়িত্ব হস্তান্তরের শেষ দিনের আগেই এবার তাকে চাকরি থেকে সাময়িক বরখাস্ত করেছে ইসলামিক ফাউন্ডেশন কর্তৃপক্ষ। প্রাপ্ত তথ্য এবং ইসলামিক ফাউন্ডেশনের প্রশাসন বিভাগের ১৪ জুলাই ২০২৬ তারিখে জারি করা অফিস আদেশের পত্র থেকে সাময়িক বরখাস্তের বিষয়টি নিশ্চিত হওয়া গেছে।
ধর্ম বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের আওতাধীন ইসলামিক ফাউন্ডেশনের প্রশাসন বিভাগের উপসচিব মো. গোলাম কবির স্বাক্ষরিত ওই অফিস আদেশে সুস্পষ্টভাবে উল্লেখ করা হয়েছে, অফিসে বসে অর্থনৈতিক দুর্নীতির ভিডিও সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ও গণমাধ্যমে ভাইরাল হওয়ায় ইসলামিক ফাউন্ডেশনের সুনাম ক্ষুন্ন হয়েছে।
আদেশে আরও বলা হয়, তার উল্লিখিত আচরণ সরকারি কর্মচারী আইন-২০১৮ এর ৩৯ (১) এর (ক) ও ৩ এর (খ) এবং ইসলামিক ফাউন্ডেশন (কর্মকর্তা ও কর্মচারী) চাকরি বিধিমালা-১৯৯৮-এর ৩৮(১) ও ৩৯ (ক) ও (খ) বিধির সুস্পষ্ট লঙ্ঘন এবং দায়িত্ব পালনে অবহেলার শামিলযোগ্য অপরাধ। এর পরিপ্রেক্ষিতে চাকরি বিধিমালা, ১৯৯৮-এর ৪৪নং অনুচ্ছেদের বিধান অনুযায়ী তাকে ইসলামিক ফাউন্ডেশনের চাকরি থেকে সাময়িক বরখাস্ত করা হলো।
এরআগে, প্রশাসন বিভাগ থেকে জারি করা অপর এক আদেশে তাকে নেত্রকোনা থেকে পদাবনতি দিয়ে ময়মনসিংহ বিভাগীয় কার্যালয়ে সহকারী পরিচালক হিসেবে বদলি করা হয়েছিল। একই আদেশে ময়মনসিংহ বিভাগীয় কার্যালয়ের সহকারী পরিচালক মো. সুজন আহমেদ চৌধুরীকে পদোন্নতি দিয়ে নেত্রকোনা জেলা কার্যালয়ের উপপরিচালক (চলতি দায়িত্ব) হিসেবে পদায়ন করা হয়। বদলির আদেশে শাহ আলমকে ১৬ জুলাইয়ের মধ্যে বর্তমান কর্মস্থলের দেনা-পাওনা পরিশোধ বা সমন্বয়পূর্বক অবমুক্ত হওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়েছিল, অন্যথায় তাকে ‘স্ট্যান্ড রিলিজ’ বা তাৎক্ষণিক অবমুক্ত বলে গণ্য করার কথা বলা হয়। তবে সেই সময়সীমা শেষ হওয়ার আগেই তাকে বরখাস্তের এই চূড়ান্ত আদেশ দেওয়া হলো।
সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা যায়, মো. শাহ আলমের বিরুদ্ধে দীর্ঘদিন ধরেই নেত্রকোনা জেলা কার্যালয়ে নানা অনিয়ম ও স্বেচ্ছাচারিতার অভিযোগ ছিল। গত ৬ জুলাই নাগরিক টিভিতে ‘টেবিলের নিচ দিয়ে ঘুষ নিচ্ছেন খোদ ইফা উপ-পরিচালক!’ শিরোনামে ভিডিও প্রতিবেদন প্রচারিত হলে দেশজুড়ে ব্যাপক সমালোচনার সৃষ্টি হয়।
এর আগেও ‘নাগরিক ডটকম’ অনলাইন পোর্টালে তার বিরুদ্ধে একাধিক অনুসন্ধানী প্রতিবেদন প্রকাশিত হয়। গত ২৯ জুন ‘নেত্রকোনায় ইফার নজিরবিহীন অনিয়ম: প্রতিবাদ করায় শিক্ষক নেতাকে মারধর’ এবং গত ৩০ মে ‘সময়মতো অফিসে আসেন না ইফা’র ডিডি, বিনামূল্যে গেস্ট রুমে বসবাস’ শিরোনামে আরও দুটি খবর প্রকাশিত হয়। গণমাধ্যমে এসব অভিযোগ সচিত্র ও তথ্যপ্রমাণসহ উঠে আসার পরই ধর্ম মন্ত্রণালয় ও ইসলামিক ফাউন্ডেশন নড়েচড়ে বসে এবং শাস্তিমূলক ব্যবস্থা গ্রহণ করে।
নেত্রকোনা ইসলামিক ফাউন্ডেশনের তৃণমূল পর্যায়ের কর্মী ও স্থানীয় আলেম সমাজে অভিযুক্ত এই কর্মকর্তাকে নিয়ে দীর্ঘদিন ধরে চরম অসন্তোষ বিরাজ করছিল। অবশেষে তার পদাবনতি, বদলি এবং সর্বশেষ সাময়িক বরখাস্তের খবর ছড়িয়ে পড়লে সংশ্লিষ্টদের মাঝে স্বস্তি ফিরে আসে।
স্থানীয় সচেতন মহল মনে করেন, গণমাধ্যমের বস্তুনিষ্ঠ ও সাহসী সংবাদ প্রকাশের কারণেই প্রশাসন দ্রুত শাস্তিমূলক ব্যবস্থা নিতে সক্ষম হয়েছে। নতুন দায়িত্বপ্রাপ্ত কর্মকর্তা কার্যালয়ের কার্যক্রমে স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতা নিশ্চিত করবেন এবং দুর্নীতিমুক্ত পরিবেশ ফিরিয়ে আনবেন বলে তারা দৃঢ় আশাবাদ ব্যক্ত করেছেন।
বিজ্ঞাপন

বিজ্ঞাপন

