বিজ্ঞাপন

তানোর চৌবাড়িয়া হাটের রাস্তা ব্যবসায়ীদের গলার কাটা, ৩২ লাখ টাকার টেন্ডার

রাজশাহীর তানোর উপজেলার কামারগাঁ ইউনিয়ন ইউপির সীমান্তবর্তী চৌয়াড়িয়া হাটের প্রবেশের রাস্তা এখন ব্যবসায়ীদের গলার কাটা হয়ে পড়েছে। সপ্তাহ ধরে ভারি মাঝারি ও গুড়িগুড়ি বৃষ্টিতে কোমর পানি জলাবদ্ধতা এবং খানাখন্দে ভরপুর হয়ে উঠেছে।

প্রায় ১০০ থেকে ১৫০ হাতের রাস্তাটি এখন কয়েক উপজেলার ও গরু ছাগল ব্যবসায়ী এবং যানবাহন চালকদের চরম দূর্ভোগের কারন হয়ে পড়েছে। প্রায় দিন কোন না কোন ফেসবুক আইডি থেকে রাস্তায় গাড়ি পুতে যাওয়া থেকে শুরু করে জলবদ্ধতার ভিডিও প্রকাশ করছেন। কিন্তু এলজিইডি প্রকৌশলীর কোন মাথা ব্যথার কারন নাই। ফলে দ্রুত সময়ের মধ্যে উঁচু ভাবে ঢালায় রাস্তা পানি নিষ্কাশনের জোর দাবি তুলেছেন ব্যবসায়ী মহল থেকে শুরু করে জনসাধারণ। 

জানা গেছে, প্রতি শুক্রবার চৌবাড়িয়া হাটের দিন। উত্তর বঙ্গের মধ্যে সবচেয়ে গরু ছাগলের বৃহৎ হাট। শুক্রবারে উত্তর বঙ্গের প্রায় জেলা উপজেলা থেকে গরু ছাগল ব্যবসায়ীরা হাটে আসেন। হাটে চারদিক থেকে  প্রবেশ  করতে হয়।

হাটের পূর্ব দিক মান্দা থেকে, পশ্চিম ও উতর   দিক নিয়ামতপুর ও নাচোল থেকে এবং দক্ষিণ দিক তানোর উপজেলা থেকে। অন্য দিকের রাস্তাগুলোতে কোন সমস্যা নেই। কিন্তু দক্ষিণ দিক তানোর থেকে হাটে প্রবেশের প্রায় ১০০ থেকে ১৫০ হাত রাস্তার ভয়ংকর অবস্থা হয়ে পড়ে রয়েছে। রাস্তার মাঝে বিশাল বিশাল গর্তের সৃষ্টি হয়ে আছে। ছোট বড় যে কোন যান জীবনের ঝুকি নিয়ে চলাচল করতে হচ্ছে। দুই থেকে তিন দফা দায়সারা ইট দেয়া হয়েছিল জলবদ্ধতার জায়গাগুলোতে। সেই ইটগুলো বৃষ্টির পানিতে লালচে কাদায় রুপ নিয়েছে। 

স্থানীয় বাসিন্দা ও ব্যবসায়ীরা জানান, গর্ত ছিল বোঝা যেত। কিন্তু ইট দেয়ার কারনে কাদা পানি লালচে হয়ে পড়েছে। কোন দিকে গর্ত আর কোন দিকে গর্ত নাই সেটাই বোঝা যায়না। পুরো রাস্তা লালচে কাদায় রুপ নিয়েছে। যে সময় ইট ফেলা হয়েছিল ওই সময় ইটের সাথে পর্যাপ্ত বালু দিলে কিছুটা হলেও রক্ষা হত। কারন রাস্তাটি দিয়ে প্রতিদিন শতশত ছোট বড় গাড়ী চলাচল করে। আর শুক্রবারে হাজার হাজার গাড়ী চলাচল করে। ভাঙ্গা খানা খন্দ রাস্তা দিয়ে গাড়ী তো দূরে থাক পায়ে হেটে চলাচল করা যায় না। এছাড়াও লবাতলা ব্রীজের উত্তরে, বেলপুকুরিয়া মোড়ে গর্তের সৃষ্টি হয়ে আছে।

সুত্র জানায়, বিগত ২০২২ সালের শেষের দিকে তানোর উপজেলা থেকে চৌবাড়িয়া হাট পর্যন্ত নতুন ভাবে রাস্তাটি নির্মান করা হয়। নতুন ভাবে নির্মানের কথা থাকলেও মালশিরা মোড় থেকে হাটের সিএনজি স্ট্যান্ড পর্যন্ত সীলকোট করা হয়। পুরাতন কার্পেটিং না তুলে পরিস্কার করে তার উপর নতুন ভাবে কার্পেটিং করা হয়। অথচ এক কিলোমিটার রাস্তা নির্মানে এক কোটি টাকার উপরে খরচ দেখানো হয়। উপজেলা মোড় থেকে চৌবাড়িয়া হাট পর্যন্ত প্রায় ১০ কিলোমিটার রাস্তা নির্মান করেন শহরের ওই সময়ের প্রভাবশালী ঠিকাদার ওয়াসিম। ১০ কিলোমিটার রাস্তা নির্মানে প্রায় ১১ কোটি টাকা বরাদ্দ করা হয়েছিল। কিন্তু এত অনিয়ম করে নির্মান করা হয়েছিল যা কল্পনাতীত। তিন বছর না যেতেই কয়েক বার সংস্কার করেও চলাচলের উপযোগী হচ্ছে না।

এনিয়ে উপজেলা প্রকৌশলী নুর নাহার জানান, রাস্তাগুলো নির্মানের পর থেকে অতিরিক্ত ভারি যানবাহন চলাচল করার কারনে টিকসই হয়নি। আর হাটে প্রবেশের রাস্তাটি নিচু। এজন্য সব পানি রাস্তায় জমে থাকে। রাস্তাটি উঁচু ভাবে আরসিসি করা হবে।

প্রকৌশলীর কান্ড ৩২ লাখ টাকার টেন্ডার নিয়ে নানা অভিযোগ। জুন ক্লোজিংয়ের সময় তড়িঘড়ি করে অতি গোপনে ৩২ লাখ টাকার টেন্ডার দিয়েছেন প্রকৌশলী নুর নাহার বেগম বলে অভিযোগ উঠেছে । জুন ক্লোজিংয়ের পর বিষয়টি প্রকাশ পায়।  স্থানীয় ঠিকাদারেরা বিষয় টি জানতে পারেন। প্রকৌশলীর এমন একক কান্ডে ক্ষুব্ধ হয়ে পড়েন জনসাধারন। 

স্থানীয় ঠিকাদারেরা জানান, অতি দ্রুত সময়ের মধ্যে হিসাব সহকারী গোলাম মুর্তুজা ও প্রকৌশলী এবং এক এসওর সহায়তায় প্রকৌশলী কাউকে বুঝতে দেয়নি। নিজস্ব পছন্দের ঠিকাদারদের কাজগুলো দিয়েছেন।পত্রিকায় বিজ্ঞপ্তির মাধ্যমে টেন্ডার দেয়া হলে স্বচ্ছতা ও জবাব দিহিতা থাকত। সেই সাথে সরকার পেত রাজস্ব। কিন্তু জুন ক্লোজিংয়ে হরিলুটের উদ্দেশ্যে প্রকৌশলী এসব করেছেন।

এই প্রকৌশলী পার্শ্ববর্তী উপজেলা মোহনপুরে দায়িত্বে থাকা কালীন তার বিরুদ্ধে নানা অনিয়ম দূর্নীতির অভিযোগ উঠে। সকল কর্মকর্তা তার বিরুদ্ধে অভিযোগ করলে তাকে শাস্তি হিসেবে এউপজেলায় বদলি করা হয়। এখানে এসেও তিনি একই ধরনের কর্মকান্ড শুরু করেছেন। 

এবিষয়ে জানতে চাইলে প্রকৌশলী নুর নাহার জানান, ৩২ লাখ টাকার গোপনে টেন্ডার হয়নি। পাঁচটি প্যাকেজে ইউজিপি টেন্ডার দেয়া হয়েছে। টেন্ডারের মাধ্যমে টিন, সেলাই মেশিন কিনা হয়েছে। আগামী কয়েক দিনের মধ্যে এমপি স্যার এগুলো বিতরণ করবেন বলে দায় সারেন তিনি।

বিজ্ঞাপন

পড়ুন : খুলনায় নির্জনা হত্যা মামলার প্রধান আসামি ঘাতক বাবা আলিম ওরফে আকাশ গ্রেপ্তার

বিজ্ঞাপন

আরও পড়ুন

বিজ্ঞাপন

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here

This site uses Akismet to reduce spam. Learn how your comment data is processed.

বিশেষ প্রতিবেদন