ইউএস–বাংলা এয়ারলাইনসের ব্যবস্থাপনা পরিচালক মোহাম্মদ আব্দুল্লাহ আল মামুন বলেছেন, আজকের এই অর্জনের দিনে আমি আন্তরিক কৃতজ্ঞতা জানাই আমাদের সম্মানিত যাত্রী, শেয়ারহোল্ডার, ব্যবসায়িক অংশীদার, বাংলাদেশ সরকার, বেসামরিক বিমান চলাচল কর্তৃপক্ষ, দেশি-বিদেশি সহযোগী প্রতিষ্ঠান এবং গণমাধ্যমের বন্ধুদের। আপনাদের আস্থা ও সহযোগিতাই আমাদের সবচেয়ে বড় শক্তি।
এমডি আরও বলেন, আমাদের অঙ্গীকার—নিরাপত্তায় আপসহীন থেকে, আন্তর্জাতিক মানের সেবা নিশ্চিত করে এবং প্রযুক্তিনির্ভর আধুনিক এয়ারলাইনস হিসেবে ইউএস-বাংলাকে আগামী দিনের বৈশ্বিক আকাশপথে বাংলাদেশের অন্যতম শক্তিশালী ব্র্যান্ডে পরিণত করা।
দেশের সর্ববৃহৎ বেসরকারি এয়ারলাইনস সংস্থা ইউ–এস বাংলা সগৌরবে তার প্রাতিষ্ঠানিক যাত্রার এক যুগ অতিক্রম করে ১৩ তম বছরে পদার্পণ করল। এ উপলক্ষে আজ রোববার সংস্থাটির ব্যবস্থাপনা পরিচালক মোহাম্মদ আব্দুল্লাহ আল মামুন কক্সবাজারে এক সংবাদ সম্মেলনে এসব কথা বলেন।
ইউএস বাংলার এমডি আব্দুল্লাহ আল মামুন বলেন, আজ আমাদের জন্য একটি অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ দিন। ইউএস-বাংলা এয়ারলাইনস সফলতার সঙ্গে ১২ বছর অতিক্রম করে ১৩ তম বছরে পদার্পণ করেছে। এটি কেবল একটি প্রতিষ্ঠানের বার্ষিকী নয়; বরং বাংলাদেশের বেসরকারি বিমান পরিবহন শিল্পে একটি টেকসই, দায়িত্বশীল এবং আন্তর্জাতিক মানসম্পন্ন অ্যাভিয়েশন ব্র্যান্ড হিসেবে আমাদের আত্মপ্রকাশ ও ধারাবাহিক অগ্রযাত্রার প্রতিফলন।
সংস্থাটির ব্যবস্থাপনা পরিচালক বলেন, ২০১৪ সালে যশোর রুটে অভ্যন্তরীণ ফ্লাইট পরিচালনার মাধ্যমে যাত্রা শুরু করেছিল ইউএস-বাংলা এয়ারলাইনস। সীমিত পরিসর থেকে শুরু করে আজ আমরা দেশের অন্যতম বৃহৎ বেসরকারি বিমান পরিবহন সংস্থায় পরিণত হয়েছি। এই অর্জনের পেছনে রয়েছে যাত্রীদের আস্থা, সরকারের নীতিগত সহায়তা, নিয়ন্ত্রক সংস্থার সহযোগিতা, ব্যবসায়িক অংশীদারদের সমর্থন এবং সর্বোপরি আমাদের চার হাজারেরও বেশি কর্মকর্তা-কর্মচারীর নিরলস পরিশ্রম।
ইউএস বাংলা এয়ারলাইনসের কর্ণধার আব্দুল্লাহ আল মামুন বলেন, বর্তমানে ইউএস-বাংলা এয়ারলাইনসের বহরে রয়েছে ২৫টি আধুনিক উড়োজাহাজ। এর মধ্যে রয়েছে ৩টি Airbus A330-300,৯টি Boeing 737-800 এবং ATR 72-600 উড়োজাহাজ। এই বহর নিয়ে আমরা দেশের ৬টি অভ্যন্তরীণ গন্তব্য এবং ১০টি দেশের ১৪টি আন্তর্জাতিক গন্তব্যে নিয়মিত ফ্লাইট পরিচালনা করছি। প্রতিদিন দেশ-বিদেশ মিলিয়ে প্রায় ১০০টি ফ্লাইট পরিচালনার মাধ্যমে হাজার হাজার যাত্রীকে নিরাপদ, নির্ভরযোগ্য ও সময়নিষ্ঠ সেবা প্রদান করছি।
সংস্থাটির এমডি আব্দুলাহ আল মামুন বলেন, আমাদের বিশ্বাস, একটি এয়ারলাইনসের প্রকৃত শক্তি শুধু তার বহরের আকারে নয়; বরং নিরাপত্তা, সেবার মান, পরিচালন দক্ষতা এবং যাত্রী সন্তুষ্টির ওপর নির্ভর করে। সেই লক্ষ্য থেকেই ইউএস-বাংলা এয়ারলাইনস বাংলাদেশের প্রথম বেসরকারি এয়ারলাইনস হিসেবে IATA এবং IOSA-এর আন্তর্জাতিক স্বীকৃতি অর্জন করেছে। এই স্বীকৃতি আমাদের পরিচালন সক্ষমতা, নিরাপত্তা সংস্কৃতি এবং আন্তর্জাতিক মান বজায় রাখার প্রতিশ্রুতির প্রতিফলন।
বিশেষ স্লোগান ও তার বাস্তবায়নের উল্লেখ করে আব্দুল্লাহ আল মামুন বলেন, স্বাধীনতার পর ইউএস-বাংলা-ই প্রথম কোনো দেশীয় বিমান সংস্থা যা চীনের কোনো গন্তব্যে বা ভারতের চেন্নাই কিংবা মালদ্বীপের রাজধানী মালেতে সরাসরি ফ্লাইট পরিচালনা করছে। যাত্রীসেবায় উৎকর্ষ অর্জনের লক্ষ্যে আমরা ধারাবাহিকভাবে নতুন মানদণ্ড স্থাপন করছি। আন্তর্জাতিক ফ্লাইটে ১৫ মিনিটের মধ্যে লাগেজ ডেলিভারির প্রতিশ্রুতি বাস্তবায়ন তারই একটি উল্লেখযোগ্য উদাহরণ। “আপনি লাগেজের জন্য অপেক্ষা করবেন না বরং লাগেজ আপনার জন্য অপেক্ষা করবে”-এই ধারণাকে প্রতিষ্ঠিত করার জন্যই ইউএস-বাংলা প্রতিনিয়ত কাজ করে যাচ্ছে।
দেশর অর্থনীতিতে অবদানের কথা জানিয়ে ব্যবস্থাপনা পরিচালক বলেন, বাংলাদেশ বেসামরিক বিমান চলাচল কর্তৃপক্ষের অন্যতম দ্বিতীয় সর্বোচ্চ রেভিনিউ প্রদানকারী এয়ারলাইনস হিসেবে জাতীয় অর্থনীতিতেও আমরা গুরুত্বপূর্ণ অবদান রেখে চলেছি।
আগামীর বার্তা দিয়ে ইউএস বাংলা এয়ারলাইনসের কর্ণধার বলেন, আগামী দিনের পরিকল্পনা আরও বিস্তৃত ও সুদূরপ্রসারী। ২০২৭ সালের মধ্যে ইউএস-বাংলা এয়ারলাইনসের বহরে যুক্ত হবে ২১টি সম্পূর্ণ নতুন বোয়িং উড়োজাহাজ—এর মধ্যে ১৫টি Boeing 737-8 এবং ৬টি Boeing 737-800 NG। এটি বাংলাদেশের বেসরকারি বিমান পরিবহন খাতে অন্যতম বৃহৎ বহর সম্প্রসারণ কর্মসূচি। নতুন প্রজন্মের এই উড়োজাহাজগুলো জ্বালানি সাশ্রয়ী, পরিবেশবান্ধব, প্রযুক্তিনির্ভর এবং উন্নত যাত্রীসেবা নিশ্চিত করতে সক্ষম হবে।
বহর সম্প্রসারণের পাশাপাশি আন্তর্জাতিক রুট নেটওয়ার্কও বিস্তৃত করা হচ্ছে। আমাদের পরিকল্পনায় রয়েছে কুয়েত, বাহরাইন, মদিনা, দাম্মাম, কাঠমান্ডু, কলম্বো, হংকং, মালয়েশিয়ার জোহর বাহরু এবং পেনাং-এ নিয়মিত ফ্লাইট পরিচালনা। এর মাধ্যমে বাংলাদেশকে বৈশ্বিক বাণিজ্য, পর্যটন ও যোগাযোগ ব্যবস্থার সঙ্গে আরও কার্যকরভাবে সংযুক্ত করার লক্ষ্য বাস্তবায়িত হবে।
সংস্থাটির লক্ষ্য সম্পর্কে দৃঢ়তা প্রকাশ করে এমডি বলেন, আমাদের করপোরেট দর্শন অত্যন্ত স্পষ্ট— Safety First, Service Excellence, Operational Efficiency এবং Sustainable Growth। প্রতিটি সিদ্ধান্ত, প্রতিটি বিনিয়োগ এবং প্রতিটি সেবার কেন্দ্রবিন্দুতে রয়েছে আমাদের যাত্রী।
পড়ুন : জনপ্রশাসনকে জনগণের প্রকৃত সেবকে রূপান্তরিত করতে হবে: স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী
সা/


